• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে চার শিক্ষা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

  মোস্তাকিম আল রাব্বি সাকিব, মনিরামপুর (যশোর)

০৩ নভেম্বর ২০২২, ১৩:১৩
ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে চার শিক্ষা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত
মনিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস (ফাইল ছবি)

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ তিন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের বহুল আলোচিত দুর্নীতিগ্রস্ত চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনিরামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেহেলী ফেরদৌসসহ লাঞ্ছিত তিন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাগন বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উক্ত ঘটনায় শুনানির সময় গত মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) দুপুরে ইউএনওর দপ্তরে তার সামনে ফের শিক্ষা কর্মকর্তার উপর চেয়ারম্যান চড়াও হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। যদিও চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের দাবি, সেহেলী ফেরদৌস ভরা মজলিসে তাকে অপমানজনক কথা বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হন।

ভুক্তভোগী শিক্ষা কর্মকর্তা সেহেলী ফেরদৌস বলেন, দুই মাস ধরে মশ্মিমনগরের তালসারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে সমস্যা চলছিল। কমিটি গঠনের বিষয়ে একটি পক্ষ গত রবিবার (৩০ অক্টোবর) ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেছেন। সে বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউএনও আমাকে বিদ্যালয়টিতে যেতে বলেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের ব্যবহার খারাপ হওয়ায় প্রথমে আমি সেখানে যেতে রাজি হইনি। পরে ইউএনওর কথা রাখতে গতকাল সোমবার সকালে তিন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) জহির উদ্দিন, নাজসুল হাসান ও রফিকুল ইসলামকে নিয়ে সেখানে যাই।

শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরেশ চন্দ্র রায়ের দপ্তরে স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনায় বসি। নীতিমালায় রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটতম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষকের দেওয়া একজন প্রতিনিধি নিতে হবে। এই প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে মূলত দু-মাস ধরে কমিটি গঠনে সমস্যা হয়ে আসছে। আমরা নীতিমালা অনুযায়ী পারখাজুর কাঁঠালতলা বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি নিতে চাইলে সভায় উপস্থিত থাকা মশ্মিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন তাতে বাধা দেন।

চেয়ারম্যানের দাবি- পারখাজুরা কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তার (চেয়ারম্যান) ভাইপো শিক্ষক নূরুজ্জামানকে নিতে হবে। তিনি তাকে কমিটির সভাপতি বানাবেন। ওই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক দূরে।

সেহেলী ফেরদৌস আরও বলেন, চেয়ারম্যানের কথায় রাজি না হওয়ায় তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। যা আমি মুখে আনতে পারব না। আমার তিন সহকারীকে লাঞ্ছিত করেছেন তিনি। এক পর্যায়ে কমিটি গঠনের স্বাক্ষরিত রেজুলেশন ছিঁড়ে ফেলে বাতিল লিখে দেন চেয়ারম্যান। আমি ঘটনাস্থল থেকে ইউএনওকে মোবাইলে বিষয়টি জানালে তিনি ইউএনওকে নিয়েও আপত্তিকর কথা বলেন। শেষে সমাধান ছাড়াই সম্মান বাঁচাতে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা এসেই সোমবার (৩১ অক্টোবর) বিষয়টি লিখিত আকারে ইউএনওকে জানিয়েছি। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি তার দপ্তরে আমাদেরসহ চেয়ারম্যান ও অন্যদের ডেকেছেন। ইউএনওর সামনে আবার আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন চেয়ারম্যান।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবির হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এবং আমি যেহেতু অভিযোগ পেয়েছি মাত্র, আরও প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ পত্র তাদের কাছে চেয়েছি এবং আমি শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে বলেছি। পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড