• মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অভিমানে গৃহত্যাগ

যুবক বয়সে বাড়ি ছেড়ে ফিরলেন বৃদ্ধ হয়ে

  রফিক, গাইবান্ধা

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:০৭
যুবক বয়সে বাড়ি ছেড়ে ফিরলেন বৃদ্ধ হয়ে
কুদ্দুস মুন্সী (ছবি : অধিকার)

অভিমান করে যুবক বয়সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ৪৭ বছর পর নিজ গৃহে ফিরে এসেছেন কুদ্দুস মুন্সী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ। বাবার পিটুনি খেয়ে অভিমান করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার হাজিরহাট গ্রাম থেকে বের হয়ে চলে যান দিনাজপুর জেলার রানীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে। স্বজনদের ধারণা- সে হয়তো মারাই গেছে। অবশেষে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর বাড়ি ফিরলেন তিনি।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) রংপুরের পীরগঞ্জের কুমেতপুর এলাকা থেকে কুদ্দুস মুন্সীর অভিমান ভাঙিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। এর আগে, হাজিরহাট গ্রামের প্রতিবেশী হারুন মিয়া দিনাজপুরের রানীগঞ্জের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান সেখানে কুদ্দুস মুন্সীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। এ সময় হারুনকে চিনে ফেলেন কুদ্দুস। পরে পরিচয় জানাজানির ভয়ে রংপুরের পীরগঞ্জের কুমেতপুর এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন কুদ্দুস মুন্সী।

কুদ্দুস মুন্সী পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের হাজিরহাট গ্রামের মৃত্যু খোকা মুন্সীর ছেলে।

কান্না জড়ানো কণ্ঠে কুদ্দুস মুন্সীর ছেলে আবদুল করিম মিয়া বলেন, আব্বাকে জন্মের পর দেখিনি। মা বলতো, তোর বাপ হারাইছে। কই গেছে কেউ জানে না। দেখিস একদিন ফির বাড়ি আসবে।

তিনি আরও বলেন, আব্বা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর মা আর বিয়ে করেনি। মা নিজেই জমিতে কৃষি কাজ আর গরু পালন করে সংসার টিকিয়ে রাখছে। অনেক কষ্ট করে আমাকে লালন-পালন করেছে। খেয়ে না খেয়ে আমার মা-ই সংসারটা আকলে রাখছে।

এ নিয়ে কুদ্দুস মুন্সীর নাতী নাইম মিয়া বলেন, জন্মের পর দাদাকে দেখিনি। শুনছি-দাদা হারাইছে। এখন দাদাকে কাছে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।

নাইম আরও বলেন, ২৩ বছর বয়সী যুবক কুদ্দুস মুন্সী পার্শ্ববর্তী গ্রামের রোকেয়া নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। দেড় বছরের মাথায় তাদের কোলজুড়ে আবদুল করিম নামে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

সে সময় প্রতিবেশীর একটি ছাগল ধরে, বেঁধে রাখার অপরাধে কুদ্দুস মুন্সীকে পিটুনি দেয় তার বাবা। পরে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে দিনাজপুর জেলার রানীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে অপরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।

এরপর সেখানে বিভিন্ন কলকারখানায় কাজসহ নানাভাবে জীবন-যাপন করছিলেন তিনি। কিছুদিন পর সেখানে বসতি গড়ে আরেকটা বিয়ে করেন। সেখানে তার দুটি সন্তানও রয়েছে।

এ দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। কিছুদিন পর স্বজনরা ধারণা করেন, কুদ্দুস হয়তো মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন পর পরিবারকে কাছে পেয়ে আনন্দে তার চোখেমুখে ছিল খুশির উচ্ছ্বাস। বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা জানতে চাইলে- কুদ্দুস মুন্সী বলেন, ‘৪৭ বছর আগে একটা ছাগল ধানের জমিতে ধান খায়। সে জন্য ছাগলটা ধরি আনি গাছের সাথে বাঁধি রাখছিনু। এ জন্যে হামাক আব্বায় লাঠি দিয়ে মারে। পরে গোসা করি বাড়ি ছাড়নু। প্রতিজ্ঞে করনু, আর বাড়িত যাবার নম।'

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিজ্ঞে পালন করবের যায়া, আর বাড়িত যাওয়া হয় নাই। কষ্ট হচে সব ছাড়ি থাকা। তাও আছনু।’

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন দুটে ঘর, দুটে সংসার। যতদিন বাঁচি আছি-হেটেও থাকমো, হোটেও থাকমো। এই বয়সে এখন আর গোসা করি কি হবি। তাই বাড়িত আসনো। এখন দুই বউ ছোলপোল নিয়ে থাকমো।'

নিজ বাড়িতে কুদ্দুস মুন্সীর ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ওই এলাকার ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের মাধ্যমে তার পরিচয় পাওয়া যায়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড