• মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দালালমুক্ত শরীয়তপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস

  সাইফুল ইসলাম, শরীয়তপুর:

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৩
শরীয়তপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
শরীয়তপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। ছবি- অধিকার

শরীয়তপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ও গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পাসপোর্ট অফিস। অফিস কর্তৃপক্ষ দালালদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চালিয়ে দালাল চক্রের অপতৎপরতা বন্ধের ঘোষণা দেন অফিসটির সহকারী পরিচালক সাদ্দাম হোসেন।

একই সাথে দালালদের সাথে অফিসের কারও যোগসাজশ নেই এবং কারও মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন প্রকার ঘুষ গ্রহণ করা হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ৬ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পাসপোর্ট করতে আসা আবেদনকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহকদের কোন প্রকার হয়রানি বা তাদের ফরম ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ফরমে ভুলত্রুটি থাকলে সংশোধন করে নিয়ে আসতে বলা হয়।

আংগারিয় ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল বলেন, আমি শুনেছি পাসপোর্ট অফিসে দালাল ছাড়া ফাইল জমা নেয় না। ভুলভ্রান্তি ধরে তা ফেরত দেওয়া হয়। বিষয়টি শুনে আমি এক রাজনৈতিক বড় ভাইকে ফোন দিয়ে আমার পাসপোর্টের বিষয়টি তদবির করতে বলি। তিনি আমাকে জানান পাসপোর্ট অফিসে কারও তদবিরে কাজ হবে না। কাগজপত্র ঠিক থাকলে এমনিতেই হয়ে যাবে। পরে আমি পাসপোর্ট ফরম জমা কাউন্টারে নিয়ে গেলে নির্ভুল থাকায় আমারটা জমা নিয়ে ফিঙ্গার করতে পাঠায়। আমি দালাল ছাড়াই পাসপোর্ট করেছি। কোর্ট চত্বরে দালালের ছড়াছড়ি কারও কাছে কিছু জানতে চাইলে তারা নেগেটিভ কথা বলে।

জাজিরা উপজেলার নাওডোবা থেকে পাসপোর্ট করতে আসা মিরাজ মাঝি বলেন, আমি নিজে পাসপোর্ট করতে এসেছি। আমি শুধুমাত্র সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দিয়েছি পাসপোর্ট অফিসে ফরম জমা দিয়েছি। আমার বাড়তি কোনো টাকা লাগেনি। আমি দালালের সহায়তাও নেইনি। আমার কাগজপত্র ঠিক ছিল তাই আমাকে কোন প্রকার হয়রানির শিকার হতে হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সভাপতি এড্যাঃ রাশেদুল হাসান মাছুম বলেন, নিজেরা সচেতন না হলে কোন দিনও প্রতিকার হবে না, যারা পাসপোর্ট করতে আসে তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষেই এখনও জানে না কিভাবে একটা ফরম পূরণ করতে হয়। তারা চেষ্টাও করে না। এখন অনলাইনে সব ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তারপরও আমরাই এর ওর পিছনে ঘুরি, আর হাতে পায়ে ধরি, যে কোনো একটা অফিসে গিয়ে নিজের কাজ নিজে করতে একজন সচেতন মানুষও দায়িত্ব এড়িয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন,এই দালালদের তো আমরাই সৃষ্টি করেছি। কোনো অফিসে যখন কোনো ফাইল বা কাগজ ফিরিয়ে দেয়, আমরা হতাশ হয়ে ফিরে আসি। তারা কত বার ফিরিয়ে দিবে? আমাদের ধৈর্য নেই। তাই তখন দালালকে খুঁজি। তখন যদি জবাবদিহি করা হতো, বা কেন কি সমস্যা এই প্রশ্ন করে নিজের ভুল নিজে জানতে চাইতো, এবং সঠিক উত্তর দিতে পারতো তা হলে আজ আমাদের এই দিন দেখতে হতো না।

অফিসটির সহকারী পরিচালক সাদ্দাম হোসেন দৈনিক অধিকারকে বলেন, কয়েকটি মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হয়েছে যে, দালালদের মাধ্যমে অফিসে ঘুষ না দিলে গ্রাহকদের ফরম জমা নেওয়া হয়না। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারও ফরমে ভুলত্রুটি থাকলে তাদের ফরম সংশোধন করে আনতে বলা হয়। এছাড়া কারও ফরমই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। পাসপোর্ট অফিস ও সামনের সড়ক সিসি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।

দালালরা পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে ঘেষতে পারে না। অফিসের গেইটে সার্বক্ষণিক আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাসপোর্ট আবেদনকারী ছাড়া অফিসে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। দালাল চক্র অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা গ্রাহকদের ভুল বোঝাচ্ছে যে, অফিসে টাকা না দিলে ফরম জমা নেওয়া হয় না। দালালদের বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন সাদ্দাম হোসেন।

একই সাথে তিনি দালালদের অপতৎপরতা বন্ধে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে বলে জানান।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড