• রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আট মাসে ৯৬৯ মামলা নিষ্পত্তি, স্বস্তিতে বিচার প্রার্থীরা

  মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান)

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:২২
আট মাসে ৯৬৯ মামলা নিষ্পত্তি, স্বস্তিতে বিচার প্রার্থীরা
আদালত (ফাইল ছবি)

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা শহরের প্রবীণ বাসিন্দা ফার্মেসি ব্যবসায়ী সজল কান্তি দাশ ও পুত্র রুবেল দাশ। ২০২১ সালে সম্পত্তি নিয়ে দেখা দেয় এ পিতা-পুত্রের মধ্যে বিরোধ। একে অপরের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। একটি মামলা হতে গড়ায় চারটি পর্যন্ত। পিতা-পুত্রের এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইভাগে বিভক্ত হয় এখানকার হিন্দু সমাজও। সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টার পরেও কোনোভাবেই সমাধান করা যায়নি এ বিরোধ। উপরন্তু পিতা-পুত্রের সম্পর্ক গড়ায় দা-কুড়ালে।

তাই মানবিক দিন চিন্তা করে বিষয়টি সমাধানের লক্ষে আমলে নেন, উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. বেলাল উদ্দিন। তার উদ্যোগে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হলে পিতা পুত্রের মধ্যে পুনরায় ফিরে আসে সু-সম্পর্ক।

এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন পিতা-পুত্রসহ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে পুত্র রুবেল দাশ আদালতের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমাদের মাঝে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল একে অপরের চেহারা পর্যন্ত দেখতে ঘৃণা হতো। এ মামলা নিষ্পত্তি না হলে আমাদের মধ্যে খুনোখুনির ঘটনা ঘটারও সম্ভাবনা ছিল। ঠিক সময়ে আদালতের মধ্যস্থতায় আমাদের মামলাগুলো নিষ্পত্তি হওয়ায় আমরা এখন আগের মত একসাথে বসবাস করছি। আমাদের মাঝে ফিরেছে সেই পিতা পুত্রের সম্পর্কও।

এ ধরনের আরও অনেক মামলা চলমান ছিল, যেগুলো বহু বছর ধরে ঝুলে ছিল। কিন্তু গত আট মাসেই এ রকম ৯৬৯টি মামলার রায় হয়েছে বলে জানা গেছে উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে।

শুধু যে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার রায় হয়েছে তা নয়, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দক্ষতায় মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাজট এখন অনেকটাই কমে এসেছে। মোট কথা ৮ মাসে ৯৬৯টি মামলা নিষ্পত্তি করে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন বিজ্ঞ বিচারক মো. বেলাল উদ্দিন। এতে আদালতের প্রতি আস্থা ফিরছে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

আপোষ যোগ্য মামলায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবুর রহমানের নির্দেশনায় নিরলস কাজ করে বিচার নিষ্পত্তিতে বেশিরভাগ আপোষ করিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেছেন চৌকি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. বেলাল উদ্দিন। এতে বিচারপ্রার্থীরা উৎসাহিত হয়ে পরস্পর হাতে হাত মিলিয়ে স্বেচ্ছায় মামলা তুলে নিচ্ছেন খুশি মনে। স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্রের মধ্যে মিল, স্ত্রীর মোহরানা আদায় করে দেওয়া, সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তিসহ জাল জালিয়তকারীকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে কঠোর হস্তে দমন করা হয়েছে।

নিষ্পত্তির পেছনে সময় বেশি লাগার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, মামলা করার পর তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন তৈরি করে অভিযোগপত্র দায়ের করা হলে তার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। তারপর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাক্ষী হাজিরে অনীহা, চিকিৎসক হাজির না হওয়া, সাক্ষী হাজিরের ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতার অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি লাগত। ফলে মামলাজটের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছিল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২১ সালে আদালতে যোগদান করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. বেলাল উদ্দিন। যোগদানের পর থেকে তিনি আইনের সেবা দিতে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আপোষ যোগ্য মামলা স্বামী-স্ত্রীর অমিল, পিতা-পুত্রের অমিল, মোহরানা আদায়, সীমানা বিরোধ, জাল-জালিয়াতি বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করিয়ে দেন। তিনি যোগদানকালে আদালতে মামলা ছিল ১০৭৫টি।

প্রতিমাসে গড়ে মামলা দায়ের হয় ১০০টি। এর মধ্যে ১২ ডিসেম্বর ২০২১ হতে ৩১ জুলাই ২০২২ পর্যন্ত ৮ মাসে তিনি মামলা নিষ্পত্তি করেন ৯৬৯টি। বর্তমানে মামলা রয়েছে ৮৬৪টি।

নিস্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে অনেক বছরের পুরানো মামলাও রয়েছে। এখন আর ৫ বছরের অধিক কোন মামলা নেই এ চৌকি আদালতে।

মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে লামা উপজেলা আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাদেকুল মাওলা ধ্রুব ও সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন মিয়াসহ সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহীম এক সূরে বলেন, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অত্র আদালতে যোগদানের পরে এক বছরের চেয়েও কম সময়ে যে পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি করেছেন, এতে পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। বিচার প্রার্থী জনগণ আইনের সুফল পাচ্ছেন।

অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. বেলাল উদ্দিন নিজ দক্ষতায় এত সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করে সমগ্র দেশের মধ্যে এক নজির বিহীন ঘটনা সৃষ্টি করেছেন বলেও জানান তারা।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড