• সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বয়স হয়নি-বিয়েও করেননি; এরপরও শিক্ষা ভাতা তুলছেন শিক্ষিকা

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫২
বয়স হয়নি-বিয়েও করেননি; এরপরও শিক্ষা ভাতা তুলছেন শিক্ষিকা
অভিযুক্ত শিক্ষিকা কনা খাতুন (ফাইল ছবি)

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আরাজী পিপুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কনা খাতুনের বয়স না হলেও চাকুরিতে যোগদান করেছেন। এছাড়া বিয়ে না করেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তুলছেন শিক্ষা ভাতার টাকা।

বিষয়টি এরই মধ্যে শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফাউন্ডস ট্রান্সফার (এএফটি) তথ্য পূরণ করতে গিয়ে ধরা পরেছে। শিক্ষিকা কনা খাতুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চাকলি গ্রামের বখত জামান ও রেনু বেগম দম্পতির মেয়ে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে দেখা গেছে, কনা খাতুন ২০১০ সালে সিরাজগঞ্জের আরিয়া মহন স্কুল থেকে মানবিক বিভাগ হতে জিপিএ-৩.৬৯ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ হলো ১৩ আগস্ট ১৯৯৫ সাল। যদিও চাকুরিতে প্রবেশের সময় তিনি জন্ম সাল ব্যবহার করেছেন ১৩ আগস্ট ১৯৯০ সাল। তিনি অবিবাহিত হলেও নিজেকে বিবাহিত পরিচয় দিয়ে ২০১৭ সাল থেকে ভুয়া সন্তানের নাম দেখিয়ে পাঁচশ টাকা করে নিয়মিত শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করছেন।

চলতি বছর শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফাউন্ডস ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে বেতন ভাতা প্রদানের জন্য তথ্য আপলোড করতে গিয়ে প্রকাশ হয়ে পরে শিক্ষকের এমন প্রতারণার বিষয়টি। ভুয়া জন্মসাল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষা ভাতা গ্রহণের বিষয়ে কারণ দর্শানোর চিঠি প্রদান করেছেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

শিক্ষক কনা খাতুন ২০১০ সালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আরাজী পিপুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তখন স্কুলটি বেসরকারি রেজিস্টার্ডভুক্ত ছিল। সে সময় তিনিসহ চারজন শিক্ষক ছিলেন স্কুলটিতে। পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে সরকার সারাদেশে প্রায় ৩০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহকে জাতীয়করণ করেন। আর এই সুযোগে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকও সরকারি হয়ে যায়। ফলে কপাল খুলে যায় শিক্ষিকা কনা খাতুনের।

জেলা শহর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন আরাজী পিপুলবাড়ী চরে যেতে শ্যালো নৌকা ব্যবহার করতে হয়। সময় লাগে আধা ঘণ্টা। বিচ্ছিন্ন এই চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য গোপন করে তিনি সুবিধা নিলেও ঘুণাক্ষরে টের পায়নি দ্বীপচরের নিরীহ মানুষ। স্কুলটিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২২৪ জন। পাঁচটি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। সেখানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন কনা খাতুন।

গত ৪ জুলাই কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভুয়া জন্মসাল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষাভাতা গ্রহণের বিষয়ে কারণ দর্শানোর চিঠি প্রদান করে।

এই পত্রে জানানো হয় পরিবারের প্ররোচনায় চাকুরিতে প্রবেশের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘খ’ ছকে লিপিবদ্ধ এবং অবিবাহিত হয়েও স্বামী-সন্তান না থেকেও ইএফটিতে সেই তথ্য গোপন করেছেন। এবং শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে নির্দেশ প্রদান করে শিক্ষা বিভাগ।

আরাজী পিপুলবাড়ী চরের বাসিন্দা ও অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেছেন, নদী ভাঙনের কারণে এখানে কোনো স্কুল ছিল না। ছিল না কোনো শিক্ষিত মানুষ। পরে আমরা স্থানীয়দের উদ্যোগে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি। নেয়া হয় ৪জন শিক্ষক। কনা আপা আত্মীয়তার সূত্রে এখানে চাকুরিতে যোগদান করেন। কিন্তু তার বয়স হয়েছিল কি-না সেটা আমরা যাচাই করতে পারিনি।

অভিভাবক বালা বেগম বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে এই চরের স্কুলে কনা আপা চাকুরি করছেন। আমরা জানি তিনি বিয়ে করেননি এবং তার কোনো বাচ্চাও নেই।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা কনা খাতুন ভুয়া জন্মসাল এবং অবিবাহিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন- বয়স ঠিকঠাক করে শোকজের জবাব দিয়েছি। তিনি আরও স্বীকার করেন- সন্তান না থেকেও ২০১৭ সাল থেকে তিনি সন্তানের নামে পাঁচশ টাকা হারে শিক্ষা ভাতা তুলেছেন।

প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, স্কুলটি যখন বেসরকারি ছিল তখনই এক সাথে আমরা চারজন শিক্ষক ২০১০ সালে ২৫ অক্টোবর এখানে নিয়োগপ্রাপ্ত হই। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। কিন্তু সহকারী শিক্ষকের জন্মসাল ভুয়া ছিল তা আমরা কাগজপত্র দেখে টের পাইনি। ইএফটি পূরণ করার সময় বিষয়টি সবার নজরে আসে। বর্তমানে এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত করছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার লুৎপর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত শেষ হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড