• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ডিভোর্সের ১০ মাস পরও রেহাই পাননি রুমা

মিলছে না আইনি সহায়তাও

  মো. শাকিল শেখ, আশুলিয়া (ঢাকা)

২৫ জুলাই ২০২২, ০০:৪২
ডিভোর্সের ১০ মাস পরও রেহাই পাননি রুমা
হামলায় আহত রুমা আক্তার (ছবি : অধিকার)

ঢাকার আশুলিয়ায় পাষণ্ড সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন রুমা আক্তার (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক। এ ঘটনায় থানা পুলিশে গিয়ে কোনো আইনি সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের।

রবিবার (২৩ জুলাই) বিকালে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রুমা আক্তার। এর আগে গেল শনিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়া ইউনিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত রুমা আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার কুমুরিয়া গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দীনের ছোট মেয়ে। দুই ছেলেসহ সে আশুলিয়ার ইউনিক এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। অন্য দিকে সাবেক স্বামী সিরাজ আলী ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার তেঘুরী গ্রামের আব্দুর গফুরের ছেলে।

ভুক্তভোগী পোশাক শ্রমিক রুমা আক্তারের অভিযোগ, ১৫ বছর আগে সাবেক স্বামী সিরাজ আলী সাথে গ্রামের বাড়ীতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের লগ্ন থেকে শুরু ৩ বছর ধরে গ্রামের বাড়িতেই অভাব আর অনাটনে চলছিল তাদের সংসার। এর ফলে স্বামীর সাথে পাড়ি জমাতে হয় ব্যস্ত শহর ঢাকাতে। সেখানে এসে কখনো মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করতে হয় আবার কখনো গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসার চালাতেন রুমা আক্তার। অভাব আর অনাটনের কষাঘাতের মধ্যেও তাকে সইতে হয় সাবেক এই স্বামীর শারীরিক ও মানুষিক অত্যাচার। এরই মধ্যে দুই ছেলে সন্তানের মা হন তিনি। কিন্তু নেশাগ্রস্থ স্বামী সন্তান হওয়ার পরও বিভিন্ন নেশার সাথে জড়িয়ে পড়েন। কখনো গাঁজা আবার কখনো মদসহ ইয়াবা সেবন করতেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেষে কোনো উপায় না পেয়ে গত ১০ মাস আগে সিরাজ আলীকে ডিভোর্স দেই। এরপর সিরাজ আমাকেসহ আমার দুই ছেলেকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। এরই জেরে গত শনিবার আমাকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে আমার ঘাড়ে পোঁচ দেয়। পরে আমার আর্ত-চিৎকারে সে পালিয়ে যায়। এরপর লোকজনের সহায়তায় আমাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে আমার বাড়িওয়ালা সাভার গণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘাড়ে ক্ষত বেশি হওয়ায় ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এরপরে আজ সকালে মামলা করার জন্য থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ বলেছে- ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজ সারাদিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত করতে আসেনি। তাই আমি প্রশাসন মহলের সু-দৃষ্টি কামনা করছি; যাতে করে পুলিশ যেন আমার মামলা দায়ের করে তাকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন।

ভুক্তভোগীর মা মিছিরন বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে দশ মাস হইছে তার স্বামীকে তালাক দিয়েছে। তারপরও সে রাস্তাঘাটে আমার মেয়েকে মারধর করে। আমি গুলশানে বাসাবাড়িতে কাজ করে খাই। আমাকে ফোন দিয়ে একজন বলে যে আমার মেয়েকে ছুরি দিয়ে ঘাড় কেটে ফেলেছে। এখানে এসে দেখি আমার মেয়ের ঘাড়ে ২০টা সেলাই দেওয়া হয়েছে। সে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আমি কি বিচার পাবো না। এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে শ্রমিক নেতা তুহিন আহাম্মেদ বলেন, সমাজে যখন বারবার বলা হচ্ছে নারীরা নির্যাতিত। এখানে যারা গার্মেন্টসে চাকরি করতে আসে তারা কোনো না কোনোভাবেই তারা স্বামীর কাছে নির্যাতিত অথবা গার্মেন্টসের ম্যানেজমেন্টের কাছে নির্যাতিত। যার কারণে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দরকার এবং যারা সমাজের মান্যবর্গ ব্যক্তি তাদেরও এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দরকার। এই যে পুরুষ শাসিত সমাজ সেই সমাজের যে। অবস্থা এই মেয়েটাকেই দেখলেই বুঝা যায়। স্বামী কিভাবে এই মেয়েটাকে নির্যাতন করেছে যার সুস্পষ্ট হত্যা করার মতো অবস্থা। তাই আমাদের এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, এ রকম ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং ডিউটি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড