• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সব তৈজসপত্র 

  মো. আবুবকর মিল্টন, বাউফল (পটুয়াখালী)

৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৩:২৬
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সব তৈজসপত্র 
ঐতিহ্যবাহী তৈজসপত্র (ছবি : অধিকার)

গ্রাম শব্দটা শুনলেই যেন মনের ভেতর একটি ভালোলাগা শুরু হয়ে যায়। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই জন্মভূমি। সকালে পাখির কিচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে। শীতের সকালের মিষ্টি রোদে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়, পুরোশরীরজুড়ে। সেই গ্রাম থেকেই হারিয়ে গেছে অনেক তৈজসপত্র।

হুক্কা : কনকনে শীতের মধ্যে শরীরটা গরম করতে সকালে ও বিকালে কাজের ফাঁকে আয়েশি ভঙ্গিতে এক ছিলিম তামাকের সাথে শুগনা নারিকেলের আশে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পরমানন্দে টান দিতো হুক্কায়। সেই সময় ঘরে ঘরে হুক্কা সেবন চলতো। এখন হুক্কা আর চোখে পড়ে না।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই খাওয়া তো দূরের কথা চোখেই দেখেনি হুক্কা। হুক্কার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিড়ি, সিগারেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। বর্তমান প্রজন্মের জন্য হুক্কা একটি আশ্চর্য বিষয়। এদিকে বর্তমানে বিভিন্ন মানুষের কাছে হুক্কা থাকলেও এর উপাদানগুলো বাজারে না পাওয়ার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে হুক্কা সেবন ছেড়ে দিয়েছে।

নতুন ধান উঠানোর সাথে সাথেই নয়া অতিথি, তাদের জন্য হরেক রকমের পিঠা তৈরির একমাত্র হাতিয়ার ছিল ঢেঁকি।

ঢেঁকি : আমাদের গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের একটি সামগ্রী। গ্রামীণ নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতল পিঠা, রুটি পিঠা, তালের পিঠা রসা পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠা তৈরি করতেন। এসব তৈরি হতো ঢেঁকিতে পাড়ে চালের গুঁড়া দিয়ে।

কালের বিবর্তনে এসব পিঠা তৈরি ঢেঁকি পাড়ে চালের গুঁড়া তেমন ব্যবহার হয় না বললেই চলে। একসময় গ্রাম-গঞ্জসহ সর্বত্র ধান থেকে চাল বের করা,চালের গুঁড়া কোটা, চাল দিয়ে চিড়া তৈরি, মশলাপাতি ভাঙ্গানোসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। এখন বিদ্যুতিক মিলে চালের গুঁড়াসহ সবকিছু গুড়া করা যায় এর আগমনেই তাই হারিয়ে গেছে সেই পুরনো দিনের ঢেঁকি।

কৃষকের মুখে হাসি মনে বেজায় বাঁশি কারণ ঘরে তুলছে নতুন ধান, আর সেই ধান লওয়ার জন্য মা বোনেরা ব্যবহার করতো বাঁশের তৈরি হাজি/ডালা, কুলা ও ডোলা।

হাজি ডালা : হাজি বড় ডালা ছোট এলাকা ভেদে একেক নামে ডাকা হয় একে। সাধারণত মাটি, ঘাস ও ধান ময়লা বহন করার কাজে এটি ব্যাবহার করা হয়। এটি তৈরি করতে বাঁশ ব্যাবহার করা হয়। এটি তৈরি করতে নিপুণ হস্তশিল্পের প্রয়োজন হয়। যা এখনো ব্যবহার করে আসছে প্রবীণ কৃষকেরা।

কুলা : কুলা একটি ঐতিহাসিক ব্যাপক ব্যবহৃত তৈজসপত্র। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে প্রাচীন কাল থেকেই কুলা ব্যাবহার হয়ে আসছে। কুলা মূলত ধান থেকে চিটা ধান চাল থেকে ময়লা, বালু, মড়া চাল বেছে ঝেরে ফেলে দেওয়ার জন্য। বাঙালিদের বিয়েতে কুলা ব্যাবহার হয় উপহারের ডালা সাজানোর জন্য। কুলা তৈরিতেও মূল উপকরণ হচ্ছে বাঁশ।

সর্বশেষে সব ধান রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবহিত হতো ডোলা ও মাইট।

মাইট/মটকা : কুমাররা মাটি দিয়ে বড়ো আকারে দেখতে পাতিলের মতো বানিয়ে সেটাকে রোদে শুকিয়ে পরে আগুনে পুড়তো। সেটার ভিতরে ২০-৫০ কেজির মতো ধান চাল /ডাল রেখে ব্যবহার করতো বাড়ির গ্রামীণ নারীরা। প্লাস্টিক ড্রামের দখলে সেই পুরনো মাইট।

ডোলা : যেমন কথায় আছে ডোলা ভরা ধান পুকুর ভরা মাছ ঘোয়াল ভরা গরু। ডোলা মূলত প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন ৮০ কেজিতে এক মোন তেমনই ১০০ মোন তথবা ৫০ মন ধান বা চাউল রাখার জন্য ডুলা ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। এটি তৈরি করতে নিপুণ হস্তশিল্পের প্রয়োজন হয়। যে কেউ চাইলেই ডুলা তৈরি করতে পারবে না। ডুলা তৈরির মূল উপকরণ হচ্ছে বাঁশ।

বাঁশের আবার বিভিন্ন প্রকারভেদ আছে। শুধুমাত্র 'ডোল্লা' প্রজাতির বাঁশ দিয়ে ভালোভাবে ডুলা তৈরি করা যায়। বর্তমানে তৈল ব্যবহৃত স্টিল/প্লাস্টিক ড্রাম ব্যাবহার বেড়ে যাওয়াতে ডোলা তৈরি কমে যাচ্ছে। তাই ডুলা তৈরি করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কারিগররা।

বর্তমান প্রযুক্তির সুবিধা ও এর ব্যবহারে এগিয়ে গেছে গোটা বিশ্ব। এরই ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড