• মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জীবন বাঁচানোর দাবিতে সড়কে অবসরে যাওয়া চিনিকল শ্রমিকরা

  মাহফুজ আলম প্রিন্স, রংপুর

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:৫৩
জীবন বাঁচানোর দাবিতে সড়কে অবসরে যাওয়া চিনিকল শ্রমিকরা
বিক্ষোভরত অবসরে যাওয়া চিনিকল শ্রমিকরা (ছবি : অধিকার)

রংপুরের শ্যামপুর চিনিকলের সামনে গ্রাচুইটি এবং পিএফ ফান্ডের টাকার দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারী-কর্মকর্তারা।

এ সময় বক্তারা বলেন- কর্মরত থাকা অবস্থায় পাওনাদি না পেয়ে আমরা কখনো অর্ধাহারে কখনো অনাহারে দিন পার করছি। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ দিতে পারছি না। টাকার অভাবে অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। আমরাও একই পথের পথিক হয়েছি। সে জন্য বাধ্য হয়ে আমরা এই আন্দোলনে নেমেছি।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘণ্টা ব্যাপী চিনিকলটির সামনে অবস্থান নেন প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ সময় তারা সেখানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেন। ‘গ্র্যাচুইটির টাকা দে, নইলে গদি ছেড়ে দে, অবসরভাতা বকেয়া কেন প্রশাসন জবাব দে, এই দাবি ভাত কাপড়ের, এই দাবি জীবন বাঁচানোর’ এমন নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। অনেক অসুস্থ, বয়স্ক শ্রমিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সেন্টার ইনচার্জ মাহমুদুল হাকিম বলেন, ২০১৭ সালে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এখনো আমি গ্যাচুইটির টাকা পাইনি। খুব দুর্বিসহ জীবনযাপন করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনতি আমাদের গ্রাচুইটির সামান্য টাকাটা দিয়ে দিন।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন বলেন, আমি ৪০ বছর চাকরি করার পর রিটায়ার্ড করেছি। তখন থেকে শুনছি ২০০ কোটি, ২৫০ কোটি টাকা আসছে। কিন্তু আমরা টাকা পাচ্ছি না। এটা কোন ধরনের কথা।

তিনি আরও বলেন, সরকার কি জানে না ছয়টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, তাদের টাকা দিতে হবে।

শ্যামপুর চিনিকল অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সরকার ডাবলু বলেন, প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আমরা অবসরে গেছি। ১৩ হাজার মানুষ নিয়ে আমাদের পরিবার। আমরা সবাই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এদেশে এখন অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। কিন্তু চিনি শিল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা না খেয়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেকেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। তারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজ যেতে পারছে না।

তার দাবি, আমরা সারাজীবন চাকরি করে এই শিল্পকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি। এখন আমরা অবসরকালীন ভাতা পাচ্ছি না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ দিয়েছি। আমাদের দাবি অক্টোবরের মধ্যে আমাদের পাওনা যেন সরকার দিয়ে দেয়। যদি না দেয়া হয় তাহলে আগামী ২৩-২৪ সেশনে যে মাড়াই কার্যক্রম আসবে সেখানে আমরা মাড়াই করতে দেবো না। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মিলগেটে অবস্থান ধর্মঘট করব।

একই সঙ্গে তিনি শ্যামপুর চিনিকলসহ বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবি জানান।

পরে দাবি আদায়ে শ্যামপুর চিনিকলের এমডির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ বিষয়ে এমডি আহসান হাবিব বলেন, আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমিও চাই শিগগিরই তাদের পাওনা দেওয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, শ্যামপুর চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্র্যাচুইট, ছুটি বাবদ ১৪ কোটি এবং ভবিষ্যৎ তহবিলের সাত কোটি ৬১ লাখ মোট ১৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা দীর্ঘ দিন থেকে বকেয়া রয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- শ্যামপুর চিনিকল অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সরকার ডাবলু, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন, সাবেক উপ-সহকারী আখ উন্নয়ন কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী, উপ-আখ ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম, আখ সেন্টার ইনচার্জ মাহমুদুল হাকিম ও আকমল হোসেন প্রমুখ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড