• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শীতের আমেজে জমে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ শীতবস্ত্রের দোকান

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও

০৬ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৪৮
শীতের আমেজে জমে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ শীতবস্ত্রের দোকান

দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতি বছররেই সবার আগে শীত শুরু হয়। এবারও ঠাকুরগাঁওয়ে জেলায় সবার আগে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। ফলে শীতের শুরুতে শীতবস্ত্রের চাহিদা দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের কাছে। তাই ক্রেতারা ছুটছেন শীতবস্ত্রের দোকানে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা গুলোর বিভিন্ন বাজার ঘাটে গড়ে উঠছে অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ শীতবস্ত্রের দোকান। আর শীতে একটু নিজে ও পরিবারের সদস্যদের উষ্ণ রাখার জন্য এসব দোকানে এখন থেকে ভীর করছেন ক্রেতারা।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন জায়গায় জমে উঠছে ভ্রাম্যমাণ ও ফুটপাতে অস্থায়ী শীতবস্ত্রের দোকান। তবে গত বছরের তুলনায় এবার শীতের শুরুতেই এসব শীতবস্ত্রের দোকানে ক্রেতাদের ভীর লক্ষ করা গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব দোকানে গরম কাপড় কিনতে ভীর করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গত শুক্রবার (৪ নভেম্বর) ও শনিবার (৫ নভেম্বর) বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেখা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠ সংলগ্ন গড়ে ওঠা অস্থায়ী শীতবস্ত্রের বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন হাট-বাজার, ফুটপাতে ও ভ্যান গাড়িতে করে বাহারি রঙের শীতবস্ত্র ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে।

এ দোকান গুলোতে ছোট-বড়দের বিভিন্ন ধরণের শীতবস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। আর মার্কেটের তুলনায় এসব দোকানে সুলভ মূল্যে কাপড় পাওয়ায় সব শ্রেণীর মানুষ তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য কাপড় কিনছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার এসব কাপড়ের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ও মার্কেটের তুলনায় এসব দোকানে কম দামে কাপড় পাওয়াই তারা এ দোকান গুলোতে কাপড় কিনতে আসছেন।

শহরের মুন্সিপাড়া থেকে পরিবার নিয়ে শীতের কাপড় কিনতে আসা সেলিম বলেন, ইতি মধ্যে আমাদের জেলায় শীত শুরু হয়েছে। বিকাল থেকেই হালকা শিত অনুভূত হচ্ছে। তাই বউ ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড়) মাঠ সংলগ্ন অস্থায়ী শীতবস্ত্রের দোকানে এসেছি কাপড় কিনতে। এসে কিছু কাপড় কিনেছি ও আরও দেখছি ভালো লাগলে আরও নিব।

শহরের বড় বড় কাপড়ের মার্কেট ও দোকান থাকা সত্যেও এখান থেকে কাপড় কিনছেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে বড় মার্কেট ও দোকানে কাপড়ের দাম অনেক বেশি। যে কাপড় এখানে নিয়েছি ২৫০ টাকায় সেই কাপড় মার্কেটে নিতে গেলে লাগতো প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা। তাই মার্কেটের থেকে কম দামে কাপড় পাওয়াই এখান থেকে কাপড় কেনা।

হাবীবা জান্নাত মিসু তার বাড়ি সদর উপজেলার গড়েয়ায় কিন্তু পড়াশোনার সুবাদে থাকেন শহরের একটি আবাসিক হোস্টেলে। সন্ধ্যায় ভাতিজীর জন্য এসেছেন বড় মাঠ সংলগ্ন অস্থায়ী শীতের কাপড়ের দোকানে। এসময় তার এসব দোকানে এসে কাপড় কেনার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে এসে অনেক দোকান ঘুরে দেখলাম ও ভাতিজীর জন্য কাপড় কিনলাম। এখান থেকে কাপড় কিনে ও দেখে যেটা মনে হলো যে, একেবারেই নিম্ন বিত্ত থেকে শুরু করে এখানে সকল শ্রেণির মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নাগালেই ভালো ভালো কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।

শহরের হাজীর মোড় এলাকা থেকে গৃহবধূ নিপা আক্তার ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু সড়কে ধারে গড়ে উঠা শীতবস্ত্রের দোকানে এসেছেন কাপড় কিনতে। তিনি জানান, কম দামে ছেলে মেয়েদের জন্য কাপড় কেনার জন্যই এখানে এসে কাপড় নিলাম। তবে গতবছরের তুলনায় এবার একটু কাপড়ের দামটা একটু বেশি।

কাপড় বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের বেল প্রতি ১ থেকে ২ হাজার টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তার পরেও বর্তমানের মতো কেনাবেচা যদি শীত বাড়ার সময়েও হয় বা থাকে তাহলে পুরো মৌসুমে ভালো বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠ সংলগ্ন গড়ে উঠা অস্থায়ী শীতবস্ত্রের দোকানদার আব্দুল আজিজ বলেন, গতবারের তুলনায় এখন থেকে বেশ শীতের কাপড় বিক্রয় হচ্ছে। তবে গত বছর যে কাপড়ের লট বা বেল কিনেছিলাম ৮-৯ হাজার টাকা এবার তা কিনতে হচ্ছে ১০-১১ হাজার টাকায়। তাই এবার একটু দাম বেশি। এখানে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০-৬০০ টাকা দামে কাপড় বিক্রয় করছি। গতবার তো কাপড়ই পাওয়া যাচ্ছিল না। এবার শীতের সব ধরণের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।

মুন্না নামে আরেক যুবক দোকানদার বলেন, এবার এখন যে হাড়ে কাপড় বিক্রয় হচ্ছে এমন বিক্রয় যদি শীত বাড়ার সময়েও থাকে তাহলে পুরো শীতের মৌসুমে ভালোই কাপড় বিক্রয় হবে বলে আশা করছি।

শহরের চৌরাস্তায় ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়িতে করে শীতবস্ত্র বিক্রয় করছিলেন জাহিদ হাসান নামে এক যুবক। তিনি বলেন, এবার কয়েক দিন থেকেই ভালোই কাপড় বিক্রয় করছি। দিনে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও অন্যান্য ক্রেতা সাধারণ জানান, এধরণে অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ শীতবস্ত্রের দোকান গড়ে উঠায় বিশেষ করে সমাজের গবীর মানুষদের জন্য সুবিধা হয়েছে। কারণ যাদের ২-৩ হাজার টাকা দিয়ে শীতের কাপড় কেনার ক্রয় ক্ষমতা নেই তারা ২৫০-৩০০ টাকা দিয়ে এসব দোকান থেকে কাপড় নিতে পারছেন ও শীত নিবারণ করতে পারছেন। তাছাড়াও যারা এসব দোকান দিয়েছেন তাদের এই দোকানের আয় দিয়ে সংসার চলছে ও তাদের একটা কর্মের ব্যবস্থা হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড