• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঝগড়া ফেরানোই কাল হলো যুবকের, হলো না বিদেশ যাওয়া

  মো. সাগর মিয়া, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)

২৯ অক্টোবর ২০২২, ১৫:০৫
ঝগড়া ফেরানোই কাল হলো যুবকের, হলো না বিদেশ যাওয়া

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ঝগড়া ফেরানোই কাল হলো নাঈম ইসলামের। টানা ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ এ প্রাণ গেলো তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জন ক্রম নাঈমের বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করা হয়ে ছিল। শনিবার পরিবারের কাছে সে লাশ হয়ে ফেরায় তার আর বিদেশ যাওয়া হলো না। এ নিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

জানা যায়, নিহত নাঈম ও প্রত্যক্ষদর্শী বেঁছে যাওয়া আমিনুল গত ১৯ অক্টোবর বুধবার হোগলা কান্দি বোর্ডের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বড়ই তলা নামক স্থানে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা আলমগীর ও শাহজাহানের নেতৃত্বে ৯/১০ জন মিলে নাঈম ও আমিনুলকে হত্যার উদ্দেশে ঘেরাও করে ফেলে।

এ সময় মোবাইলের আলোতে দেখতে পায় তাদের প্রত্যেকের হাতে রড রয়েছে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দু’জনই আত্নরক্ষার্থে ডাক চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।

হোগলা কান্দি বোর্ড বাজারের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মজিদ জানান, ওই দিন প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। সেখানে একদিন চিকিৎসার আমিনুলের অবস্থা ভালো হলেও নাঈমের অবস্থা ক্রমশ: অবনতির দিকে গেলে তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়।

বুকে আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় শ্বাস কষ্ট ও জ্ঞান না ফেরার কারণে দু’দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে আইসিইউ এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নাঈমের মৃত্যু হয়।

সে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হোগলা কান্দি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। এ ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ বিজয়কে (১৯) আটক করেছে। বিজয় ওই গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাস দেড়েক আগে শাহাব উদ্দিনের মুদি দোকান থেকে কেনা-কাটার সুবাদে ঝগড়া হয়। এ সময় শাহাব উদ্দিনের ছেলে জাহিদুলকে মারধর করে প্রতিপক্ষ রইছ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর। ওই দিন নিহত নাঈম ঝগড়া ফেরানোর কারণে সেই থেকে আলমগীর ও শাহজাহান নাঈমের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। এ নিয়ে নাঈমসহ মুদি দোকানদারকে হত্যার হুমকি দেয় প্রতিপক্ষ। যে জন্য মাসখানেক দোকান বন্ধ রাখে দোকানদার। এক মাস যাবৎ পালিয়ে আত্মরক্ষার্থে হোসেনপুর থানায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম রহিদ দেন দরবার করে মিটিয়ে দেন। তারপর ও প্রতিপক্ষ কেন এমনটা করলো এ প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

হোসেনপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান টিটু জানান, নাঈম আইসিইউ থাকা অবস্থায় তার পিতা আব্দুর রশিদ নয়জনকে চিহ্নিত ও পাঁচজনকে অজ্ঞাত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যা এখন হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হত্যার সাথে জড়িত বিজয় (১৯) নামে একজনকে আটক করার বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।

হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড