• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নাটোরে শতবর্ষী অন্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে দিলো সন্তানেরা

  আনোয়ার পারভেজ, নাটোর

০৩ নভেম্বর ২০২২, ১৮:৩৭
অন্ধ তারা বানু

নাটোরের শতবর্ষী ৫ সন্তানের মা অন্ধ তারা বানুকে বুধবার রাতের আধারে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে তার সন্তানেরা।

নাটোর সদরের ছাতনী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করার কথা বলে রাতেই বড় ছেলে মানিকের বাড়িতে বৃদ্ধাকে রেখে আসলে তার দুই নাতি জাফর ও রেজাউল এবং তাদের দুই স্ত্রী অন্ধ এই বৃদ্ধাকে রাতে থাকতে দেন বাড়ির গোয়াল ঘরে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এলাকার শতাধিক সাধারণ নারী পুরুষ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জ্বল হোসেন বৃদ্ধার তিন ছেলে মানিক (৭৩), হানিফ (৭০) ও আজাদ (৫৬) কে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, তিন ছেলের আধাপাকা বাড়ি ও প্রয়োজনীয় জমিজমা থাকলেও তারা কেউ মায়ের দায়িত্ব নেননি। অন্ধ তারা বানু পাশের গ্রামের তার বড় মেয়ে বায়লা বেগম ও জামাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। তার বয়স্ক ভাতার টাকাও তিনি এ কারণে মেয়ে আর জামাইকে দিতেন। এতে বাঁধ সাধে ছোট দুই ছেলে আর বড় ছেলের ঘরের দুই নাতি। সবাই সেই টাকায় সম ভাগ চান। টাকা ভাগ হওয়ার জন্য এবার তিন ছেলের ঘরেই একমাস করে বৃদ্ধাকে রাখার সিন্ধান্ত হয়। অক্টোবর মাসে বৃদ্ধা ছিলেন ছোট ছেলে আজাদের সংসারে। নভেম্বর মাসের দুই তারিখ পার হয়ে গেলেও হিসেব মতে বড় ছেলে মাকে নেয়নি, তাই ছোট ছেলে অন্ধ মাকে ফেলে যায় গ্রামের রাস্তায়।

বড় ছেলের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে এলাকার দুই জনপ্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম ও নূর ইসলাম বাবু এবং সাধারণ মানুষ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে দিয়ে যায়। কিন্তু মানুষ চলে গেলে বড় ছেলের দুই সন্তান জাফর ও রেজাউল এবং তাদের স্ত্রীরা বৃদ্ধাকে বাড়ির গোয়াল ঘরে আশ্রয় দেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জেনে এলাকার শত শত মানুষ বৃদ্ধাকে একনজর দেখে এই পরিবারের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন। বৃদ্ধার অবস্থা দেখে সংবাদকর্মীসহ স্থানীয়দের চোখে অশ্রু দেখা গেলেও মন গলেনি নিজের সন্তানদের।

বড় ছেলে মানিক বলেছেন, সংসারে তার নিজের কোন দাম নেই। স্ত্রী মারা গেছে অনেক আগে। এখন দুই ছেলের দয়ায় তাকে বেঁচে থাকতে হয়। ছেলেরা তার কোন কথা শোনেন না। তাই ইচ্ছে থাকলেও মায়ের জন্য তিনি কিছুই করতে পারেনি।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বিষয়টি জানতে পেরে সদরের সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ জোবায়ের হাবিবকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃদ্ধার কাছে পাঠিয়ে তাকে তার মেয়ের বাড়িতে রেখে থাকা ও খাবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড