• মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মেম্বারকে টাকা দেওয়ার পরও মিলছে না ভাতার কার্ড

  তন্ময় কুমার সাহা, রায়পুরা (নরসিংদী)

১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:৫৭
মেম্বারকে টাকা দেওয়ার পরও মিলছে না ভাতার কার্ড
বয়স্ক নারীরা (ফাইল ছবি)

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের ডা. নাজমা আক্তার নামে এক মহিলা মেম্বারের বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে বিপুল পরিমানে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তিনি মহেষপুর ইউনিয়ের ৭, ৮, ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বারের পাশাপাশি ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান। তিনিই এসব কার্ড করানোর নামে জনগনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সরজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি ভাতার কার্ড করে দিতে ওই মহিলা মেম্বার জনগণের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার বা তার থেকে বেশি অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। শুধু তাই নয় এতোগুলো টাকা করে দেওয়ার পরও সাধারণ জনগন সঠিক সময়ে পাচ্ছে না এসব ভাতার কার্ড।

এ দিকে এলাকাবাসীর কেউ কেউ বলছেন, সংশ্লিষ্ট দফতরের সহযোগিতায়ই দিনের পর দিন এসব মেম্বার সহ অন্যান্য দালালেরা এভাবে টাকা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় টাকা নেওয়ার পরও কার্ড হয় না। তখন সাধারণ জনগন তাদের ভয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইতে পারে না।

মিনা বেগম (ছদ্মনাম) নামে একজন প্রতিবন্ধী মহিলা বলেন, নির্বাচনে পাশ করার পরই নাজমা মেম্বার প্রতিবন্ধী কার্ড করাতে আমাদের বাড়িতে আসেন। পরে তিনি ভাতার কার্ড করিয়ে দেওয়ার নামে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নিয়ে যান। পরে কার্ড বাবদ ৬ হাজার টাকা দাবি করলে আমি ওনাকে অনেক কষ্টে ৩ হাজার টাকা দিতে পেরেছি। বাকি টাকা না দিতে পারায় এখনো আমার কার্ড হয়ে আসেনি।

তিনি আরও বলেব, টাকা দিলে তিনি অতি দ্রুত আমার কার্ড করিয়ে এনে দিবেন। আমাদের সাথে আরও অনেকেই ৫-৬ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। তাদের কারোরই কার্ড হয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার ডা. নাজমা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভাতার কার্ড বাবদ আমি কোনো টাকা নেইনি। এটি সর্ম্পূণ মিথ্যা। আপনি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন। তিনি তো জানেন আমি কেমন...! আমাকে প্যানেল চেয়ারম্যান বানানোর কারণে বাকি মেম্বারগন আমার বিরোদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

পরে বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মহেষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন চাঁন মিয়া খাঁ এর সাথে। ভাতার কার্ড বাবদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি সু-কৌশলে স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি শোনার পর আমি ডা. নাজমা মেম্বারকে ডেকে আনি তখন তিনি আমাকে জানান, ২-১ জন লোক ভাতার কার্ড বাবদ দুই হাজার বা তার কিছু কম বা বেশি টাকা তার ঘরে ঢিল দিয়ে রেখে চলে যান। পরে সে তাদের ডাকলে তারা টাকা না নিয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সজিব সাংবাদিকদের বলেন, এখন অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে ভাতার কার্ডের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া রায়পুরা উপজেলায় বয়স্ক ও বিধবা ভাতার বরাদ্দ দুই বছর ধরে নাই এ বছর ও আসবে না তাহলে ওই মেম্বার কিশের ভিত্তিতে টাকা নেয়। আমি এখনি বিষয়টা নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলব পাশাপাশি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলব এবং ওই মেম্বারকে আমি ডাকাব এবং তাকে প্রাথমিকভাবে আমরা সাবধান করব।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড