• বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ভাইরাস জনিত রোগ, আতঙ্কে ক্ষুদ্র খামারিরা

  আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৫৬
ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ভাইরাস জনিত রোগ, আতঙ্কে ক্ষুদ্র খামারিরা
গরুর শরীরে ভাইরাস জনিত রোগ (ছবি : অধিকার)

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস জনিত একধরণের গরুর রোগ। যা ‘লাম্পি স্কিন ডিজিস’ নামে পরিচিত। এতে গরুর গায়ে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ফোসকা বা ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গরু পালনকারী ক্ষুদ্র খামারিসহ সব ধরনের খামারিদের মাঝে। তাদের অভিযোগ এ রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রাণী সম্পদ বিভাগের নেই কোনো তদারকি।

গরু পালনকারীরা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়াসহ জেলার দৌলতপুরে গরু পালনকারী খামারিদের মাঝে নতুন করে রোগ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগের সবচেয়ে বেশী বিস্তার ঘটেছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায়। এ উপজেলার প্রতিটি ক্ষুদ্র খামারির পালন করা গাভী বা গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোনো দেখভাল বা তদারকি না থাকার অভিযোগ খামারিদের। ফলে খামারিরা তাদের পালন করা গরু নিয়ে রয়েছেন চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায়।

খামারিরা জানান, তাদের গরুর গায়ে প্রথমে ফোসকা দেখা দিচ্ছে। পরে তা গরুর সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ঘা বা ক্ষত দেখা দিচ্ছে। গরুর এ রোগ হলে গরু খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে এবং গরু শুইয়ে থাকলে আর উঠে দাড়াতেও পারছেনা। গরুর এ রোগ দৌলতপুরের প্রায় সব গ্রামেই ছড়িয়ে পড়েছে।

চিকিৎসার অভাবে অনেকের গরু মারাও গেছে। দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা গরুর চিকিৎসা দিতে চাই না। আবার দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ বিভাগের চিকিৎসককে গরুর চিকিৎসার জন্য ডাকা তিনি ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা ভিজিট চান। না দিলে তিনি যেতে চান না।

দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ অফিস ও অফিস সংলগ্ন পশু চিকিৎসার দোকানগুলোতে একাধিক দালাল রয়েছে। দালালরাই মূলত দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ অফিস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া ও কাঞ্চনগর গ্রামের গরু পালনকারী পিয়ার আলী, রানা হোসেন ও শাহীন আলী জানান, তাদের গরুর গায়ে ফোসকা ও ঘা হলে দৌলতপুর পশু অফিসে গেলে তারা গরুর চিকিৎসা না দিয়ে ফিরে দিয়েছেন। আবার গরুর চিকিৎসার জন্য বাড়ি ডাকা হলে পশু ডাক্তার ১৫০০ টাকা ভিজিট চাইলে আমার স্থানীয়ভাবে গরুর চিকিৎসা দিয়েছি। দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ অফিসের বিরুদ্ধে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র খামারিদের এমন অভিযোগ আরও রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

গরুর রোগের বিষয়ে দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ভাইরাস জনিত নতুন রোগ, যা মশা মাছির মাধ্যমে ছড়াই। লাম্পি স্কিন ডিজিস সংক্ষেপে ‘এলএসডি’ রোগ নামে পরিচিত। এ রোগের এখনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। গরুর এ রোগ দেখা দিলে মশারীর মধ্যে রাখার পরামর্শসহ এ রোগের বিষয়ে খামারিদের সচেতন করার কথা বলেন তিনি।

পাশাপাশি গরুর এ রোগের জন্য প্রাণী সম্পদ অফিসে গিয়ে পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান। যদিও ভিজিট নেয়া বা চাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও প্রাণী সম্পদ অফিস কেন্দ্রিক দালাল মুক্ত করার বিষয়ে একটু সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ দিকে রোগটিতে আক্রান্ত গরুর পরিচর্যা করতে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে গরু পালনকারীদের। তাদের ধারণা গরু শরীর থেকে মানুষের দেহে এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। গরুর এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ হলেও এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এ রোগ প্রতিরোধে খামারিদের সচেতন করতে উঠোন বৈঠক সহ রোগ নিরাময়ে পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণী সম্পদ বিভাগ বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান।

আর্থিক নিরাপত্তার জন্য দরিদ্র পরিবারগুলো একটি বা দু’টি গরু পালন করে থাকেন। রোগে আক্রান্ত হয়ে সন্তানের মতো পালন করা গরুটির কোন ক্ষতি হলে তাদের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। আর এ জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিভাগের বেশি বেশি তদারকি। এমনটাই মনে করেন ক্ষুদ্র খামারিসহ সংশ্লিষ্টগণ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড