• শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সড়কের বেহাল দশায় পর্যটক কমেছে ইকোপার্কে

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

০৫ আগস্ট ২০২২, ১৮:২৫
সড়কের বেহাল দশায় পর্যটক কমেছে ইকোপার্কে
সড়কের বেহাল দশা (ছবি : অধিকার)

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র নয়নাভিরাম বাঁশখালী ইকোপার্কের দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার জুড়ে সড়কের বেহাল অবস্থা। প্রধান সড়কের সাথে সংযুক্ত অভ্যন্তরীণ এ সড়কের দু'পাশ ভেঙ্গে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় খানাখন্দে রূপ নিয়েছে। পাহাড়ের পানি নেমে সড়কে খানাখন্দ ভরে যাওয়ায় সাধারণ পথচারী ও পর্যটকদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনিতেই সড়কের বেহাল দশা তার উপর সড়কটি সরু ও সংকুচিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের যানবাহনগুলো প্রবেশ করতে পারে না। অনেক সময় বিরক্তবোধ করে ফিরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে পার্কে আসা দূর-দূরান্তের পর্যটকরা। সড়কের এ বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের চলাচলে যেমন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে তেমনি নিত্য দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে পর্যটকরা।

গত বছর গেল বর্ষার ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পার্কের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির পার্ক থেকে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কালবার্ট ভেঙ্গে যাওয়াতে পর্যটক পৌছাতে পারেনা পার্কে। দীর্ঘপথ হেঁটে যেতে হয় পার্কে। কোনোরকম তক্তার সেতুতেই চলাচল করে দর্শনার্থীরা। কালবার্ট ভেঙ্গে যাওয়ার দেড় বছরের বেশি সময় গড়ালেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। অস্থায়ী কালবার্টের তক্তার বদল হয় কিন্তু স্থায়ী কালবার্ট নির্মাণ হয় না। সড়কের বিশাল অংশ ধ্বসে পড়ায় ইকোপার্কের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে ইকোপার্কে আগত দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। গত বছরের আগস্টের শেষ দিকের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এলাকাবাসীর চলাচল ও ইকোপার্কে পর্যটকদের যোগাযোগের একমাত্র সড়কের বিশাল অংশজুড়ে বিধ্বস্ত হয়। পায়ে হেঁটে ১ কিলোমিটার অতিক্রম করেই পার্কে যেতে হয় পর্যটকদের। সড়ক যোগাযোগের বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসী যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন তেমনি ইকোপার্কে দর্শনার্থীর আগমনও অনেকটা কমেছে। এর ফলে ইকোপার্কের ইজারাদারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া চুনতি অভয়ারণ্য ও বাঁশখালীর প্রায় এক হাজার হেক্টর পাহাড়ি এলাকা নিয়ে গত ২০০২-০৩ অর্থবছরে বাঁশখালী ইকোপার্কের যাত্রা শুরু হয়। ইকোপার্কের মূল আকর্ষণ হলো বামের ছড়া ও ডানের ছড়া পাশাপাশি দুটি পাহাড়ি ছড়া ঘিরে সৌন্দর্যমণ্ডিত নয়নাভিরাম উঁচু-নিচু অসংখ্য পাহাড়ি বনাঞ্চল। তা নিয়েই বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীনে গড়ে তোলা হয়েছে বাঁশখালী ইকোপার্ক।

২০০৮ সালের ১৮ আগস্টের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো ইকোপার্ক। এ সময় ইকোপার্কের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎপ্ল্যান্ট ডানের ছড়ার বাঁধ, অভ্যন্তরীণ সড়কব্যবস্থা সবই লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ছড়ার ওপর দেশের বৃহত্তম ঝুলন্ত সেতুসহ আকর্ষণীয় স্পটগুলো। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটিও। এর পরে ২০১২ থেকে শুরু করে বেশ কয়েক বছর ধরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ইকোপার্কের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হলেও মূলত ইকোপার্ক সংরক্ষণ সংস্কারের বড় ধরনের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইকোপার্কের মূল আকর্ষণ ডানের ছড়া ও বামের ছড়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।

সরকার ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর বনভূমি নিয়ে গড়ে তোলা হয় চুনতি অভয়ারণ্য। আর এ নয়নাভিরাম অভয়ারণ্যের বিশাল একটি অংশ নিয়েই গড়ে তোলা হয়েছিল বাঁশখালী ইকোপার্ক। তৎকালীন সময়ে ইকোপার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর থেকে প্রতি বছরই পর্যটকের আনাগোনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পার্কটি মেরামত ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি না করার ফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে পর্যটকদের উপস্থিতি।

সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আবার বাঁশখালী ইকোপার্কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করলে এক দিকে ইকোপার্কের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি পর্যটকের আশানুরূপ সাড়াও পাওয়া যাবে। এতে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে।

বাঁশখালী ইকোপার্ক সড়কের বেহাল অবস্থা ও কালবার্ট ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়ে ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ দৈনিক অধিকারকে বলেন, সড়কটির মেরামতের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে পার্কের অদূরে কালবার্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় পার্কের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে জরুরি ভিত্তিতে কালবার্ট নির্মাণের জন্য বলা হলেও কোন সুরাহা হয়নি। পরবর্তী আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তক্তার সেতু তৈরি করে দিই কোন মতে। এতে যানবাহন চলাচল করা যায় না।

সড়কের বিষয়টি জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ দৈনিক অধিকারকে বলেন, ওই সড়কটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। সড়কের বিষয়ে বাজেট প্রস্তাবও পাঠিয়েছি। ব্রিজটিও সংস্কার করা হবে দ্রুত। আশা করছি নান্দনিক একটি সড়ক হবে বাঁশখালী ইকোপার্ক সড়কটি।

বাঁশখালী ইকোপার্কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, বাঁশখালী ইকোপার্ককে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। আশা করছি দুর্বল অবকাঠামোর সংস্কার হবে পাশাপাশি পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনে কাজ করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড