• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে অর্ধশতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  মো. মনোয়ার হোসেন রুবেল, ধামরাই (ঢাকা)

৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৪৭
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে অর্ধশতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রধান শিক্ষক শূন্যতায় ভেঙে পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। উপজেলায় ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫২ জন প্রধান শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় গুলোতে কোনো জবাবদিহিতাও নেই বললেই চলে।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। এতে করে লেখাপড়ার মান নিয়ে অভিভাবকরা আছেন দুশ্চিন্তায়। শিক্ষক শূন্যতায় নেই কোনো তদারকি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক ৪২ জন থাকলেও ৫২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম। এতে নেই কোনো জবাবদিহিতা। সঠিক তদারকি না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

বিশেষ করে পৌরশহরের পাঠানটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে প্রধান শিক্ষক শূন্য প্রায় দেড় বছর যাবৎ। শূন্যতা পূরণে শিক্ষা অফিসারদের নেই তেমন তদারকি।

উপজেলায় বিভিন্ন সময় শিক্ষকরা অবসর, বদলি, মৃত এবং পদোন্নতি জনিত কারণে এসব প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। এদিকে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্কুলগুলোতে পাঠদানে কোন জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। পড়াশোনার মান অনেক কমে যাচ্ছে। সরকারি বিদ্যালয় মানে স্বাধীন। কোন প্রকার চাপ না থাকায় বাধ্য হয়ে অন্য নিতে হচ্ছে সন্তানদের।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকার কারণে শিক্ষকরা ইচ্ছামত বিদ্যালয়গুলোতে আগমন ও প্রস্থান করেন এমন অভিযোগও রয়েছে একাধিক। বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক না থাকায় লেখাপড়ার মান নিয়েও অভিভাবকরা চিন্তিত।

এক দিকে কর্মকর্তাদের তদারকি অন্য দিকে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে গ্রামাঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

অনেক শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ থাকলেও সৃজনশীলতার প্রশিক্ষণ না থাকায় যথাযথ পাঠদান শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না।

উপজেলা শিক্ষা (প্রাথমিক) কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার বলেন, অবসর, বদলি ও মৃত জনিত কারণে এসব প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা শুরু করেছে। খুব দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে আশা করছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড