• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অসুস্থ ও বৃদ্ধ বাবা মায়ের আর্তনাদ কি কেউ শুনবে না?

  জে রাসেল, ফরিদপুর

০৩ নভেম্বর ২০২২, ১৮:৪০
সম্পত্তি বন্টণ

নানা রোগ-শোক আর স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী সাতাশি বছরের আঃ রহিম শেখ। তার পাশে থেকে আর্তনাদ করে যাচ্ছেন সত্তরোর্ধ্ব স্ত্রী জহুরা বেগম। এই দম্পত্তির ঔরসে জন্ম নিয়েছেন তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টণ করে দেয়ার পর তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্বিসহ অন্ধকার। সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টণ করে দেয়ার পর কথা ছিলো বাবা-মায়ের ভোরণপোষণের জন্য প্রত্যেকে প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে দিবে। কিন্তু ছোট ছেলে বাদে বাকি সন্তানের কাছে লাঞ্ছণার শিকার হয়েছেন এই বৃদ্ধ পিতা মাতা। শেষ জীবনে একটু শান্তির জন্য সন্তানদের ভোরণপোষণ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

বর্তমানে এই বৃদ্ধ দম্পত্তি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটস্থ খোদাবক্স রোডের চারঘাটা এলাকায় ছোট ছেলে দর্জি মিজান শেখের সাথে বসবাস করছেন। মিজান শেখও সামান্য দর্জির কাজ করে তার সংসার ও অসুস্থ বাবা মায়ের খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছে বলে জানান। তিনিও বাবা-মায়ের ভোরণপোষণের জন্য অন্যান্য ভাই-বোনদের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছেন।

২ নভেম্বর বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই দম্পত্তির ৬ সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে বড়ছেলে আহমেদ শেখ (৫৫) বিয়ে করে অন্যাত্র বসবাস করছেন। মেজো ছেলে রমজান শেখ (৪৫) একজন ইলেক্ট্রনিক্স মিস্ত্রি। বৃদ্ধ মা-বাবার টিন শেডের ঘরের পাশেই একতলা বিশিষ্ট পাকা ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখেই বসবাস করছেন। ছোট ছেলে মিজান শেখ দর্জি কাজ করে সংসার ও বাবা-মাকে নিয়ে আছেন। তিন মেয়ে- বেদেনা বেগম, আকলিমা বেগম ও তাছলিমা বেগম, প্রত্যেকেই স্বামীর সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

কথা হয় বৃদ্ধ অসুস্থ আঃ রহিম শেখের সাথে। এ সময় তিনি ঢুকরে ঢুকরে বার বার কেঁদে উঠেন। তিনি বলেন, জমিজমা লিখে নিয়ে গেছে সন্তানরা। এহন (এখন) আমারে কেউ দেহে (দেখে) না। আর কিছু বলার নেই।

এ সময় বৃদ্ধ জহুরা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, সন্তানরা বলে তোমাগো দেখতে পারবো না, তোমরা কি করতে পারবা। জমি আমরা লিখে নিয়ে গেছি, এখন তোমাগো দেখলেও পারি না দেখলেও পারি। এরমধ্যে ডায়রিয়া হয়েছিলো। মনে করছে মইর‌্যা যাবানে। বাড়ি নিয়ে আসার পর এ পর্যন্ত দেখে নাই। কিছু কিনেও দেয় নাই। এই একটা ছেলে ঔষধ দিয়ে, সংসার দিয়ে কেমায় (কিভাবে) চলবে? আমার আড়াই শতাংশ জমি বিক্রি করছিলাম, খালি (শুধু) এই টাকার গল্প দেয় তারা। আমার স্বামী স্ট্রোক করে অনেক টাকা গেছে। প্রতিদিন একহাজার টাকার ঔষধ লাগে, বলেন সে টাকা থাকে কিভাবে। সে টাকা খুনেসে (রাগে) তারা আমাদের দেখে না। আমি র‌্যাবের কাছে যাবার চাইছিলাম। স্বামী বলে, র‌্যাবের কাছে গেলে ওদের মারাধরা করবে। পরে আমি যাই নাই। জমি লিখে নেয়ার পর কয়েকদিন দেখেছিলো, পরে আমাদের বের করে দেয়। বড়ছেলে বলে, মইর‌্যা গেলে মাটি দিয়ে থুয়ে (রেখে) আসবো। তারপর এ পর্যন্ত আর দেখে নাই।

ছোট ছেলে মিজান এ প্রতিবেককে বলেন, প্রথম থেকেই আমি মা-বাবাকে দেখা শুনা করে আসছি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আমাদের সম্পত্তি সব ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায়। তারপর একটা শালিস হয়। শালিসে সিদ্ধান্ত হয়, সব ভাই-বোন মা-বাবাকে ১৫’শত টাকা করে দিবে। তাতো দেয়ই নাই, উল্টা মানসিকভাবে ও শারিরীকভাবে আমাদের নির্যাতন করছে। এক বছর ধরে বাবা-মা অসুস্থ। আজ পর্যন্ত কেউ এসে দেখে নাই। ভোরণপোষণ আমি একা বহন করতে পারতেছি না, আমি কিভাবে চলবো। আমার বাবা-মাকে নিয়ে কি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াবো।

এ বিষয়ে জানতে মেজো ছেলে রমজানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, আপনি ফোন দিছেন কেন? আমার পারিবারিক ঝামেলায় আপনি কে? ফোন রাখেন। এই বলে ফোন কেটে দেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড