• শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চল্লিশ হাজার মানুষের জন্য দশ শয্যার হাসপাতাল

চিকিৎসক সংকটে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা

  মোহাম্মদ আব্দুর র‌হিম, স্টাফ রিপোর্টার, (বান্দরবান)

০২ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৪৮
চিকিৎসক সংকটে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা

বান্দরবানের রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকট, হাসপাতালের প্যাথলজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ঔষধ, নানা যন্ত্রপাতিসহ বি‌ভিন্ন জটিলতায় জর্জরিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দুর্গম রুমা উপজেলার বাসিন্দারা। এ হাসপাতালটির উপর রুমা উপজেলার প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি জনসাধারণ নির্ভর ক‌রে। তবে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ীভাবে চারজন চিকিৎসক থাকলেও অস্থায়ী সংযুক্তিতে আছে সাতজন চিকিৎসক।

সরেজমিনে জানা গেছে, রুমা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘ বছর আগে থেকেই ১০ শয্যার হসপিটাল ছিল। পরে পার্বত্য মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় নতুন করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ভবনটি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৫০ শয্যা পরিসরে নির্মাণ করা হলেও সরকারিভাবে ৫০ শয্যার কোনো সুযোগ সুবিধাই এখনো পর্যন্ত দেওয়া চালু হয়নি। এখানে সিজনাল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৫০ জনের মতো রোগী চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

এ হাসপাতালে অনেক বছর আগের পুরোনো জরাজীর্ণ যে সিট গুলি ছিল সেগুলোর মধ্যে রোগীদের শুয়ে থাকতে দেখা যায়। জানা যায়, সমতলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা সেবার যে সুযোগ দেওয়া হয় তা থেকে অতি নগণ্যভাবে এই দুর্গম উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার আধুনিক যন্ত্রপাতি থেকে পাহাড়ের মানুষদের সুবিধা বঞ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া দুর্গম এলাকার হাসপাতাল হাওয়ায় চিকিৎসকরা রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ীভাবে থাকতেও চান না বলে বরাবরই অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন চিকিৎসকের মধ্যে ড. রায়হানুল খালেদ, ড. ইশতিয়াকুর রহমান ও সার্জারি কনসালটেন্ট ড. মিনা আহমেদ চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়াও রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও তাহমিনা সুলতানা ডেপুটেশনে জেনারেল হসপিটাল আন্দরকিল্লা চট্টগ্রামে অ্যাটাচমেন্টে কর্মরত রয়েছেন। এ হাসপাতালে খালি রয়েছে রেমা‌ক্রি প্রাংসা ও পাইন্দু ইউনিয়নের মেডিক্যাল অফিসারের দুটি পথ।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মরত স্থানীয় গ্রিনহিল এনজিওর উ. কো-অডিনেটর উ‌শৈহ্লা মারমা জানান, অনেক বছরের পুরনো রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো পর্যন্ত রোগীদের বহির্বিভাগের টিকেট দেওয়ার কোন সিস্টেমই চালু হয়নি। রোগীদের জন্য প্যাথলজিতে রক্তের হিমোগ্লোবিন'সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ সুবিধাও এখনো চালু হয়নি। বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলেই রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার বাহিরে অন্যত্র হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

এ ব্যাপারে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বামং প্রু মারমা দৈনিক অধিকারকে বলেন, আমাদের এখানে তবে হিমোগ্লোবিন ছাড়া ডায়াবেটিসের টেস্টগুলো হয়। অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টগুলা শুরু করতে পারেনি। এটার জন্য আমাদের যন্ত্রপাতি দরকার, যন্ত্রপাতি আমাদের নাই। যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল যদি আমরা পাই। তাহলে আমরা এখানে টেস্ট গুলি করতে পারব। তবে হাসপাতালের ভবন বাড়িয়ে দিলে হয় না, প্রশাসনিক ভবন দরকার। আমি যেটা বসতেছি এটাও হাসপাতালে জায়গা। তাছাড়া আমাদের যে সমস্ত কর্মচারী আছে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের ১৩ জন নার্সদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে ৬ জন ডাক্তার থাকার ব্যবস্থা আছে বাকিগুলো থাকার কোন ব্যবস্থা নাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে নাইট ঘাট নাই, সুইপার নাই, এখান থেকে অনেক ডাক্তার সংযুক্তি বা ডেপুটেশনে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেক ডাক্তার আছে এখানে পোস্টিং থাকলেও তাদেরকে এটাচমেন্ট করে নিয়ে গেছে সদর হাসপাতালে। এমনকি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও কাজ করতেছে। তারা এখান থেকে বেতন নেন কাজ করেন অন‌্য হাসপাতা‌লে। এই সমস্যার মধ্যেই আমরা কাজ করতেছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড