• শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইতালির যুবক বিয়ে করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রত্নাকে

  মাজেদুল ইসলাম হৃদয়, ঠাকুরগাঁও :

২৬ জুলাই ২০২২, ১৯:২২
ইতালি

প্রেমের টানে নিজ দেশ ইতালি থেকে এসে আলী সান্দ্রে চিয়ারোমিন্তে (৩৯) নামে এক যুবক বিয়ে করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর রত্না রানী নামে এক তরুণীকে।

উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের খোকোপাড়া গ্রামের দিনমজুর মারকুস দাসের মেয়ে রত্না রানী দাস (১৯)। গতকাল সোমবার (২৫ জুলাই) রাতে মারফুজ দাসের নিজ বাড়িতে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হোন তারা৷

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তরুণীর চাচা জসেফ পরিবার নিয়ে ইতালিতে থাকেন। তিনি ইতালির ওই যুবকের অফিসে চাকুরী করেন। একসময় ইতালির যুবক বিয়ে করতে চাইলে তার ভাতিজি রত্না রানী দাস এর ছবি দেখালে যুবক রত্না রানীকে পছন্দ করে। পরে যুবক ও তরুনীর মধ্যে প্রায় ৮ মাস ইমুতে কথোপকথন হয়। এরপর গতকাল সকালে ইতালি থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে আসেন। পরে ওইদিন রাতে পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

প্রতিবেশী জতিন চন্দ্র বলেন, অন্য সকল বিয়ের চেয়ে এটি একটি ভিন্ন বিয়ে। কারণ বিদেশী ছেলে আর দেশি মেয়ের বিয়ে। অনেক আনন্দ ও উল্লাস করেছি সকলেই। আশেপাশের অনেকে ছুটে আসছে বিদেশী জামাইকে দেখতে।

রত্না রানীর বাবা মারকুস দাস বলেন,আমার এক ভাই ইতালি থাকেন। তার মাধ্যমেই জামাইয়ের সাথে আমার মেয়ের পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার পর মোবাইলের মাধ্যমে তাদের কথা হয়। তারপরে জামাই গতকালকে আমাদের বাসায় আসেন। সকল আইন মেনে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছি।

রত্না রানীর মা জানগি দাস বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। জামাই অনেক ভাল ও শান্ত স্বভাবের। আমার মেয়েকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার পরে আমরাও যাব।

রত্না রানী বলেন, আমার চাচা ইতালিতে থাকেন। সে আমার পরিচয় করিয়ে দেয় জামাইয়ের সাথে। পরে পরিবারের সকলেই পছন্দ হয়। আমার পরিবার রাজি থাকায় প্রায় আট মাস ইমুতে কথা বলি। আমার চাচা আমাকে কিছু ভাষা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো দিয়ে তার সাথে আমি কথা বলি। তারপরে গতকাল আমাদের বিয়ে হয়। জামাই হিসেবে তিনি অনেক ভালো মনের মানুষ। তিনি সবকিছু মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। তার সাথে আমি আমার চাচা যে ভাষায় কথা বলা শিখিয়েছেন সেভাবে বলছি। ভাষাগুলো শিখতে আরও সময় লাগবে। আমি চেষ্টা করছি। কিছুদিনের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আমাকে ইতালিতে নিয়ে যাবেন।

চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার রায় বলেন, আমি নিজেও বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ভিসা সংক্রান্ত কাজ শেষ করে ছেলেটি মেয়েটিকে ইতালি নিয়ে যাবেন। এতে করে দারিদ্র্যতাও ঘুচবে বলে আমার মনে হয়। মেয়ের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আনাম বলেন, ইতালিয়ান নাগরিক বালিয়াডাঙ্গীতে এসে বিয়ের ঘটনাটি শুনেছি। তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড