• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাঁচ বছর পর রাস্তা পেল আশ্রয়ণের বাসিন্দারা

  তরিকুল ইসলাম তরুন, কুষ্টিয়া

২৯ অক্টোবর ২০২২, ১৬:১৫
পাঁচ বছর পর রাস্তা পেল আশ্রয়ণের বাসিন্দারা

পাঁচ বছর পর চলাচলের জন্য রাস্তা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পাকুড়িয়া এক ও দুই আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নেয়া প্রায় তিনশ মানুষ। বর্তমান অবস্থায় এখানে এখনো নতুন করে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হবে অসহায়-দরিদ্র-ভূমিহীনদের অন্তত একশটি পরিবারকে। রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে অসহায়দের বসবাসের আগ্রহও বেড়েছে, যা কদিন আগেও পর্যাপ্ত ছিল না। সম্পন্ন হয়েছে আশ্রয় প্রাপ্তদের মধ্যে বাকি থাকা 'প্রাপ্তি স্বীকারোক্তিমূলক' কবুলিয়ত দলীলের কাজ।

২০১৭ সালে অনেকটাই অপরিকল্পিত ভাবে তৈরি হওয়া এই প্রকল্পটিতে বসবাসরত মানুষদের চলাচলে দুর্দশার অতীত-বর্তমান ও আগামীর সম্ভাবনা তুলে ধরে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের পর সুরাহার জন্য তৎপর হোন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা, ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে প্রকল্পটি সম্পর্কে বর্তমান ও প্রতিষ্ঠাকালীন সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তথ্যগত জটিলতার কথা।

যদিও এর আগেও বেশ কয়েকবার রাস্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতা তেমন একটা কাজে আসেনি। আলোর মুখ দেখেনি অসহায়দের চলাচলের পথ। বর্তমানে মূল পিচ ঢালা রাস্তার সাথে সংযুক্ত ইটের তৈরি এক মাইলের মতো রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় ভীষণ খুশি আশ্রয়ণের বাসিন্দারা এবং সীমান্তবর্তী জামালপুর এলাকাবাসী।

ফসল ক্ষেতের মাঝখানে গড়ে ওঠা প্রকল্পে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় হারিয়ে যেতে বসেছিল বসবাসের পরিবেশ। হুমকিতে পড়েছিলো বসবাসরতদের দৈনন্দিন অর্থনীতি। দারিদ্র্যতার যাঁতাকলে আটকে থাকা মানুষদের আশ্রয়স্থল মিললেও পথের অভাবে হতাশায় পড়েছিলেন তারা। বসবাসরতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অবশেষে পথের কাজ শুরু হওয়ায় সন্তুষ্ট তারা, অনেকেই নতুন করে দেখতে শুরু করেছেন নানা উন্নয়ন কল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন।

কেবলমাত্র আশ্রয়ণই নয় পথটির সুফল পাবেন দৌলতপুরের জামালপুর গ্রামবাসী। কৃষি আবাদি জমির ফসল আনা-নেয়া, আশ্রয়ণের উন্মুক্ত বিশাল খেলার মাঠ এবং পরিকল্পনায় থাকা মসজিদ ব্যাবহারের পাশাপাশি নানা সুবিধার বাস্তবায়ন এখন এলাকাবাসীর চোখের সামনে। যেসব আশ্রয় প্রাপ্তরা সেখানে থাকতে নারাজ ছিলেন তাদের মধ্যে এখন আগ্রহ জেগেছে।

স্থানীয়দের এবং সরকারের জমি মিলে এগিয়ে চলছে রাস্তাটির কাজ, যা শেষ হবে শিগগিরই। প্রতিবেদকদের তুলে আনা তথ্য অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজে বেশ সহায়ক হয় জানিয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা রাস্তাটা করতে পারছি।

এই প্রকল্পে আরও ঘর নির্মাণের সম্ভাবনা জানিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ। এমপি বাদশাহ বলেন, রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে প্রথমে ইটের রাস্তা তৈরি করা হবে যা পর্যায়ক্রমে পিচ ঢালা হবে।

এই সংসদ সদস্য ২০১৯-এ সংসদীয় আসন গ্রহণের আগে ওই প্রকল্পটি শুরু করা হয়, যা নিয়ে পরে বিপাকে পড়েন আশ্রয় গ্রহণকারীরা, প্রকল্পটির সফলতা ফেরাতে রীতিমতো পেরেশান হতে হয় ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পরবর্তীকালে দায়িত্বে আসা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মীদের।

সবশেষ চলতি বছরের জুলাইয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফের উদ্যোগ নেয়া হয় পথের সমাধানে। জানা গেছে, প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, সংশ্লিষ্ট আসন কুষ্টিয়া-১ এর সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশাহ এবং প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজ শাহীন খসরু, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান পথটি বাস্তবায়নে বেশ শ্রম এবং সময় দিয়েছেন।

পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেয় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। এসবের ফলশ্রুতিতেই অবশেষে সঠিক বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে পাকুড়িয়া- এক ও দুই আশ্রয়ণ প্রকল্প।

এসিল্যান্ড আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আশ্রয়ণটির মানুষদের জন্য কেবল একটা পায়ে হাটা পথ ছিল, মাঠ ও লোকালয় হয়ে তারা চলাফেরা করতো। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রথমে যেই দিক দিয়ে রাস্তা করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়, সেই দিকটা ব্যবহারে জমি ব্যবস্থাপনাসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তৎকালীন ও বর্তমান কর্মীদের সহযোগিতায় আরেকটি রুট খুঁজে বের করি আমরা।

তিনি আরও বলেন, যেখানে কিছু সাধারণ মানুষের জমির পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তিতে পাওয়া জমি যোগ করে রাস্তাটি নিশ্চিত করা গেছে, এসব জমি এখনও বাংলাদেশী ভূমি জরিপে ওঠেনি। এই পথটি ফসলের মাঠে স্থানীয়দের আসা-যাওয়ার প্রয়োজনে অন্তত ৫০ বছর আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। আমরা স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে রাস্তাটি নিশ্চিত করতে পেরেছি।

এসিল্যান্ড খসরু বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের যাদের কবুলিয়ত দলীল ছিল না সেগুলোও সম্পন্ন করা হয়েছে। এই দলীলের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড