• রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বয়স্ক ভাতার নামে হরিলুট চালাচ্ছে ইউপি সদস্যের সিন্ডিকেট

  মিলন মাহমুদ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

০৫ নভেম্বর ২০২২, ১৪:০১
বয়স্ক ভাতার নামে হরিলুট চালাচ্ছে ইউপি সদস্যের সিন্ডিকেট

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বয়স্ক ভাতার টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যসহ একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বয়স্ক ভাতার নতুন কার্ডধারীদের মোবাইলের সিম থাকলেও একটি সিন্ডিকেট নতুন মোবাইল সিম নিতে নগদ একাউন্ট করতে বাধ্য করে। এমনকি নতুন সিমে একাউন্ট করে গোপন পিন গ্রাহককে না দিয়ে সেই সিম একটি সিন্ডিকেট আটকে রাখে। পরে বয়স্ক ভাতার প্রথম ধাপের ছয় হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গ্রাহকদের সিম পৌঁছে দেয় চক্রটি।

অনেকের সিম পৌঁছে দিলেও গোপন পিন নম্বর দেয় পরে। এমন ন্যক্কার জনক ঘটনা ঘটেছে উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২১/২২ অর্থ বছরে সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নে ২০০ জন ভাতাভোগী বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়েছেন। এ অর্থ বছরে প্রতিজন কার্ডধারীকে মোবাইল ব্যাংকিং নগদের মাধ্যমে ভাতার টাকা পরিশোধের কথা। ভাতার কার্ডধারীরা প্রথম ধাপে ৬ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। একটি চক্রের খপ্পরে অধিকাংশ গ্রাহকরাই প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের বয়স্ক ভাতার টাকা পাননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বয়স্ক ভাতার কার্ডধারীকে নতুন করে মোবাইল সিমসহ নগদে একাউন্ট করায় একটি চক্র। চক্রটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নগদ একাউন্ট খোলার পর গ্রাহকদের (ভাতাপ্রাপ্ত) কাছে মোবাইল সীম না দিয়ে তাদের কাছে রেখে দেয়। ওই মোবাইল নম্বরে বয়স্ক ভাতার প্রথম ধাপের ছয় হাজার টাকা আসার পর চক্রটি তা উত্তোলন করে। পরে ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস পর গ্রাহকদের কাছে মোবাইল সীমটি পৌঁছে দেয়।

এছাড়া অনেক কার্ডধারীকে নগদের গোপন পিন নম্বর দেয় তারও অনেক পরে। এতে অনেকের একাউন্টে দ্বিতীয় ধাপের এক হাজার ৫০০ আসলেও তারা তা উত্তোলন করতে পারছে না আবার আসলেও সিন্ডিকেট তা উত্তোলন করে নিয়েছে বলে জানা যায়।

এই প্রতারণা চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কারিগরি প্রশিক্ষক খোরশেদ আনসার খান বাচ্চু, ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা(বিন্যাডাঙ্গি) এলাকার রিপন শিকদার, আক্তার হোসেন ও জামির্ত্তা ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহনাজ পারভীনসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী জামির্ত্তা ইউনিয়নের সুদক্ষিরা এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমার মোবাইলে নগদ অ্যাকাউন্ট আছে। তারপরও বয়স্ক ভাতার জন্য নতুন করে মোবাইল সিমসহ নগদ একাউন্ট করায়। সিমের ফিংগার ও ২০০ টাকা পারভীন মেম্বারকে দেয়ার প্রায় তিন মাস পর আমাকে মোবাইল সিম দেয়। এখন পর্যন্ত আমি এক টাকাও পাইনি। এমনকি নতুন নগদ একাউন্টের গোপন পিন নম্বরও দিয়েছে সিম দেয়ার এক মাস পর।

ডাউটিয়া এলাকার আকলিমা বলেন, আমার মাকে (ফুলজান) বয়স্ক ভাতার কার্ডে নাম দেওয়া হয়। যেদিন নাম দেই সেই দিন নতুন সিমের জন্য ফিঙ্গার নেওয়া হয়। সাথে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ২০০ টাকাও নেয়। তিন মাস পর আমাদের মোবাইল সিম দেওয়া হয়। স্থানীয় দফাদারের কাছে পিন ছিল। কিছুদিন পরে পিন দিলে এক হাজার ৫০০ টাকা একাউন্টে দেখি। দুইদিন পর তুলতে গেলে দেখি কে যেন তুলে নিয়েছে।

এমন অভিযোগ জামির্ত্তা ইউনিয়নের কহিলাতুলি এলাকার হাবেজা খাতুন, মমতাজ ও সুদক্ষিরা এলাকার মোঃ বাচ্চু মিয়ার মতো নতুন ২০০ ভাতাভোগী প্রায় সকলের।

জামির্ত্তা ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহনাজ পারভীন বলেন, মোবাইলের নতুন নগদ একাউন্ট করা ও ভাতার টাকা উত্তোলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি শুধু নামের তালিকা তৈরি করেছি। মোবাইল একাউন্টের জন্য ফিঙ্গার ও সিম বিতরণ করেছে রিপন শিকদার, আক্তার হোসেন ও খোরশেদ আনসার খান বাচ্চু।

অভিযুক্ত আক্তার হোসেন বলেন, রিপন শিকদারকে আমি নগদ মোবাইল ব্যাংকিং করার জন্য সহযোগিতা করেছি। গ্রাহকের টাকা কে নিয়েছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনি রিপন সিকদারের সাথে কথা বলেন।

রিপন শিকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরেক অভিযুক্ত সমাজসেবা অফিসের কারিগরি প্রশিক্ষক খোরশেদ আনসার খান বাচ্চু বলেন, এ বিষয়ে আমি এখন কোনো কথা বলতে পারব না। আপনি এক সপ্তাহ পর যোগাযোগ করেন। বয়স্ক ভাতার ওই কাজ নিয়ে আমি খুব ব্যস্ত আছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ বলেন, বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে আমি শুনেছি। সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড