• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

উত্তোলন করেছেন ৬২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা

নয় বছর ধরে বিদ্যালয়ের বেতন-উপজেলার সম্মানী নিচ্ছেন মাসুমা

  খলিল উদ্দিন ফরিদ, ভোলা

০১ নভেম্বর ২০২২, ১৬:০৪
নয় বছর ধরে বিদ্যালয়ের বেতন-উপজেলার সম্মানী নিচ্ছেন মাসুমা

পরপর দুই মেয়াদে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েও একই সাথে বিদ্যালয়ের বেতন ও উপজেলা পরিষদ থেকে সম্মানী ভাতা তুলছেন ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা বেগম।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি নেয়া বাধ্যতামূলক এবং বিদ্যালয় থেকে বেতন তোলার সুযোগ না থাকার বিষয়টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিগত নয় বছর ধরে বিদ্যালয়ের বেতন ও উপজেলা পরিষদের সম্মানী তুলে নিচ্ছেন মাসুমা বেগম।

মাসুমা বেগম লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিষয়ক শিক্ষক পদে চাকুরিরতবস্থায় ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম মেয়াদে ও ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ দ্বিতীয় মেয়াদে লালমোহন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন । তবে এই দুই মেয়াদের কখনই বিদ্যালয় থেকে ছুটি নেননি তিনি এবং একই সাথে বিদ্যালয়ের বেতন ও ভাইস চেয়ারম্যানের সম্মানী ভাতা উত্তোলন করেছেন তিনি।

দুই মেয়াদের এ নয় বছরে বিদ্যালয় থেকে অন্যান্য ভাতাদি ছাড়া শুধু বেতনই উত্তোলন করেছেন প্রায় ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা এবং উপজেলা পরিষদ থেকে সম্মানী ভাতা বাবদ তুলেছেন প্রায় ৩০ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা।

এ দিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মাসুমা বেগম লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেও এ বিষয়ের কোনো সনদ ও নিবন্ধন নেই তার।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে সংবাদকর্মীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা বেগম বলেন, সামনাসামনি এসে কথা বলেন।

বিদ্যালয় থেকে বেতন উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাসুমা খানম বলেন, আমি তিন-চার মাস হলো প্রধান শিক্ষক হয়েছি। দুই জায়গা থেকে বেতন ও সম্মানী উত্তোলনের তথ্য এবং তাঁর বিপিএড সনদের ব্যাপারে আমার জানা নেই।

লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, মাসুমা বেগম বিদ্যালয় থেকে বেতন ও উপজেলা পরিষদ থেকে সম্মানী তুলছেন বিষয়টি জানা আছে। তবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনের অনুমোদন দেয় ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিভাবে তাকে বেতন ও সম্মানী দেয় সেটা আমার জানা নেই।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল নোমান বলেন, মাসুমা বেগম বিদ্যালয় থেকে বেতন উত্তোলন করছেন কি-না সেটা আমার জানা নেই, তবে উপজেলা পরিষদ থেকে তো সম্মানী সে পাবেই। দুই জায়গা থেকে বেতন ও সম্মানী গ্রহণের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তার কাছে ব্যাখ্যা চাইবো।

উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুসারে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনত কোনো বাধা নেই। তবে এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫-০১-১৯৮৬ তারিখে জারিকৃত নির্দেশনা মানতে হবে।

সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অথবা অন্য কোনো শিক্ষক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাকরি হইতে পদত্যাগ না করিয়া সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের নিকট থেকে বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর সাপেক্ষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল খাকতে পারবেন। এই নির্দেশনাটি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বেলায়ও প্রযোজ্য হইবে।

এ দিকে মাসুমা বেগমের উভয় স্থান থেকে বেতন ও সম্মানী উত্তোলনের বিষয়টি আইনের প্রতি অবজ্ঞা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড