• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

টিকটকের নামে চলছে অসামাজিক কর্মকাণ্ড

‘এখন মেয়েদের বিয়ে দিতে হয় না, তারাই করে নেয়’

  কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

২৯ অক্টোবর ২০২২, ১৩:২০
‘এখন মেয়েদের বিয়ে দিতে হয় না, তারাই করে নেয়’

কি বলবো? কার কাছে বলবো? বলার বা বিচার চাওয়ার কোনো জায়গা নাই। গ্রামের তথা এলাকার যুবক ছেলে-মেয়েদের নষ্ট করেছে দিচ্ছে। মান সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রামে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের বিভিন্নভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাই দিন দিন তাদের সাহস আরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বলছিল নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামবাসী।

টিকটক ফান ভিডিয়োর নামে অশ্লীল কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে গ্রামে। উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ঈশ্বরদেবত্তর (কালাইডাঙ্গা) গ্রামে এই সমস্ত অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে একই গ্রামের রজব আলীর ছেলে মতিউর রহমান মিঠন।

মাহা ফান টিভি ও বিজি ফান এলাটডি নামে দুইটি প্রকাশ্য ইউটিউব চ্যানেল এবং বিভিন্ন নামে ফান ভিডিয়ো চ্যানেল খুলে অল্প বয়স্ক ছেলে মেয়েদের অশ্লীল ভিডিয়ো করে চ্যানেলে প্রচার করছে। দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা ভাবিচা ইউনিয়নের ঈশ্বরদেত্তর (কালাইডাংগা) গ্রামের দক্ষিণ পার্শের কয়েক একর জায়গা জুড়ে তৈরি করা রয়েছে তাদের আখড়া। সেখানে মাগুরা, ব্রাম্মনবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সের মেয়েদের রেখে প্রকাশ্যে ফান ভিডিয়ো তৈরি করলেও অভিযোগ রয়েছে ফান ভিডিয়োর পেছনে রয়েছে মাদক, স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে অশ্লীলতাসহ আরও অনেক অবৈধ কারবার।

গ্রামের অল্প বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে লাগিয়ে দিচ্ছে ওই সমস্ত কাজে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিষয়গুলো জানলেও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

এ বিষয়ে মতিউর রহমান মিঠনের আখড়ায় সরেজমিনে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে অল্প বয়স্ক ৬/৭জন মেয়েদের দেখা গেছে। যাদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের হবে। সেখানে ছিল কিছু অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে। তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজী হয় নাই।

ঈম্বরদেবত্তর গ্রামের বৃদ্ধ মফিজ সরকার বলেন, আমাদের গ্রামটা নষ্ট হয়ে গেল। এই টিকটক না কি যেন বলে তারা গ্রাম সমাজ সব নষ্ট করে দিলো। গ্রামের যুবতী মেয়েগুলো টিকটকের নামে অশ্লীল কাজ করে বেড়ায়। এ পর্যন্ত আমাদের গ্রামের চারটি মেয়ে বাড়ী থেকে পালিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত একটি মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই। এ নিয়ে থানা-পুলিশ করেও কোনো লাভ হয় নাই। অনেক চেষ্টা করেও ছেলে-মেয়েদের ঘরে রাখা যায় না।

একই গ্রামের বাসিন্দা এমাজ উদ্দিন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, টিকটক পার্টির জন্য আমাদের ভালোই হয়েছে, গ্রামের মেয়েদের আমাদের আর বিয়ে দিতে হয় না। তারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে নেয়। সমাজটাকে একেবারে নষ্ট করে দিলো। কোথাও গিয়ে প্রতিকার হয় না।

একই গ্রামের যুবক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তারা তো অনেক গরীব পরিবারকে সাহায্য করছে। যারা টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পায় না। তারা লেখাপড়া না করে মিঠনের সাথে টিকটকে যুক্ত হয়েছে। তবে এক দিক দিয়ে উপকার হলেও সমাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ওবাইদুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মতিউর রহমান মিঠনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড