• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাসে নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষ

  কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)

০৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৭
নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাসে নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষ

সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে শীতের সবজি আসতে থাকলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজি, চাল, ডাল, চিনি, মুরগী, ডিম, মাছ, মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম। কিছু দিন ধরে সকল প্রকার সবজিতে বেড়েছে দাম।

এলাকার কাঁচা বাজারে কাঁচামালের মূল্য সপ্তাহের ব্যবধানে ২০/২৫টাকা বেড়েছে। বাজারে আসা শীতের সবজি সিম কেজি ৮০ টাকা, ফুলকপি ৭০ থেকে ৮০, বাধা কপি ৪০/৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ৬০/৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড আলু ৫০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কচুরমুখি, ওল ৬০/৬৫ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, পেঁপে কেজি ১৫/২০ টাকা, দেশি-বিদেশি টমেটো ৮০/১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, ঝিঙে ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, লালশাক ৪৫ টাকা, পুইশাক ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে আলুর দাম স্থিতিশীল হওয়ায় সর্বশ্রেণির মানুষের আলুই একমাত্র ভরসা।সে হিসেবে সবজির মূল্য নিত্য আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক আগেই।

দেবহাটা উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া। বাজারের এক কাঁচা মাল বিক্রেতা জানান, এবার সবজির দাম অনেক বেশী। প্রতিদিনই সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি কম নয় কিন্তু দাম কমছে না।

দক্ষিণ বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পারুলিয়া পশুর/গরুর হাটে আসা ক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, এমনিতেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তার উপর শাকসবজির মূল্য আকাশ ছোঁয়া। বর্তমান বাজারে ব্রয়লার মুরগী ২২০ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর মাছতো হাত দিলেই ৪৫০ টাকা কেজি। তিনি বলেন, তিনি দৈনিক মজুরীতে কাজ করে ৩০০ টাকা করে পান। তাও আবার প্রতিদিন কাজ হয় না। মাসে হয়তো ১৫/২০ দিন কাজ হয়।

এ দিকে উপজেলার কয়েকটি খুচরা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিকট থেকে অভিযোগ উঠেছে- উপজেলাতে সখিপুর বাজারসহ কয়েকটি চালের আড়ত আছে। তারা আবার সিন্ডিকেট করে ইচ্ছে মতো চাউলের দাম বা রেট নামিয়ে ইচ্ছামতো কারসাজি করে নিজেরা টাকা হাতিয়ে নেন। মোটা চাউলের কেজি ৪০/৫৫ টাকা।

সখিপুর বাজার এলাকার ৭০ বছর বয়সী এক ভ্যান চালক বলেন, প্রতিদিন চাল লাগে ৩/৪ কেজি। এই চাল কেনার পর আর কিইবা টাকা থাকে তাই আলু ভর্তা, কলা ভর্তা খেয়ে কোনো রকম দিন পার করছি। কি দিয়ে চাল কিনব আর কি দিয়ে অন্যান্য জিনিসপত্র কিনবো তা নিয়ে মহা চিন্তায়। তার উপর আবার বাড়িতে ঔষধ কিনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন প্রতিক্ষণ চিন্তায় আছি কিভাবে বেঁচে থাকবো। বিষয়টি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড