• শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

'তুই আমাকে চিনোছ, আমার নাম দাড়োগা আরিফ'

ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে থানায় মারধরের শিকার বাবা

  রফিক খান, মানিকগঞ্জ:

২১ আগস্ট ২০২২, ১৪:৩২
গার্মেন্টস কর্মী সুজন হোসেন
মারধরের শিকার গার্মেন্টস কর্মী সুজন হোসেন। ছবি-অধিকার

মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর জানতে গিয়ে শিবালয় থানা পুলিশের এএসআই আরিফের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন সুজন হোসেন (৩০) নামের এক গার্মেন্টস কর্মী।

শনিবার (২০ আগষ্ট) বিকালে শিবালয় থানার ভিতরে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সুজন হোসেনের ৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে শিবালয় উপজেলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার ছোট ভাই। এই ঘটনা জানার পরে সুজন ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসেন। এরপর এলাকায় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ার এলাকায় এই ঘটনার কোনো বিচার পাননি তিনি। পরে বিচারের দাবিতে শিবালয় থানায় গত ১৪ আগষ্ট একটি লিখিত অভিযোগ দেন সুজন। কাজের জন্য স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন সুজন। দুদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছেন তিনি। কর্মস্থল ঢাকায় যাওয়ার আগে গতকাল (২০ আগষ্ট) অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর জানতে শিবালয় থানায় যান সুজন। সেখানে গিয়ে থানা পুলিশের সদস্য এ এস আই আরিফের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সুজন হোসেন।

মারধরের শিকার সুজন হোসেন শিবালয় উপজেলার বাসিন্দা। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৬ থেকে ৭ মাস আগে আমার শিশু মেয়ের সাথে শারিরিক খারাপ আচরণ করে উপজেলা আ. লীগ নেতার ভাই। পরে স্থানীয় মুরুব্বিরা ওই ঘটনার মিমাংসা করে দেন। এই ঘটনা আমি জানতাম না। এরপরে আবারও তিনি আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে আমি জানতে পেরে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসি এবং এলাকায় মুরুব্বিদের কাছে বিচার চাই। তার অপারগতা প্রকাশ করলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে থানায় যাই।

তিনি বলেন, এলাকায় বিচার না পেয়ে শিবালয় থানায় অভিযোগ করি গত ১৪ আগষ্ট। সেই অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল বিকেলে আমিসহ আমার মেয়ে ও মাকে নিয়ে থানায় যাই। থানায় ওসি স্যার না থাকায় এএসআই আরিফ আমাকে ডাকলে তার কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বলি। এরপর আমি চলে আসার সময় আরিফ (এএসআই) পিছন থেকে আমার শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে ওসি স্যারের রুমের পাশের একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে গালিগালাজ করে এবং অনেক মারধর করে। আরিফ বলে তুই কি জানস কার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিছোস।

সুজন বলেন, তুই এইটা নিয়া বেশি বাড়াবাড়ি করতাসোছ, তুই আমাকে চিনোছ, তুই দাড়োগা আরিফরে চিনোস, আমার নাম দাড়োগা আরিফ। তুই কার লগে লাগসোছ। পরে আমি বলি স্যার আমি কাওরে চিনি না, আমি আইছি আমার অভিযোগের বিষয়ে জানতে। আমাকে গালি দিয়া আরিফ(এএসআই) বলে, তুই কার লগে লাগোছ। তুই বেশি কথা কবি, তরে এহনি দুই পা উপরে ঝুলায়ে বাইরাইয়া-পিটায়ে কোর্টে চালান করে দিমু। পরে আমারে দুইটা লাথি মাইরা ওইখান থেকে বাহির করে দিছে। এরপর আমি সেখান থেকে চলে আসি।

বিচারের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন বলেন, আমার মতো বিচারের জন্য থানায় যারা যাবে তারা যেন সঠিক বিচার পায়। এবং পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার না হয়। ভুক্তভোগী এই পিতা সেই পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

এ বিষয় জানতে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. শাহিনের সরকারি মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয সার্কেল) নুরজাহান লাবনী বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় করা মামলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড