• শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জাল স্বাক্ষরে তিনজন শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে সোচ্চার এলাকাবাসী

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

০৫ আগস্ট ২০২২, ১১:৪৮
জাল স্বাক্ষরে তিনজন শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে সোচ্চার এলাকাবাসী
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এস, এম আব্দুস সাত্তার আজাদ (ছবি : অধিকার)

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস, এম আব্দুস সাত্তার আজাদের অনিয়ম দুর্নীতি ও জাল স্বাক্ষরে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধরইল বাজারে বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সচেতন এলাকাবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন- ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু সাইদ তালুকদার, বাঙ্গালা ইউনিয়ন স্বেচ্চাসেবকলীগের সভাপতি সোহেল রানা, বাঙ্গালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আতিক তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠুসহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস, এম আব্দুস সাত্তার আজাদ অনিয়ম দুর্নীতি ও জাল স্বাক্ষরে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করেন। ২০১৫ সালে তার শ্যালিকা, ভাতিজা ও স্বজনকে গোপনে তিনটি পদে আফরোজা খনম (আইসিটি), সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম (জীব বিজ্ঞান) ও শাহাদত হোসেন (সহকারী গন্থাগার) সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে গোপনে নিয়োগ প্রদান করেন। কিন্তু এই তিনজন শিক্ষক গত ৭ বছরে এক দিনও কোনো প্রকার ক্লাস নেননি। এমনকি বিদ্যালয়ে কোনোদিন উপস্থিত থাকেননি। গত কয়েক দিন হলো এই তিন শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে দেখে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষককে বললে প্রধান শিক্ষক বলেন তারা নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক।

ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস, এম আব্দুস সাত্তার আজাদের অনিয়ম দুর্নীতি ও জাল স্বাক্ষরে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য করেছে বলে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় এমন দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। সেই সাথে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনজন শিক্ষকর নিয়োগ বাতিল না করলে বড় ধরনের আন্দোলনে যাবেন বলেও এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক জানান, যে তিনজন শিক্ষক নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তারা বিগত ৭ বছরে কোনোদিন বিদ্যালয়ে পাঠদান করাননি। এমনকি বিদ্যালয়ে কোনোদিন তাদের দেখাও যায়নি। গত ২২ জুন থেকে তাদের বিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে। এত দিন আগে যদি তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় তা হলে তারা কি কারণে বিদ্যালয়ে আসেনি তা প্রধান শিক্ষক ও ওই তিন শিক্ষকই ভালো জানেন।

ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি যখন ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলাম তখন আমি এই তিন জন শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করি নাই। আমার স্বাক্ষর জাল করে হয়তো নিয়োগ প্রদান করেছেন এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক। আমি এই তিনজন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল ও আমার স্বাক্ষর জাল কারার অপরাধের শাস্তি চাই।

ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস, এম আব্দুস সাত্তার আজাদ বলেন, তিনজন শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ম মেনেই প্রদান করা হয়েছে। কারোর স্বাক্ষর জাল করা হয়নি। তিনজন শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ক্লাস নিচ্ছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম শামসুল হক বলেছেন, ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আফরোজা খনমের নিয়োগ বিষয়ে আমাদের কাছে জাল স্বাক্ষরে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। আইসিটি শিক্ষক আফরোজা খনমের জন্য এমপিও আবেদন করেছিল তা আমরা বাতিল করেছি। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম (জীব বিজ্ঞান) ও শাহাদত হোসেন (সহকারী গন্থাগার) এর জন্য এমপওি’র আবেদন করেননি। তদন্ত করে সব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল হোসেন বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত যে বিষয়ে অভিযোগ উঠছে তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তাদের পাঠদানে অনুমতি দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে তাদের পাঠদান বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়োগ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড