• সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিলুপ্তির পথে গারো পাহাড়ের মাটির ঘর

  এমদাদুল হক লালন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)

০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৫৪
বিলুপ্তির পথে গারো পাহাড়ের মাটির ঘর
গারো পাহাড়ের মাটির ঘর (ছবি : অধিকার)

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে গাড়ো পাহাড়ে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া - ঘেরা মাটির তৈরি ঘর এখন বিলুপ্তির পথে।

সচরাচর আর দেখা যায় না। এক সময়ের মনোমুগ্ধকর বসবাসে আদিবাসীদের কাছে মাটির ঘর গরিবের এসি ঘর হিসাবে বেশ পরিচিত এই শান্তির নীড় মাটির ঘর কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। ইট, বালু ও সিমেন্ট, টিন, কাঠের প্রাচীরঘেরা দুর্গে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই মাটির ঘরের কথা এখন আর কারও মনিকোঠায় নেই।

পাহাড়ি ঘেঁষা এই উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ধানুয়া কামালপুর সাতানিপাড়া, বালুঝুরি গারোপাহাড়ে আদিবাসীদের এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর প্রাচীনকাল থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল, তা এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। সাধারণত এসব মাটির ঘর তৈরি হতো এঁটেল বা আঠালো মাটি কাঁদায় পরিনত করে, খড় বা টিন দিয়ে উপরে ছাউনি দেয়া হতো। এক সময় খড়-ছনের ছাউনিই ছিল বেশি।

বাপ-দাদার তৈরি করা মাটির ঘর সংস্কার করে কোনো কোনো স্থানে উপরে টিন ব্যবহার করা হচ্ছে৷ বালুঝুড়ি গ্রামের আদিবাসী প্রমিলা সাংমা বলেন, আমাদের বাড়িতে ৩টি পরিবারের বসবাস। দেড় দশক (১৫ বছর) ধরে আমাদের বাড়ির প্রতিটা ঘর মাটির ছিলো ।কিন্তু যুগ পরিবর্তনের সাথে বাড়ির চিত্র পাল্টে যাচ্ছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে একটি পাকা ঘর পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, যতোই টিনের ঘর আর অট্টালিকায় থাকিনা কেন, মাটির ঘরে থাকার মতো যে স্বাচ্ছন্দ আর তৃপ্তিদায়ক। ছন বাঁশের ছাউনির মাটির ঘরে প্রাকৃতিক এয়ারকন্ডিশন হিসাবেই পরিচিত।

তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড গরমে আরাম দায়ক এই মাটির ঘরে বসবাস করলেও অন্যরকম শান্তির অনুভূতি পাওয়া যায়। শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতো মানুষেরা। এখন কয়েকটি গ্রাম ঘুরেও তেমন মাটির ঘর খোঁজে পাওয়া যাবে না। দিন দিন মানুষ বড় বড় টিনের আধাপাকা ঘরে বসবাস করে, প্রাকৃতিক এই শান্তির নিবাস মাটির ঘর ভুলে গেছে।

এদিকে, উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে সাতানিপাড়া, সোমনাথ পাড়া, লাউচাপড়া, বালুঝুরি,গারামারা, টিলাপাড়া, দিঘলকোনাসহ কিছু কিছু গ্রামে মাটির ঘর এখনো দেখা যায়।

এসব এলাকায় বসবাসরত বাঙালি, গারো, মং ও চাকমারা জানান, প্রচণ্ড গরম ও শীতে বসবাসের উপযোগী ছিল এই মাটির ঘর। ধনী-গরিব সবাই সেই মাটির ঘরে বসবাস করতো। তবে কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত হতে বসেছে মাটি দিয়ে তৈরি এই ঘর। ছন আর বাঁশের ছাউনিতে মাটির ঘর প্রাকৃতিক শান্তির নিবাস, আরাম দায়ক মনে করতো এলাকার বাসিন্দারা। তাই এসব এলাকার কিছু কিছু পরিবার বাপ-দাদার তৈরি মাটির ঘর সংস্কার করে এখনো ধরে রেখেছেন।

রঙ্গিলা চাকমা বলেন, আমার ঠাকুরদাদু প্রায় ২৫/৩০ বছর আগে মাটির একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। তখনকার সময়ে এই ঘরটি নির্মাণ করতে প্রায় ৫/৬ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন এই ধরনের ঘর তৈরি করতে প্রায় ৩০/৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় আরাম দায়ক মাটির ঘর হারিয়ে যাচ্ছে।

ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য অঞ্জলি বলেন, এই উপজেলার পাহাড়ি যায়গায় এখনো অনেক মাটির ঘর রয়েছে। বাপ-দাদার তৈরি করা এই মাটির ঘর প্রতি বছর কিছুটা মাটি দিয়ে সংস্কার করে আজও বসবাস করছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড