• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পিরোজপুরে দিনভর বর্ষণেই ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং থেকে পরিত্রাণ, ঘটেনি প্রাণহানি

  মো. রুম্মান হাওলাদার, পিরোজপুর

২৬ অক্টোবর ২০২২, ১৬:২৭
পিরোজপুরে দিনভর বর্ষণেই ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং থেকে পরিত্রাণ, ঘটেনি প্রাণহানি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় রবিবার সন্ধ্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সোমবার টানা দিনভর ভারি বর্ষণ আর ধমকা হাওয়ার মধ্য দিয়ে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের বড় ধরনের ক্ষতির প্রভাব থেকে পরিত্রাণ মিলছে। ঘটেনি প্রাণহানির মতো বড় কোনো দুর্ঘটনা। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার মৌসুমি সবজি চাষিরা।

এছাড়া দুই এক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি, গাছপালা ভেঙে পড়া, নিন্ম অঞ্চল প্লাবিত হওয়া, দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন থাকা, মৎস্য চাষিদের মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে খাল-বিলে মাছ ভেসে যাওয়া, মৌসুমি সবজি চাষিদের খেত বিনষ্ট হওয়া সহ বেশ কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উপজেলার কৃষিজীবী, শ্রমজীবী, মৎস্যজীবী ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা।

উপজেলার সাপলেজা, বড়মাছুয়া, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, দুই দিনের টানা বিরামহীন বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে আমন ধান আসা সম্ভাবনাময় গাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। নুয়ে পড়া ধান গাছগুলোর নিচেই বৃষ্টির পানি জমে আছে। লোকালয়েও কিছু কিছু জায়গা প্লাবিত রয়েছে।

তুষখালী, বেতমোড়, গুলিশাখালী ছোট-মাছুয়া এলাকায় মৌসুমি চাষিদের কলাবাগান পানিতে প্লাবিত না হলেও ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে চিহ্ন দৃশ্যমান রয়েছে। কলাগাছগুলো ভেঙে নুয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পেঁপে চাষিদের অবস্থা আরও করুন। কোন গাছেই পেঁপে নেই। অধিকাংশ গাছ ভেঙে নুয়ে পড়ে আছে বাগানে। আংশিক যেগুলো দাঁড়িয়ে আছে আস্তে আস্তে তাতেও পচন ধরেছে।

এ দিকে মিরুখালী ইউনিয়নের সাচকীবাড়ি সহ আশপাশের কয়েকটি পানের বরজে পানিতে প্লাবিত অবস্থায় দেখা যায়। নিন্ম অঞ্চল থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সময় চলে না যাওয়াতে অধিকাংশ পানের বীজে পচন ধরেছে।

পৌর শহরের পশ্চিম কলেজ পাড়া এলাকায় সোমবার রাতের সিত্রাংয়ের ভারি হমকা হাওয়ায় একটি বসতঘরে গাছ পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ওই বসতঘরের টিন দুমড়ে মুচড়ে মাটির সাথে মিশে যায়। তবে প্রাণহানি মত কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। পরিবারের লোকজন আগ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সর্তকতা অবলম্বন ও পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে পাশের বিল্ডিংয়ে অবস্থান নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

একই এলাকায় একটি দ্বিতল ভবনের উপর বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুরো উপজেলা জুরে টানা ২দিন বিদ্যুৎ না থাকায় সরকারি হাসপাতাল সহ প্রায় ২০টি প্রাইভেট ক্লিনিকে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবাটুকু দিতে বেগ পোহাতে হয়।

এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে বাড়ি ফেরা দিনমজুর পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, সিত্রাংয়ের তাণ্ডব থেকে শঙ্কামুক্ত হলেও গত দুইদিন ধরে কর্মহীন থাকায় সামনের কয়েকটা দিন পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবে সেই চিন্তা আর শঙ্কায় এখন ভোগাচ্ছে তাদের। বাড়ি ফিরে এসে আবার নতুন করে বৃষ্টির পানিতে বিনষ্ট হওয়া রান্নার ঘর ও আঙ্গিনা ঠিক করা কাজে অনেককে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এখনো রান্না ঘরের চুলায় আগুন ধরাতে পারেনি প্লাবিত এলাকার লোকজন। শুকন খাবার দিয়েই কোনো মতে দিন পার করছে।

খেতাছিড়া ও বড়মাছুয়ার জেলে পল্লীর কয়েকজন জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাছ ধরার অবরোধ সাথে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে তারা এখন সম্পূর্ণ কর্মহীন। সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাছিড়া গ্রামের জেলে জসিম জানান, মাছ ধরার অবরোধ থাকলেও এতোদিন মাছ না ধরে অন্য কাজকর্ম করে খেতাম। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার ৩দিন কর্মহীন থাকায় হতাশায় আর দুশ্চিন্তায় চেপে ধরেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ভারি বর্ষণ আর দমকা হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৌসুমি চাষিরা।উপজেলায় মৌসুমি সবজি চাষাবাদের মোট জমি রয়েছে ৪৫ হেক্টর। যার আংশিক ও সম্পূর্ণ মিলে ৪৫ হেক্টরে জমির আবাদ ফলনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলায় চলতি বছরে ২০২০৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫২০ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২৫০ হেক্টর।

যদিও এ কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন- আমন ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়লেও তেমন কোনো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। পানি সরে গেলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৩০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট মৎস্য খামার,জলাশয়,পুকুর আছে। মাছ চাষের এসব খামার, জলাশয় ও পুকুর থেকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে পানিতে প্লাবিত হয়ে ২০০ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। যা আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ টাকার মূল্যে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার। এছাড়া খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ টাকা।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড