• মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আবাদ মৌসুমেও সার পাচ্ছেন না কৃষকরা

  সাজ্জাদুল আলম শাওন, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪২
আবাদ মৌসুমেও সার পাচ্ছেন না কৃষকরা
সার সংকটে কৃষকের মাথায় হাত (ফাইল ছবি)

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে চলতি রোপা আমন মৌসুমে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ডিলারদের কাছে সার নিতে এসে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তাদের দাবি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেককে সার না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। খোলা বাজারে প্রয়োজন মাফিক সার পাওয়া যায়না। পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।

সার সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ভাষ্য মতে, বাজারে সারের সংকট নেই। কৃষকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আট হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। ওই পরিমাণ জমিতে প্রয়োগের জন্যে সারের কোনো কমতি নেই। এ উপজেলায় ২০ জন সার ডিলার রয়েছে। তাদের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে গত মাসে ৫৭৬ টন সার বিক্রি করা হয়েছে। চলতি মাসে সারের বরাদ্দ রয়েছে ৪২৭ টন। সার ডিলারগণ কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি করছেন।

কৃষকরা জানান, এখন কাজের সময়। কাজ রেখে ডিলারদের দোকানে সার কিনতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। যারা সার পাচ্ছেন সে সারও প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প। যার প্রয়োজন ৪ বস্তা সে পাচ্ছেন মাত্র এক বস্তা। তিন থেকে চারদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সার পাননি বলে দাবি করছেন অনেক কৃষক।

অপর দিকে খোলা বাজারেও একই অবস্থা। প্রয়োজন মাফিক সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। পাওয়া গেলেও তা দামে চড়া। ডিলারদের কাছে এসে সময়মত সার না পাওয়ায় দিশেহারা এ অঞ্চলের কৃষকরা। রোপা আমনের ফলন নিয়ে শঙ্কা তাদের। খোলা বাজারে সার বিক্রির দাবি তাদের।

চরডাকাতিয়া পাড়ার কৃষক নুন্দু মিয়া জানান, এ বছর ৮ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন তিনি। সারের জন্যে তিন দিন ডিলারের দোকানে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাননি সে। বৃহস্পতিবার লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র এক বস্তা সার পেয়েছেন। তার প্রয়োজন চার বস্তা সার।

পূর্ব কাজলাপাড়া গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেনের ভাষ্য, তিন দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাননি সে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সার না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। বৈরী আবহাওয়ায় আমন চাষ পিছিয়েছে। সার না পেলে রোপা আমনের আবাদ ভালো হবে না বলে জানান সে।

বিসিআইসি ডিলারের প্রতিনিধি বিকাশ চন্দ্র সাহা জানান, গতকাল প্রতি চাষি এক বস্তা করে ৪০০ জন চাষিদের মাঝে ৪০০ বস্তা সার বিক্রি করেছি। আমার গুদামে আর সার নেই। আগামীকাল শুক্রবার ২৫০ বস্তা সার বরাদ্দ পারো।

উপজেলা কৃষি অফিসার পরেশ চন্দ্র দাস জানান, এ উপজেলায় গত বছরের মতো এ বছরও সারের বরাদ্দ পাচ্ছেন ডিলারগণ। সার বিতরণে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করছেন এ অঞ্চলের ডিলারগণ। সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণের জন্য সার বিক্রির সময় কৃষি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকছেন। কোথাও কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহান শেফা জানান, এ উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা পরে সারের দাম বৃদ্ধি পাবে ও সংকট দেখা দেবে ভেবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে রাখতে চান। কৃষি কর্মকর্তাগণ যার যতটুকু সার প্রয়োজন তাকে সে পরিমাণ সার ডিলারদের মাধ্যমে দিচ্ছেন। সারের সংকট এটা প্রকৃত অর্থে গুজব।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড