• সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বন বিভাগ ও চোরাকারবারিদের যোগসাজশ

জোৎপারমিট বিহীন কাঠ অবৈধভাবে অবাধে পাচার

  মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার (বান্দরবান)

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৬
জোৎপারমিট বিহীন কাঠ অবৈধভাবে অবাধে পাচার
অবৈধভাবে গাছ কাটা হচ্ছে (ছবি : অধিকার)

বান্দরবানের সদর উপজেলার টঙ্কাবতী ও সুয়ালক ইউনিয়নের মধ্যবর্তী উত্তর হাঙ্গরের বড় ঝিরির এলাকা থেকে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে জোৎপারমিট বিহীন বিভিন্ন বাগানের গাছ কেটে দিন-দুপুরে পাচার করে আসছে সক্রিয় একটি চক্র।

তারা টঙ্কাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে গাছ কাটার মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে পারমিট ছাড়াই এসব কাঠ পাচার করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

স্থানীয় এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের ভাগ্যকুল এলাকার কাঠ চোরাকারবারি নুরুল ইসলাম, সাতকানিয়া ঠাকুর দিঘির কাঠ চোরাকারবারি মো. জামাল, ভাগ্যকুল এলাকার মো. জসিম, আন্দার মানিকের জয়নালসহ দীর্ঘদিন ধরে উত্তর হাঙ্গরের বড় ঝিরি, ভাগ্যকুল, টঙ্কাবতী ইউনিয়নের পাহাড় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার চোরাই পথ দিয়ে পাচার করে আসছে। তারা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কেউ মুখ খুললে তাদেরকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. এনাম বলেন, টঙ্কাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাইনুদ্দিন স্যারকে ম্যানেজ করে বিশাল বড় বাগানের গাছগুলি অবৈধভাবে পাচার করছে এই চোরাকারবারিরা। গাছগুলো কেটে সকাল বিকাল সব সময় গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।

এ বিষয়ে টঙ্কাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাইনুদ্দীন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ টাকা দেয় নাই বলে তিনি অস্বীকার করেন। এবং খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

যদিও কাঠ চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্য নুরুল ইসলাম মুঠোফোন বলেন, কয়েকজন মিলে আমি ১১ লাখ টাকা ও জয়নাল ১১ লখ টাকাসহ মোট ২২ লাখ টাকা দি‌য়ে এই বাগানটি কিনেছি। প্রাথমিকভাবে টঙ্কাবতী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তাকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে গাছ কাটা শুরু করেছি বলে মুঠোফোনে স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে বন বিভাগ সদ‌রের রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল ক‌রিম ব‌লেন, ওই এলাকাটি কিন্তু আমার রেঞ্জের এলাকা। এখানে টঙ্কাবতী রেঞ্জ অফিসার কেন আসছে আমি জানি না। তবে বাগানে গিয়ে কাঠ ধরার আমাদের এখতিয়ার নাই। তারা গাড়িতে করে বাগান থেকে কাঠ বের করলে ধরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও-সদর) মাহবুব মোর্শেদ বলেন, জোৎপারমিট বিহীন অবৈধ কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্কাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, কাঠ পাচারকারীরা নিজেরা বাঁচার জন্য অনেক সময় রেঞ্জ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে থাকেন। তবে বিষয়টা আমি দেখছি তাদেরকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড