• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা 

  নাসিম আজাদ, পলাশ (নরসিংদী)

৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৫:১০
স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা 
উদ্ধারকৃত মরদেহ (ফাইল ছবি)

নরসিংদীর পলাশে স্ত্রীর সাথে দ্বন্দ্বের জেরে ছোট ভাইকে মোবাইলে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে মিনহাজুল হক খান (২৪) নামে এক যুবকের আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রবিবার বিকালে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মিনহাজুল হক দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামের মৃত আরজান মিয়ার ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় এক বছর দুই মাস আগে ঘোড়াশাল সার কারখানার এলাকার জাকিয়া সুলতানা ইকরা নামে একজনকে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করে মিনহাজুল হক খান। বিয়ের পর থেকেই তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো সমস্যা না থাকলেও সম্প্রতি সময়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে তার সাথে আর সংসার করতে চায় না স্ত্রী এবং কাবিন নামার টাকা চাইতে থাকেন তার শাশুড়ি।

এরই মধ্যে গত রবিবার (২৩ অক্টোবর) তার শাশুড়ি তাকে না জানিয়ে স্ত্রীকে তাদের বাসায় নিয়ে যান। এসব কারণে মিনহাজুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর রবিবার (৩১ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে দক্ষিণ চরপাড়ার নিজ বাসায় ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সাথে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন মিনহাজুল। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই মেজবাহ জানান, স্ত্রী ও শাশুড়ি মিলে আমার ভাইকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন। তার সাথে সংসার করবে না বলে কাবিন নামার টাকা চাইতেন। এমনকি স্ত্রী আত্মহত্যা করে আমার ভাইকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথাও বলতেন। এ বিষয়ে আমরা থানায় জিডিও করেছিলাম। এ নিয়েই আমার ভাই মানসিকভাবেই ভেঙে পড়েন। গতকাল রবিবার বিকালে ৩টার দিকে আমার মোবাইলের ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস রেকর্ডিং পাঠিয়েছে।

সেখানে তিনি বলেছিলেন, ভাই আমার যদি ভুলত্রুটি হয়ে থাকে আমাকে ক্ষমা করে দিস। তোকে অনেক বকাঝকা করেছি, সবাইকে বলিস আমাকে ক্ষমা করে দিতে। মনে হয় আমি আর বাঁচবো না। পরে আমি তাকে বলি তুই এসব কি বলতেছিস, এমন কথা বলতে নেই। এসব কথা না বলে ভালোমতো চলাফেরা করো, আর দেশের বাইরে থেকে ঘুরে আয়, তাহলে ভালো লাগবে। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম খাবার খেয়েছে কি-না, সে বলেছে না। আমি বলেছিলাম তাকে খাবার খেতে। এসব বলার পর কলটি কেটে দেয়। তখন আমি বুঝতে পারি হয়তো সে কোনো অঘটন ঘটাবে। পরে আমার চাচাকে তার সাথে যোগাযোগ করতে বললে তিনি অফিসে থাকায় চাচীকে বাসায় পাঠান। বাসায় গিয়ে চাচী তার সাথে কথা বলে।

তিনি আরও বলেন, তখন চাচীকে ভাই জানায়- সারাজীবন একলা ছিলাম একলাই থাকব। আমাকে সে বুঝলো না, তার (স্ত্রীর) জন্য কত কিছু করলাম, কত কিছু ছাড়লাম। সে আমাকে বুঝলো না, আমাকে সবসময় ভুলই বুঝেছে। এসব বলেই ভাই দরজা লাগিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরে তার সাড়াশব্দ না পেয়ে ও দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘোড়াশাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এসআই) নাইবুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করি। আমরা জানতে পারি তার স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। গত রবিবার তার স্ত্রী তাকে বাসায় রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড