• সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কারাবিধি অমান্য করে হাজতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ

  মনিরুজ্জামান, নরসিংদী

২৫ জুলাই ২০২২, ০৩:৪৮
কারাবিধি অমান্য করে হাজতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ
মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে (ছবি ; অধিকার)

নরসিংদীতে কারাবিধি অমান্য করে রাতের আঁধারে জেলা কারাগারে লিজন মোল্লা (৩০) নামে এক হাজতির উপর অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারোটায় নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে নির্যাতিত হাজতির স্বজন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে লিজনের মা সাজেদা বেগম বলেন, একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় গত ১২ জুন আমার ছেলে লিজন মোল্লাকে বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ। এরপর ১৩ জুন আদালতের নির্দেশে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে ১৮ জুলাই জেল হাজত থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত থেকে পুনরায় জেল হাজতে ফিরে গেলে রাতে কারারক্ষীরা মোবাইল ফোন খোঁজার নামে তার দেহসহ বিছানার আশপাশ তল্লাশি করে চলে যায়। পরবর্তীকালে রাত গভীর হলে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন জেল সুপার শফিউল আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন কারারক্ষী কারাবিধি অমান্য করে মুখে কালো কাপড় বেধে লিজনের কাছে যায় এবং তার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে মুখে কাপড় বেধে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এ সময় তার পুরুষাঙ্গে বারবার তারকাটা দিয়ে ফুটো করে তার পুরুষাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ফলে তার বাম পা ও কোমরের একটি হাড় ভেঙ্গে যায়। পরদিন সকালে দ্বিতীয় দফায় তাকে আবার পিটানো হলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক কয়েদির মাধ্যমে জেলখানায় লিজনকে পিটানোর খবর পেয়ে তাকে দেখতে জেলগেটে ছুটে যাই। সেখানে গেলে লিজনের সাথে দেখা করতে জেলা প্রশাসকের নিষেধ আছে বলে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় কারাগারে থাকা অন্য এক হাজতির সাথে দেখা করে জানতে পারি ১৮ জুলাই লিজনের ফেসবুক আইডি থেকে তার কয়েকটি ছবি পোস্ট হয়। এতে করে কারাগারে লিজন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে সন্দেহ করে তাকে এভাবে পিটানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ছেলের জন্য বিভিন্ন মহলে ছুটাছুটি করে অবশেষে ২০ জুলাই নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেই। অভিযোগের ভিত্তিতে নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতির নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রথমে আমাদের বাড়ীতে গিয়ে আমাদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে। পরে নরসিংদী জেলা কারাগারে এসে জেল সুপারের স্বাক্ষাত চায়। এ দিকে কারা কর্তৃপক্ষের বেধড়ক পিটুনিতে লিজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থা বাহিরে জানাজানি হলে জেল সুপারের সমস্যা হতে পারে বিধায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রতিনিধি দল জেল গেটে যাওয়ার পূর্বেই তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

লিজনের মা সাজেদা বেগম বলেছেন, জেল সুপার বাদী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের প্ররোচনায় আমার ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য রাতের আধারে কারাবিধি অমান্য করে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। আজ আমার ছেলের জীবন সংকটাপন্ন। আমার ছেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কাশিমপুর কারাগারে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ অবস্থায় তার সুচিকিৎসার জন্য আদালতের কাছে জোড় দাবি জানানোসহ তার উপর অমানুষিক নির্যাতনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

লিজনের স্ত্রী রুনা বেগম জেল সুপার শফিউল আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কার নির্দেশে, কত টাকার বিনিময়ে আপনি আমার স্বামীর পা ও কোমরের হাড় ভেঙে ফেলাসহ তার যৌনাঙ্গ তারকাটা দিয়ে ছিদ্র করে ক্ষতবিক্ষত করেছেন?

এ সময় তিনি তার স্বামীর সুচিকিৎসাসহ জেল সুপার শফিউল আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য ডিআইজি প্রিজন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এরপর মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- লিজনের ছোটভাই লিমন ও এলাকাবাসীর পক্ষে কাজী ইসমাইল খলিল সোহাগ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড