• রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

উত্তরাঞ্চলে শীতের আগমন, কুয়াশায় ঢাকা চারদিক

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও

৩০ অক্টোবর ২০২২, ১৩:১০
উত্তরাঞ্চলে শীতের আগমন, কুয়াশায় ঢাকা চারদিক
কুয়াশায় ঢাকা চারদিক (ছবি : অধিকার)

ঠাকুরগাঁও জেলায় সাতসকালে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় টের মিলছে, শিশির ভেজা ভোর যেন জানান দিচ্ছে শীত এসেছে প্রকৃতিতে। সন্ধ্যার আগেই প্রকৃতিতে ভর করছে কুয়াশা। নেমে আসছে শীতের আমেজ। কার্তিকের শুরু থেকেই এমন শীতের আবহ দেখা গেছে দেশের উত্তরে হিমালয়ের কোলঘেঁষা।

হেমন্তের শিশির বিন্দুতে মাঠ ঘাটের ঘাস ও গাছ পালার রঙও এখন ধূসর প্রায়। শীতের আগমনী বার্তায় ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের সোনারাঙা রোদ। বিকেল পাঁচটা না বাজতেই পশ্চিমে ঢলে পড়ছে সূর্য। গোধূলি লগ্ন পেরিয়ে জলদিই নেমে আসছে সন্ধ্যা। ভোরের আলো ফুটতেই স্নিগ্ধ শিশিরে ভেজা সবুজ ধানের পাতাগুলো নুয়ে পড়ছে হাওয়ায়।

জেলায় ক্রমেই কমছে বাতাসের আর্দ্রতা আর বাড়ছে হিমেল হাওয়ার ঠাণ্ডা পরশ। বর্তমানে দিনের বেলায় কিছুটা গরম থাকলেও সন্ধ্যা থেকেই শীত অনুভূত হচ্ছে। রাত যত গভীর হয় ঠাণ্ডাও ততো বাড়তে থাকে। আর ঠাণ্ডার কারণে কাঁথা শরীরে মুড়িয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ।

সন্ধ্যা থেকে সকাল ৮টা-৯টা পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে রাস্তাঘাট ফসলের মাঠসহ চার দিক। এ কারণে রাস্তায় চলাচলকারী মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলা গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে ও ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং হওয়ার পরদিন থেকে জেলায় বেড়েছে শীত ও কুয়াশা। তাই অন্যান্যবারের চেয়ে এবার শীতের প্রকোপ বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সদর উপজেলার জহিরুল ইসলাম নামে এক যুবক বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আরও আগেই আমাদের এই দিকে শীত শুরু হয়ে গেছে এবার। বিকাল থেকেই কুয়াশা হিমেল হাওয়া বয়। শীত অনুভূত হওয়ায় রাতে কাঁথা গায়ে নিতে হচ্ছে।

মাদরাসার শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, যদিও আশ্বিনের শুরু থেকে শীত পড়া শুরু করেছে এদিকে তবে এবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং হওয়ার পরদিন থেকেই সন্ধ্যা থেকে সকাল ৮টা-৯টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়া শুরু করেছে। তাই এবার হয়তো গতবারের তুলনায় শীতের প্রকোপ বেশি হতে পারে।

আব্দুল খালেক নামে এক কৃষক জানান, রাতে ঘন কুয়াশায় ঠিকমত রাস্তা দেখা যায় না। আর সকাল ১০-১১ টা সময়ও মাঠের ঘাস ও ধান গাছ শিশিরে ঘাস ভেজা থাকছে।

মোটরসাইকেল আরোহী খোরশেদ ইসলাম বলেন, এমনিতে সন্ধ্যায় হাটা চলা করলে গরম কাপড় গায়ে দিয়ে বেড় হতে হচ্ছে। আর মোটরসাইকেল চালাতে তো গায়ে জ্যাকেট, মাফলার ও হাত মুজা পরিধান করতে হচ্ছে নয়তো হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

প্রায় প্রতিবছর এ জেলায় শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় সরকারকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে সঠিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করার দাবি ও অনুরোধ জানান স্থানীয়রা।

মজিবর রহমান নামে এক মসজিদের খাদেম বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। এলাকায় তেমন কোনো ধর্ন্যাঢব্যা ব্যক্তি নেই। তাই সরকারকে বিনীত অনুরোধ করছি এলাকার প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের শীতবস্ত্র দিয়ে শীত নিবারণ করার জন্য।

এছাড়াও রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ঠাকুরগাঁও একটি সীমান্তবর্তী জেলা ও হিমালয়ের কাছাকাছি জেলার অবস্থান হওয়ায় প্রতিবারে এখানে শীত আগেই শুরু হয়ে যায়। আমাদের জেলায় অনেক অসহায় দরিদ্র মানুষ আছেন যারা শীতের সময় শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেন। তাই আমি সরকারকে অনুরোধ করবো এধরণের মানুষ গুলোকে শীতবস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করার। তাছাড়াও যারা বিত্তবান আছে তারাও যেন শীতবস্ত্র দিয়ে এই মানুষ গুলোর পাশে থাকেন।

শীতবস্ত্রের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ হাজার কম্বল ও ২০ লক্ষ টাকার একটি চাহিদা পাঠিয়েছেন ও বরাদ্দ এলেই সকলের সাথে সমন্বয় করে তা শতভাগ সঠিকভাবে বিতরণ করা হবে বলে জানান ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড