• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

কামড় খেয়ে হাসপাতালে ১,২৩৭ জন

  তুষার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ

০৩ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৪
বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
বেওয়ারিশ কুকুর (ফাইল ছবি)

নারায়ণগঞ্জে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। শহর থেকে শহরতলীর সর্বত্রই বেওয়ারিশ কুকুরের সংঘবদ্ধ বিচরণ চলছে অবাধে। আক্রমণাত্মক এই প্রাণী দ্বারা প্রতিনিয়তই আক্রান্ত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসেই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার দুইশ ৩৭ জন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গড় হিসেবে দৈনিক ৪১ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন গত অক্টোবর জুড়ে।

অন্য দিকে গত ১ নভেম্বর সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ১৪২ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসা নিতে। এর মধ্যে মারাত্মক আক্রমণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, চিকিৎসা নেয়া রোগীদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু। যাদের বয়স ৪ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এছাড়া বৃদ্ধরাও কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসা নেই। কেবল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই (ভিক্টোরিয়া) কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা দেয় হয়। ভিক্টোরিয়ার জরুরি বিভাগের পাশেই একটি কক্ষে দেয়া হয় কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ওই কক্ষে চলে ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে গেলে সরকারি ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন রোগীরা। তবে দুপুর আড়াইটার পর কিংবা রাতে চিকিৎসা নিতে গেলে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করে তা প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে অর্থ।

এ দিকে অক্টোবর মাসের ১২৩৭ জন আক্রান্তের যেই তথ্য দেয়া হয়েছে, তারা সকাল ৮ থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এছাড়া, অন্য সময়ে যারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে ভ্যাকসিন ক্রয়ের পর প্রয়োগ করেছেন তারা ১২৩৭ জনের তালিকার বাইরে!

অর্থাৎ অক্টোবর মাসে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সামগ্রিক হিসেব নারায়ণগঞ্জে ১২৩৭ এর চেয়েও ঢের বেশি বলে ধারণা করছে হাসপাতাল সূত্র।

এ দিকে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে মজুদকৃত সরকারি ঔষধ সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিনেটর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভ্যাকসিনেটর বলেন, কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা নারায়ণগঞ্জে মাত্রা ছাড়িয়েছে। গত অক্টোবর মাসেই ১২৩৭ জন নতুন রোগী আমাদের কাছ থেকে ভ্যাকসিন ও অন্যান্য চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। এছাড়া নতুন পুরাতন (১ম, ২য় ও ৩য় ডোজ) মিলিয়ে এখনো ৪ হাজার ৭শ ৩৮ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন অক্টোবর মাসে। গতকালও ১৪২ জন রোগী এসেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। তবে অক্টোবরে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় ঔষধের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। তখন বাইরে থেকে ক্রয় করে ইনজেকশন দিতে হয়েছে। রোগীদের ‘র‍্যাবিক্স-ভিসি’ নামক ইনজেকশন দেয়া হয়। বাইরে এই ইনজেকশনের মূল্য ৫৫০ টাকা। আর কামড়ের জখম যদি মারাত্মক হয় তাহলে ‘র‍্যাবিক্স-আইজি’ নামক ২টি ইনজেকশন দেয়া হয়। এটির একটির মূল্য ১ হাজার টাকা করে। ‘র‍্যাবিক্স-আইজি’ নামক ইনজেকশনটি মহাখালী হাসপাতাল থেকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে স্বল্পসংখ্যক সরবরাহ করা হয়। অক্টোবর মাসে মাত্র ২৫০টি র‍্যাবিক্স-আইজি ইনজেকশন এসেছিল। অথচ আমাদের মারাত্মক জখমি রোগীর সংখ্যা অনেক। গতকালও ৩২ জন মারাত্মক জখমি রোগী এসেছিলেন।

এ দিকে গতকাল হাসপাতালে ঘুরে কথা হয় সম্রাট নামে এক ব্যক্তির সাথে। তার বড় ভাই মানসিক রোগী বাবুকে কুকুরে কামড়েছে। সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য আসলেও জলাতঙ্ক বিভাগ বন্ধ থাকায় সরকারী ঔষধ সুবিধা পাননি তিনি। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মতে বাইরের ফার্মেসি থেকে দুই হাজার টাকা খরচে র‍্যাবিক্স-আইজি নামক দুটি ইনজেকশন কিনতে হয়েছে তাকে।

সম্রাট বলেন, প্রেসক্রিপশনে ২টি ‘র‍্যাবিক্স-আইজি’ ইনজেকশন লিখা হয়েছে। বাইরে থেকে কিনতে গিয়ে দেখি ২টি ইনজেকশন ২ হাজার টাকা রেখেছে। মধ্যবিত্ত বা গরীবদের জন্য এই দাম সহনীয় নয়। অনেক ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এটা সরকারিভাবে সরবরাহ করা উচিৎ। কারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধের আশায় সরকারি হাসপাতালে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ ফরহাদ বলেন, হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো রোগীর ইনজেকশন পর্যাপ্ত আছে। তবে মাঝে মধ্যে এটা শট পরে। আর বেশি কামড়ের শিকার যারা হয়, তাদের জন্য র‍্যাবিক্স-আইজি ইনজেকশন দিতে হয়। এই ইনজেকশনটা আমাদের হাসপাতালে কম আসে। তাই অনেক সময় বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়। তবে, দরিদ্র বা অসহায়দের জন্য আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা আছে। সমাজকল্যাণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে আমরা তাদের ব্যবস্থা করে দেই।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শেখ ফরহাদ বলেন, ভ্যাকসিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিলেই হয়। দুপুর আড়াইটার পরে যারা আক্রান্ত হবেন, তারা জরুরি বিভাগে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পরে অর্থাৎ পরদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটার মধ্যে ভ্যাকসিন নিলেই হবে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুকুর কন্ট্রোল করা অথবা ভ্যাকসিনেটেড করা উচিৎ। গত ২-৩ বছর আগে একবার ভ্যাকসিনেটেড কার্যক্রম দেখেছিলাম। এখন আর এটা হচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আছে, সিটি এলাকায় এটা তারা দেখভাল করবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড