• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ সাত দফা দাবি এলাকাবাসীর 

  শেখ শান্ত ইসলাম, খুলনা

১৭ আগস্ট ২০২২, ১৭:২২
টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ সাত দফা দাবি এলাকাবাসীর 
সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে (ছবি : অধিকার)

খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন ঘেঁষা দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে নদীশাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ ৭ দফা দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- গোলখালী গ্রামের টিএম আমিরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম নূর। তিনি প্রতিবছর বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবার শঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দাবিসমূহ হলো- অবিলম্বে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের তিন পার্শ্বের শাখবাড়িয়া ও আড়পাঙ্গাশিয়া নদী এবং কপোতাক্ষ নদে নদীশাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা। উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত সকল বেড়িবাঁধ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নদীশাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের জলবায়ু ও পুনর্বাসন তহবিলে সরকারি বিশেষ বরাদ্দে গৃহনির্মাণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। সাতক্ষীরা পওর ১৩, ১৪/১ ও ১৪/২নং পোল্ডার খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি রাস্তা-ঘাট সংস্কার ও পাকাকরণ। স্কুল-মাদরাসা ও ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মীয় উপাসনালয় মেরামত করা। প্রতিটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রকল্পের সার্বিক বিবরণী টাঙানো বাধ্যতামূলক করা এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব চরম অবহেলা এবং আর্থিক অসাধুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আড়পাঙ্গাশিয়া ও শাকবাড়িয়া নদী এবং কপোতাক্ষ নদে বেষ্টিত প্রায় বদ্বীপ ভূ-খণ্ড দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নটি। পাকা রাস্তাবিহীন (সমগ্র এলাকায় একটি পিচের রাস্তা নেই) অবহেলিত এ ভূখণ্ডে বসবাসরত প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ নোনাপানিতে নিমজ্জিত।

তার দাবি, সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট চরামুখায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে; এখনো চলছে জোয়ার-ভাটা। মাসখানেক আগেও একইস্থানে বেড়িবাঁধটির তিনশ’ মিটার দৈর্ঘ্যে ভেঙেছিল, যা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামত করেছেন স্থানীয়রা। বেড়িবাঁধটি ভাঙনের পর প্রায় এক মাস সময় পেলেও বিপুল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বেড়িবাঁধ সংস্কার বা মেরামতে এগিয়ে আসেনি নিষ্ঠুর সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেছেন, খুলনার অন্তর্গত কয়রা উপজেলাধীন দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নটি সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হওয়ায় সেই ষাটের দশক থেকেই বিমাতাস্বরূপ আচরণে টেকসই বেড়িবাঁধ নিরাপত্তা বঞ্চিত এলাকাবাসী। তাই অবিলম্বে নদীশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্যদিয়ে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তার মতে, নদীশাসন ব্যবস্থাসহ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না গেলে, বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে আমাদের জন্মস্থান প্রিয় দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নটি। একই সাথে সাতক্ষীরা পওরর ১৩, ১৪/১ ও ১৪/২নং পোল্ডারটি খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আনতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৪ আগস্ট সকালে চরামুখা খালেরগোড়া নামক স্থানে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়; ১৫, ১৬ ও ১৭ আগস্ট ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক অনাহারী মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে প্রাণপণ চেষ্টা করেও জনপদে নোনা পানির জোয়ার-ভাটা চলে। বুধবার স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রিং বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটা আটকানো সম্ভব হয়েছে। গত ১৭ জুলাই কপোতাক্ষ নদের একই স্থানে বেড়িবাঁধের মাত্র তিনশ’ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে অন্তত পাঁচটি গ্রাম নোনাপানিতে নিমজ্জিত হয়। পরদিন ১৮ জুলাই পাঁচ শতাধিক সহ মানুষ, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধের ভিতর দিয়ে রিং বাঁধ নির্মাণ করে লোকালয়ে জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে দেয়।

আশরাফুল ইসলাম নূর বলেছেন, ভেঙে গেছে বহু মানুষের বসতঘর, ভেসে গেছে মৎস্যঘের-মাছের পুকুর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমগ্র ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট। আর বর্তমান অবস্থা আরও শোচনীয়। মৎস্য ঘের-মাছের পুকুর ভেসে গেছে সব, তলিয়ে যায় অধিকাংশ গভীর নলকূপ ও মিঠাপানির পুকুর, বসত ঘর-বাড়িতে জোয়ার-ভাটা চলছে, অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে ও আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে কোনোমতে দু’বেলা, দু’মুঠো খেয়ে-না খেয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছে দক্ষিণ বেদকাশিবাসী।

তিনি জানান, দক্ষিণ বেদকাশির ৫ হাজার ৯৭১ একর আয়তনের প্রতি ইঞ্চিতে এখন নোনাপানিতে বিষাক্ত হয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গৃহপালিত পশু-পাখির মরদেহ ও মাছ পচা দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস ভারিয়ে হয়ে আসছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। দেখা দিয়েছে চর্মরোগসহ নানান ব্যাধি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মামুনুর রশীদ সোহেল, মো. কবিরুল ইসলাম, মো. আসমাউল হোসাইন সোহাগ, মো. জামাল হোসেন, মো. মাকসুদ আলম, মো. ইমরান খান, মো. আমীর হামজা, আলমগীর হোসেন মুন্না, আসাদুল ইসলাম ও সোহেল হোসেন প্রমুখ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড