• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গিনেস রেকর্ডে নাম লিখালেন বান্দরবানের পাহাড়ি যুবক 

  মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার (বান্দরবান)

০৫ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৪৮
গিনেস রেকর্ডে নাম লিখালেন বান্দরবানের পাহাড়ি যুবক 

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন বান্দরবান জেলার কৃতি সন্তান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রেন চ্যুং ম্রো। তিনি পা দিয়ে এক মিনিটে সর্বোচ্চ ২০৮ বার ফুটবল ট্যাপ (Toe ap) করে এ রেকর্ড অর্জন করেন। এর আগে এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি বার পা দিয়ে ফুটবল ট্যাপ করার রেকর্ডটি ছিল ঢাকার মুস্তাকিমুল ইসলাম নামে এক যুবকের। তিনি ১ মিনিটে ২০৭ বার ফুটবল ট্যাপ করেছিলেন।

এ বছরেরই এপ্রিল মাসে এই রেকর্ডটি করেন তিনি। বর্তমানে ৩০ সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ১০৭ বার ফুটবল ট্যাপ করার রেকর্ডটিও তার দখলে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে পাঠানো স্বীকৃতিমূলক ই-মেইল গত বুধবার হাতে পেয়েছেন বলে ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন প্রেন চ্যুং ম্রো।

জানা যায়, প্রেন চ্যুং ম্রো বান্দরবান সদরের ৪ নম্বর সুয়ালক ইউনিয়নের লামার পাড়ার বাসিন্দা মৃত পিয়াচ্যং ম্রো এর ছেলে এবং বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

চবি শিক্ষার্থী জানান, যখন এই রেকর্ডটি করার চিন্তা করেন তখন এটি কুমিল্লার কনক কর্মকারের দখলে ছিল। কনক এক মিনিটে ১৯৭ বার ফুটবল ট্যাপ করেছিলেন। কনক কর্মকারের এই রেকর্ডটি দেখার পর থেকে তিনি তা ভাঙার মনস্থির করেন এবং অনুশীলনে নেমে পড়েন। অনুশীলনের দুই দিনেই তিনি কনক কর্মকারের সেই রেকর্ড ভাঙার সক্ষমতা অর্জন করেন।

তিনি আরও জানান, এরপর এ বছরের ৩ মে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ‘মোস্ট ফুটবল (সকার) টু ট্যাপস ইন ওয়ান মিনিটস’ ক্যাটাগরিতে কুমিল্লার কনক কর্মকারের রেকর্ড ভঙ্গ করার আবেদন জানিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। আবেদনের প্রায় এক মাস পর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়। তারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নির্দেশনা জানায়।

প্রেন চ্যুং ম্রো জানিয়েছেন, সেই নির্দেশনা মেনে গত ২৪ এপ্রিল তিনি ১ মিনিটে পা দিয়ে সর্বোচ্চ ২০৮ ফুটবল ট্যাপ করার ভিডিয়ো করে ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংযুক্ত করে গিনেস কর্তৃপক্ষকে পাঠান। এর মধ্যে আবার ঢাকার মুস্তাকিমুল ইসলাম কনক কর্মকারের রেকর্ড ১৯৭ বার ভেঙে ১ মিনিটে ২০৭ বার ফুটবল ট্যাপ করে রেকর্ড করেন।

তার দাবি, এরপর দীর্ঘ ৬ মাসেরও বেশি সময় পর যাচাই বাছাই করে গত বুধবার তারা প্রেন চ্যোং ম্রোর রেকর্ডটির ১ মিনিটে ২০৮ বার স্বীকৃতি দেন এবং গিনেসের ওয়েবসাইটে রেকর্ডটি অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে স্বীকৃতিপত্র হাতে পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেন চ্যুং ম্রো।

এ ব্যাপারে প্রেন চ্যুং ম্রো বলেন, দীর্ঘ ৬ মাস অপেক্ষার পর এই রেকর্ড হোল্ডার হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমি সবসময় এমন কিছু করতে চেয়েছি যেটা আমার এবং জাতির জন্য নতুন কিছু হবে। আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এ সম্ভবত আমাদের পাহাড়িদের থেকে এখন পর্যন্ত কেউ নেই। তাই এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু নিজের চেষ্টায় করেছি, শেষমেশ সেটার ফল ও পেয়েছি। আমি ভেবেছিলাম এটা হবে না তাই আরও ২-৩টা রেকর্ড প্র্যাকটিস অফ করে ফেলছিলাম। তবে রেকর্ডটা হয়ে গেল। এই রেকর্ডটা আমার অনুপ্রেরণা হবে পরবর্তী আরেকটা নতুন রেকর্ড ভাঙার।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড