• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রতিবন্ধী ভাইবোনের দুর্বিষহ জীবন

  জে রাসেল, ফরিদপুর

১০ নভেম্বর ২০২২, ১২:০৫
শারিরীক প্রতিবন্ধী

গোলাম মোস্তফা ও সেলিনা শারিরীক প্রতিবন্ধী ও মুখে জড়তা থাকলেও ছিলো বাবা-মায়ের আদরের সন্তান। আদর আর ভালোবাসায় প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আলালের ঘরে দুলালের মতোই থাকতেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস! মা-বাবা মারা যাওয়ার পর সেই সোনালী দিন থেকে তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ আর অসহ্য যন্ত্রণাময় জীবন। বাবা মারা যাওয়ার পর সৎ মা নাছিমা বেগম গভীর রাতে তাদের নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে দেন। বর্তমানে তারা ফরিদপুর সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে চাচা ফজলু মন্ডলের আশ্রয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, ফজলু মন্ডলের বড় ভাই ওয়াজেদ আলী মন্ডল ঢাকায় তথ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরী করতেন। চাকুরীকালীন তিনি স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। তাদের ঘরে জন্ম নেয় গোলাম মোস্তফা নামে এক পুত্র সন্তান ও সেলিনা নামে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু তাদের দুটি সন্তানই ছিলো জন্মগত প্রতিবন্ধী। তবুও বাবা-মায়ের ভালোবাসা কখনো কমতি ছিলো না। স্বযত্নে তুলেন বড় করে। দুজনেই বর্তমানে মধ্য বয়সী। ২০০৮ সালে অবসরে গিয়ে ফরিদপুর সদরের গঙ্গবর্দী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ২০০৯ সালে মা মনোয়ারা বেগম মারা যায়, তবুও বাবার আদর থেকে বঞ্চিত ছিল না তারা। ২০১৪ সালে বাবা ওয়াজেদ আলী মন্ডল নাছিমা বেগমকে বিয়ে করেন। ২০২১ মালে কিডনী জটিলতায় মারা যান ওয়াজিদ আলী মন্ডলও। এরপর সৎ মায়ের সাথেই থাকতেন তারা। কিন্তু অত্যাচার নির্যাতন চলতো অবিরত।

বুধবার (০৯ নভেম্বর) কোমরপুরে ফজলু মন্ডলের বাড়িতে গেলে সৎ মায়ের নির্যাতনের বর্ণনা দেন দুজনেই। এ সময় তারা জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের দিয়ে গরু রাখায়, গরুর ঘাস কাটাতো। যেদিন গরুর পেট না ভরতো, সেদিন আমাদের খাইতে দিতো না এবং মারধর করতো। গত এক বছর আগে রাতে আমাদের মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়।

তারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ভরণপোষনের জন্য বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষে আমাদের একটি বোন রয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পূর্বে আমাদের সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করে বুঝিয়ে দেননি। তিনি অনেক সম্পদ এবং গঙ্গাবর্দী এলাকায় বাবার একটি সুজ ও পোশাকের দোকান রেখে গেছিলেন। দোকানে ২ লাখ টাকার মালামাল ছিল। এজন্য সৎ মা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে গভীর রাতে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে আমাদের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, চুরি, বালা, কানের দুল রেখে দেন এবং দোকানের মালামাল বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এমনকি বাবার রেখে যাওয়া ৪টি গরুর একটিও আমাদের দেননি। বাবা জীবিত থাকাকালীন সৎ ভাই রাজিবের চাকরীর জন্য ৬ লাখ টাকা ধার নেয়, সেই টাকাও আমাদের দেননি।

তারা আরও বলেন, গভীর রাতে মেরে তাড়িয়ে দিলে চাচা ফজলু মন্ডল গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এখানে আমরা ভালো আছি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি আমার চাচাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের নিয়ে যেতে চাচ্ছে। ঐখানে গেলে আমাদের মেরে ফেলবে।

ফজলু মন্ডল বলেন, দুজনেই আদরের সন্তান ছিল। এখন তাদের আমি ছাড়া দেখার কেউ নেই। গভীর রাতে তাদের উদ্ধার করে আমার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। ওরা জীবিত থাকাকালীন পর্যন্ত আমার কাছেই থাকবে। এগুলো দেখে ওদের সৎ মা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তিনি অনেক কিছু আত্মসাৎ করেছেন, আমরা কিছুই বলিনি।

এ বিষয়ে সৎ মা নাছিমা বেগম বলেন, ওদের জোর করে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছে। ওদের এক কোটি টাকা মেরে খাওয়ার জন্য শিখিয়ে এসব নাটক সাজিয়েছে। উল্টা জানতে পারি, বিভিন্ন সময় ওদের মারধর করে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড