• রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সরকারি খরচে রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর দাবি

  শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:০৬
রেমিট্যান্স যোদ্ধা

পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ও প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে কর্মের খোঁজে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হাকিম মিয়া পাড়ি জমান প্রবাসে। এ জন্য তাকে বসতভিটা ছাড়া সব সহায় সম্বল বিক্রি করতে হয়। অসহায় বৃদ্ধা মা সাজেদা বেগমও ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু সে আশা আর স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গেল।

১২ দিন আগে মারা গেছেন হাকিম। তার মরদেহ সৌদি আরবের হিমঘরে পড়ে আছে। তিনি কক্সবাজার জেলা মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গাপাড়া গ্রামের বশির আহমদের ছেলে। এখন হাকিমের লাশের অপেক্ষায় কেঁদে দিন কাটছে বৃদ্ধা মা আর স্বজনদের।

জানা গেছে, হাকিম মিয়া ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে ফ্রি ভিসায় গত রমজান মাসে সৌদি আরব যান। তার ভাই ফরিদ বশিরের কাছে কাজও নেন। গত ২৩ জুলাই সৌদি আরব জিদান আবাদ থানা এলাকায় সড়ক দুঘটনায় প্রবাসী হাকিম মিয়া আহত হন। প্রায় ৪১ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ার পর ২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাকিম মিয়া মারা যান। সৌদি আরবের জিদান আবাদ শহরের একটি হাসপাতালে হিমঘরে তার লাশ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহত হাকিম মিয়ার ভাই ফরিদ বশির জানান, তার ভাইয়ের লাশ দেশে নিতে অনেক হয়রানি, কাগজপত্র ও অনেক অর্থের প্রয়োজন। আমাদের পক্ষে সবকিছু যোগাড় করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন এবং কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

হাকিম মিয়ার স্ত্রী আমেনা আক্তার বলেন, দুই মেয়েকে নিয়ে তার জীবন অন্ধকার হয়ে গেছে। স্বামীর লাশ ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি আমরা। পুরো পরিবারে চলছে গভীর শোকের মাতম।

হাকিম মিয়ার মা সাজেদা বেগম বলেন, ছেলের লাশ দেশে ফেরত আনতে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি এবং সৌদি আরবের দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, প্রবাসী হাকিম মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মরদেহ যাতে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক সরকার।

লুৎফর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন প্রবাসী বলেন, প্রবাসে কেউ মারা গেলে অন্য প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তারপর মরদেহ দেশে পাঠাতে হয়। সরকার ইচ্ছা করলে বিনাখরচে রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ বিমানের মাধ্যমে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ, বিদেশের মাটিতে কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ যেন সরকারি খরচে পরিবার ও স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড