• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নির্বাচনে হেরে নানা মহলে বিভ্রান্তি তৈরির পাঁয়তারা

  শাকিল মুরাদ, শেরপুর

২৭ অক্টোবর ২০২২, ১৪:০৩
নির্বাচনে হেরে নানা মহলে বিভ্রান্তি তৈরির পাঁয়তারা
শেরপুর প্রেসক্লাব (ছবি : অধিকার)

শেরপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচনে কয়েকবার পরাজিত হয়ে জেলার গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নানা মহলে বিভ্রান্তি তৈরির পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে এক সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি শেরপুর প্রেসক্লাবের ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ উদ্দিনসহ সিনিয়র ১২ জন গণমাধ্যম কর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি গণমাধ্যম অঙ্গনে জড়িত থাকায় দ্বৈত পেশার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

অভিযোগকারী ওই সাংবাদিকের নাম আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল। তিনি যমুনা টিভির শেরপুর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ঠিকাদার হিসেবেও কাজ করেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার ফসিউল দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার মো. মেরাজ উদ্দীন, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায়, জেলার নকলা উপজেলার বানের্শ্বদী দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা, কলাপাড়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকায়, শাহরিয়ার দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মোহাম্মদ হযরত আলী দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়, ঝিনাইগাতি উপজেলার ভটপুর আলিম মাদরাসার শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম দ্য নিউন্যাশন পত্রিকা, শেরপুর সদরের মডেল গার্লস ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাসুদ হাসান বাদল দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা, নকলার চন্দ্রকোনা কলেজের প্রভাষক মহিউদ্দিন সোহেল এসএ টিভি দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকা, নকলার সরকারি হাজি জাল মাহমুদ কলেজের প্রভাষক ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আকন্দ দ্য ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা, সরকারি হাজি জাল মাহমুদ কলেজের প্রভাষক আব্দুল মোত্তালিব সেলিম দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকা, শেরপুর সদরের নিজাম উদ্দিন কলেজের প্রভাষক যথাক্রমে রীতেশ কর্মকার দৈনিক পল্লীকন্ঠ প্রতিদিন পত্রিকায় এবং মো. মোক্তারুজ্জামান দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় কর্মরত আছেন মর্মে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল।

অথচ ওই ১২ গণমাধ্যম কর্মীর মধ্যে হারুন অর রশিদ অনেক আগেই অবসর গ্রহণ করেছেন। তবে ওই গণমাধ্যম কর্মীদের কেউই গণমাধ্যম অঙ্গনে লাভজনক পদে জড়িত নন। সরকারের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে এমন প্রতিষ্ঠানেও কাজ করছেন না। শেরপুর তথা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কোনো গণমাধ্যম কর্মীই লাভজনক কোনো পদের সাথে জড়িত নন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কথা হয় সিনিয়র আইনজীবী ও প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জুলফিকার আলীর সাথে। তিনি জানান, সংবিধানে লাভজনক পদের ব্যাখ্যা নেই। তা আছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) এর ১২ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ বা ৫০ শতাংশের বেশি সরকারি শেয়ার সম্বলিত কোম্পানির চাকরি বা পদকে লাভজনক পদ বলা হয়েছে।

অন্য দিকে ২০০১ সালে আদালতের এক রায়ে বলা হয়, যে পদে নিয়োগ ও পদচ্যুতির ক্ষমতা সরকারের হাতে, সে পদ লাভজনক পদ। গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়োগ বা পদচ্যুতির ক্ষমতা সরকারের হাতে নেই। কাজেই মফস্বল পর্যায়ের গণমাধ্যম কর্মীরা কোনো অবস্থাতেই লাভজনক পদে কর্মরত নেই। একইসাথে বেসরকারি শিক্ষকরা মিডিয়ায় লেখালেখি করতে পারবেন না, এমন নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদৌ প্রকাশ করা হয়নি।

আইনজীবী জুলফিকার আলী প্রশ্ন করে বলেন, শিক্ষা অফিসার কোনো বিধি বলে ১২ গণমাধ্যম কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন? ওই ১২ গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে ছয়জন শিক্ষকই প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার। যাদেরকে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা নোটিশ দেয়ার এখতিয়ার রাখেন না।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা বলেন, পূর্বের ন্যায় আবারও প্রেসক্লাবের ঐক্যকে বিনষ্ট করার জন্য আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে এবার তাকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ব্যস্ততা গ্রহণ করার জন্য প্রেসক্লাব কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, আমি এখনো কারণ দর্শানো নোটিশ হাতে পাইনি। তবে দুইবার আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল আমার সাথে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে গোহারা হেরে নির্লজ্জভাবে ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। আবার ওই পদ ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছেন।

তাই বিষয়টি ক্লাবের সভাপতি মো. শরিফুর রহমানের নিকট অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, অভিযোগ দিয়ে অভিযোগকারী তার লোকজন নিয়ে আমাদেরকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছিল। তাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। আমি কারোর বিরুদ্ধেই বিধি পরিপন্থি কোনো কিছু করব না।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড