• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম

  জে রাসেল, ফরিদপুর

৩০ অক্টোবর ২০২২, ১৩:৩৮
সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম

প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনার পক্ষ থেকে সুলভ মূল্যে খাদ্য সহায়তার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে ফরিদপুরে খাদ্য গুদাম ও ডিলারদের কারসাজিতে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। এতে ঠকছে উপকার ভোগীরা, ফুলে উঠছে ডিলার মালিকেরা। কেজি প্রতি ১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাউলের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ কেজি, এর বিপরীতে ৩০ কেজির টাকাই গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

তবে, এ বিষয়ে ফরিদপুর সদরের খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও ডিলারদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। তারা একে অপরকে দুষছেন।

জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৪০ জন ডিলারের আওতায় ২০ হাজার ৭১২ জন কার্ডধারী বা ভোক্তা রয়েছে। বর্তমানে একজন ডিলার প্রবাসী এবং অন্য আরেকজন মারা যাওয়ায় ৩৮ জন ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে এ চাউল।

বছরে পাঁচ মাস এই সুবিধা পেয়ে থাকেন ভোক্তারা। এর মধ্যে বছরের ‘মার্চ, এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর’ মাসে খোলাবাজারে এ কর্মসূচির চাউল বিক্রয় করা হয়। এর আগে এ কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা দরে প্রতি কেজি চাল পাওয়া যেত। গত বাজেটে এর দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা কেজি করা হয়, যা ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) এ কর্মসূচির অক্টোবর মাসের শেষদিন ছিল। এদিন ফরিদপুর সদরের কয়েকজন ভোক্তাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গেলে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। সদরের ঈশাণগোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর বাজারের ক্ষিতিশ বিশ্বাসের ডিলারে গিয়ে দেখা যায় প্রত্যেক কার্ডধারীদের ৩০ কেজি চাউল ১৫ টাকা করে ৪৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। অথচ তাদের ২৮ কেজি করে চাউল দেয়া হচ্ছে।

কয়েকজন উপকার ভোগী দৈনিক অধিকারের এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বিষয়টি জানান। এ সময় প্যাকেট করা ৫০ কেজি ওজনের কয়েকটি বস্তা ওজন করে দেখা যায়, কোনো কোনো বস্তায় ৪৫ কেজি, ৪৬ কেজি, ৪৭ কেজি চাউল রয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ডিলার মালিক ক্ষিতিশ বিশ্বাস বলেন, প্রায় বস্তায় চাউল কম রয়েছে, এজন্য আমি কার্ডধারীদের বলেই ২৮ কেজি করে চাউল দিচ্ছি। অম্বিকাপুর খাদ্য গুদাম থেকে এভাবেই আমাদের চাউল দিয়েছে, যেখানে বস্তা প্রতি চাউল কম রয়েছে ৩ থেকে ৫ কেজি করে। এই চাউলগুলোর ঘাটতি আমি কোথায় পাবো? এতো মালের শর্টের (কম) ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে অনেক কার্ডধারীদের চাউল দিতে পারবো না। বিষয়টি আমি অম্বিকাপুর খাদ্য গুদামের সারোয়ার নাম করে একজনকে বলেছি, ফুড অফিসেও বলেছি। ৪০ জন ডিলারের মধ্যে আমার একার কথা তারা গ্রাহ্য করে না।

এদিন একই ইউনিয়নের পিঠাকুমড়া বাজারের ডিলার এস এম সুলতানের দোকানেও একই চিত্র পাওয়া যায়। তারা স্বীকারও করেন ভোক্তা প্রতি ২৮/২৯ কেজি চাউল দেয়া হচ্ছে। এখানেও ৫০কেজি ওজনের বস্তায় চাউল কম পাওয়া যায়। এ সময় এক কর্মচারী জানান, একটি বস্তায় ৪১ কেজিও পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে ডিলারে থাকা পার্টনার পরিচয়ধারী ওসমান হোসেন বলেন, দেখা যায় ১০টা বস্তার মধ্যে ৫টি বস্তায় ৩ থেকে ৫ কেজি করে চাউল কম রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করার জন্যই আমরা সুবিধাভোগীদের ২৮/২৯ কেজি করে চাউল দিচ্ছি।

বিষয়টি নিয়ে অম্বিকাপুর খাদ্য গুদামের এসএমও মুশফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরে তিনি বলেন, খাদ্য বান্ধবের যে চাল তা ডিলাররা নিজ জিম্মায় বুঝে নিয়ে যান। এখানে থেকে মাল গেটের বাইরে গিয়ে কিছু হলে সে দায়ভার আমাদের না। যার মাল সে নিজে বুঝে নিবে এটা তার দায়িত্ব।

এ সময় খাদ্য গুদামের দুই নিরাপত্তা প্রহরী লিটন ও সারোয়ার হোসেন বলেন, আমরা তাদের ওজন দিয়ে মাল বুঝিয়ে দিই। যেটা কম হয় সেটা তারা নেয় না। মাল যে কোথায় কম হইতেছে, কেন কম হইতেছে- এটা আমরা বলতে পারি না।

সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তারেক রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের অধিকার আছে- শতভাগ মাল বুঝে নেয়ার এবং স্পটেই তাদের বুঝে নিতে হবে। বস্তা ছেড়া-কাটা থাকলে সেটাও সেলাই করে দিতে বাধ্য। ডিলাররা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যদি কম দেয় এবং আমরা যদি অভিযোগ পাই তাহলে ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী বলেন, বিষয়টি আমি খাদ্য কর্মকর্তাদের বলবো এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিলারদের ডিলারশীপ বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড