• সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ওএমএসের চাল বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে!

  নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:৩৯
ওএমএসের চাল

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডিলারদের বিরুদ্ধে ওএমএসের ১৬ টন চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজসে এই চাল বিক্রি করে দেন ডিলাররা। রবিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটেছে। বিকালে বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে জানাজানি হলে সন্ধ্যার দিকে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে হাতেগোনা কয়েক বস্তার করে চাল নেয় ডিলাররা। ফলে দ্রব্যমূল্যের বাজার সহনীয় রাখতে যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে চলেছে।

জানা যায়, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে দ্রব্যমূল্যের বাজার সহনীয় রাখতে ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে পৌর শহরের চারটি স্থানে নিম্ম আয়ের মানুষজনকে স্বস্তি দিতে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও ১৮ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। বছরে ৫ মাস এই কার্যক্রম চলবে। ফলে শহরের ১৬‘শ পরিবার প্রতিদিন ৫ কেজি করে চাল ও ৩ কেজি করে আটা নিতে পারবে। ফলে একজন ডিলার প্রতিদিন দুই টন করে এই চাল বিক্রি করবে। আর দুই দিন পর পর চার টন করে একজন ডিলার সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে প্রতি কেজি ২৮ টাকা দরে সরবরাহ নিবে। কিন্তু রবিবার চারজন ডিলারের ১৬ টন চাল সরবরাহ নেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলমের যোগসাজসে প্রতি কেজি ৩৭ টাকা দরে এসব চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। তারা হলেন, রুবেল মিয়া, জাকির হোসেন, মস্তফা মিয়া ও রায়হান মিয়া।

বিষয়টি জানাজানি হলে বিকাল ৫টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারি খাদ্য গুদামে গেলে অফিস টাইম শেষ হওয়ায় কাউকে খুঁজে পায়নি। তবে, মুঠোফোনে এলএসডি গোডাউনের ইনচার্জ মো. সালাউদ্দিন ভূইয়া জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

পরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তিনি জানান, চালগুলো এখনও ডিলাররা তাদের গোডাউনে নেয়নি। চালগুলো কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা চুপসে যান। এ বিষয়ে ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রায়হান মিয়া ও জাকির হোসেন চাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা চালগুলো এখনও নেইনি। তবে, রুবেল মিয়া জানান, তিনি চাল নিয়েছেন। কিন্তু খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলছে চাল নেননি। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- সুর পাল্টে বলেন আমি অর্ধেক নিয়েছি, বাকীটা পরে নিবো।

এদিকে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে সন্ধ্যার দিকে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে ওএমএস ডিলার রায়হান মিয়া ৩০ বস্তা, মস্তুফা মিয়া ২৫ বস্তা, জাকির হোসেন ১৮ বস্তা এবং রুবেল মিয়া ৩৯ বস্তা চাল ডেলিভারি নেন। অথচ, তারা প্রত্যেক ১৩৩ বস্তা করে চাল সরবরাহ নেওয়ার কথা ছিল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যের বাজার সহনীয় রাখতে ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে নিন্ম আয়ের মানুষজনকে স্বস্তি দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যদি এই চাল নিয়ে হরিলুট শুরু হয়। তাহলে কেউ রেহাই পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড