• শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সড়কের পাশের সরকারি গাছ কাটলেন ইউপি চেয়ারম্যান

  শা‌কিল মুরাদ, শেরপুর

২২ জুলাই ২০২২, ০০:৩১
সড়কের পাশের সরকারি গাছ কাটলেন ইউপি চেয়ারম্যান
উদ্ধারকৃত কাটা গাছ (ছবি : অধিকার)

শেরপুর সদরের লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আ. হাইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তার দুই ধা‌রে থাকা সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রায় ১৫‌টি কর্তনকৃত গাছ জব্দ করেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার দি‌কে চেয়ারম্যান ওই গাছগু‌লো কাটান নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদরের কুসুমহা‌টি থেকে ইলশা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছরের পুরনো রাস্তার দুই ধারের গাছগুলো সৌন্দর্য বর্ধন করে ছায়া দিয়ে আসছে। এই পথে চলাচল করে হাজারো মানুষ। তা‌দের মাথার উপরের রোদের গ্রাস থেকে রক্ষা করত এই গাছগুলো। শুধু তাই নয়, গাছগুলো থাকার ফলে রাস্তার দুই ধারের মাটি ভেঙ্গে যেত না। কিন্তু বুধবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় কোনো ‌নিয়ম শৃঙ্খলা ও আইনকানুন না মেনে চেয়ারম্যান আ. হাই এসব গাছ কাটার নির্দেশ দেন। প‌রে চেয়ারম্যানের লোকজন এসে গাছগু‌লো সরিয়ে নেয়।

স্থানীয় একাধিক লোক বলেন, বুধবার চেয়ারম্যান ও তার সহ‌যো‌গিদের যোগসাজশে রাস্তার ধা‌রে গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। অথচ এই গাছ কাটা দেখার বা রোধ করার কেউ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা বাঁধা দি‌তে গিয়েছিলাম তারা বলেছে যে উপরের মহলের নির্দেশেই গাছগু‌লো কাটা হ‌য়ে‌ছে। প‌রে আমরা চলে এসেছি।

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা আলাল উদ্দিন বলেন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গাছ কাটার ব্যাপারে প্রতি‌রোধ করা হ‌য়ে‌ছে, কিন্তু তারা মা‌নেন‌নি। তারা বলেছেন উপরের নির্দেশেই গাছ কাটা হচ্ছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন বলেন, সরকারি বিধি না মেনে গাছ কর্তন করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তা‌দের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আ. হাই বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বা‌নোয়াট। কে বা কাহারা গাছ কেটেছে তা আমি কিছুই জানি না।

শেরপুর সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রেজ্জাক বলেন, সরকারি যত গাছ আছে তা বিক্রি কর‌তে হলে বন বিভাগের অনাপ‌ত্তিপত্র নি‌তে হবে ও বন বিভাগকর্তৃক মূল্য নির্ধারণ করিয়ে নি‌তে হবে। এসব নিয়ম না মানলে সে‌টি অবৈধ হবে। কিন্তু রাস্তার ধা‌রে গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগের কাছে কেউ অনুমতি বা অনাপ‌ত্তিপত্র নেই। তার মানে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ।

শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মেহনাজ ফের‌দৌস বলেন, রাস্তার ধা‌রে গাছ কাটা শুনার পরপরই কর্তনকৃত গাছগু‌লো জব্দ ক‌রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে রাখা হ‌য়ে‌ছে। এ খবর শুনেই ইউপি চেয়ারম্যান আ. হাই লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড