• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাবনায় নারী শ্রমিককে গণধর্ষণের মামলায় মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

  রাকিব হাসনাত, পাবনা

০৬ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৩৫
পাবনায় নারী শ্রমিককে গণধর্ষণের মামলায় মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
গণধর্ষণ (ছবি : প্রতীকী)

পাবনা সদর উপজেলা বলরামপুরে কারখানায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক নারী শ্রমিককে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও এ ঘটনার মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

রবিবার (৬ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার বলরামপুরের ইন্ট্রা ফুড এন্ড বেভারেজ কোম্পানির পেছনে ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইন্ট্রা ফুড এন্ড বেভারেজের ফ্লোর সুপারভাইজ হিসেবে কাজ করেন শ্যামলী খাতুন (ছদ্মনাম)। প্রতিদিন কাজ শেষে কারখানার আরেক কর্মী সাব্বির সঙ্গে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু শুক্রবার সাব্বিরকে আগেভাগেই ছুটি দেন কারখানার আরেক সুপারভাইজার শাহ আলম। সাব্বির বিকালে বাড়ি ফেরায় এদিন রাত ৯টার দিকে একাই বাড়ি ফিরছিলেন শ্যামলী।

এ সময় শাহ আলম তাকে বাড়ির পথে এগিয়ে দেয়ার কথা বলে তার সঙ্গে রওনা হয়। কিছু দূর গিয়ে নির্জন স্থানে প্রথমে শাহ আলম তাকে জড়িয়ে ধরে এবং অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টা করে। এসময় শ্যামলী তাকে ধাক্কা দিলে শাহ আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়, একটু দূরে গিয়ে কারোর সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। এর মাত্র ১-২ মিনিটের মধ্যেই সেখানে আরও ৭-৮ জন যুবক এসে তাদের ঘিরে ধরে।

যুবকরা প্রথম শ্যামলীর গলা ধরে আরেকটু জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এসময় শ্যামলী চিৎকার দিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে খবর দিয়ে সেখানে হাজির করা হয় সাব্বিরকেও। সাব্বির ও শাহ আলমকে আটকে রেখে শ্যামলীর গলায় ছুরি ধরে তাকে কয়েকজন নিয়ে যায় ইন্ট্রার ফুড এন্ড বেভারেজের পেছনে। সেখানে ২-৩ জন মিলে তাকে ধর্ষণ করে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যেও আমরা দুইজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের নাম-ঠিকানা কিছু পেয়েছি। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। খুব শিগগিরই তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ অন্যান্যদের নাম প্রকাশ না করলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্তার মেম্বারের ছেলে বাদশা, দলু খাঁর ছেলে আতিয়ার, রশিদ মুন্সির ছেলে রাজিব, আমজাদ খাঁর ছেলে মনির, শুকুর ধুরার ছেলে আশরাফ, বশির শেখের শেখ সাদী ও কাসেম শেখের ছেলে সাঈদ শেখ। তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঘটনার পর থেকেই তারা লাপাত্তা।

স্থানীয় মেম্বার রবিউল ইসলাম রবি জানান, ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা ইতোমধ্যেই তাদের চিহ্নিত করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আর যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য এই ঘটনার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড