• সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্কুলের অর্থ নিজের পকেটে পুরেন প্রধান শিক্ষক, বিস্তর অভিযোগ এলাকাবাসীর

  সাইফুল ইসলাম, ধামইরহাট (নওগাঁ)

২৭ জুলাই ২০২২, ২৩:১৪
স্কুলের অর্থ নিজের পকেটে পুরেন প্রধান শিক্ষক, বিস্তর অভিযোগ এলাকাবাসীর
ধামইরহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় (ফাইল ছবি)

নওগাঁর ধামইরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের অর্থ দিয়ে গ্যাসের চুলাক্রয়, মোটর পাম্প পানির ট্যাঙ্কি চুরি করে বিক্রি, অর্থ আত্মসাৎসহ শত অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক আরশেদা খাতুনের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পদ বিক্রি করায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ, এলাকাবাসী ও অভিভাবক ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাহারুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার ৬৫নং রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরশেদা খাতুন বিদ্যালয়কে নিজের বাড়ীর মতো ব্যবহার করেন। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ, বিদ্যালয়ের জমি দাতা বর্তমান সভাপতির বাবাকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য পেশ করেন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরামর্শ ও মতামত না নিয়ে বিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে যেনতেনভাবে কাজ করে সম্পূর্ণ টাকা খরচের হিসাব দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ের পানির ট্যাঙ্কি এবং পানির পাম্প (মোটর) সবার অজান্তে চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন। উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার উপযোগী অনেক দরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের না দেওয়ায় অভিভাবকবৃন্দ প্রধান শিক্ষকের উপর ক্ষিপ্ত। প্রধান শিক্ষক আরশেদা খাতুন নিয়মিত স্কুলে না যাওয়ায় এবং সরকারি বিভিন্ন কাজকর্মের অজুহাত দেখিয়ে অফিস ফাঁকি দেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় তার কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই, সব সময় থাকেন উদাসীন।

মাসিক মিটিংয়ের কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করেন না তিনি। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য সিলিপের টাকা নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই খরচ করেন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত থাকলেও নিজের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে ঢাকতে গত ২২ জুন তারিখে কমিটির মেয়াদ শেষ বলে ঘোষণা করেন। এমন বিস্তর অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, সকল অভিভাবক ও কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং এলাকাবাসী এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও উত্তেজিত, অভিভাবক ও এলাকাবাসী তার অপসারণসহ বিভাগীয় শাস্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর করেছেন এবং জেলা প্রশাসক, দুদক, এনএসআই, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ও শিক্ষা অফিসারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন কমিটির সভাপতি। খুবই শীঘ্রই গ্রামবাসী মানববন্ধনও করবেন বলে জানান অভিযোগকারী।

২০২১-২২ অর্থ বছরে সিলিপের ২২ হাজার টাকা আত্মসাৎ, বিজয় ফুল উৎসব, আন্তঃক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও এমনকি জাতীয় শোক দিবসের নামে নাম মাত্র খরচ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার ভাউচার প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের টাকা দিয়ে গ্যাসের চুলা ক্রয় করে নিজের কাজে ব্যবহার করে থাকেন। বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার বিজয় দিবসে উপস্থিত হলে তাদের বসতে না দিয়ে অসম্মান করেন। সিলিপের টাকা দিয়ে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পোশাক বানানোর সিদ্ধান্ত হলেও তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক আরশেদা খাতুন চাঁদাও নিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আরশেদা খাতুন বলেন, সিলিপের টাকা দিয়ে স্কুল ড্রেস দিতে গেলে সবাই গরিব সাজবে তাই ড্রেস কিনে দেইনি, আর সভাপতি আমার বিরুদ্ধে যে সব অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন আসলে তা নয়, সকলের সাথে আমার সু-সম্পর্ক আছে।

প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও ধামইরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান আজাহার আলী মণ্ডল বলেন, আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড