• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভরা মৌসুমে বৃষ্টির দেখা নেই, বাড়তি সেচ খরচে বিপাকে পঞ্চগড়ের চাষীরা

  এম মোবারক হোসাইন,পঞ্চগড়:

১৮ জুলাই ২০২২, ১৪:১০
চাষী

প্রকৃতিতে এখন চলছে বাংলা দিনপঞ্জির হিসাবে শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ কিন্তু এই ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির দেখা মিলছে না। খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়েও কৃষকের ভোগান্তির শেষ যেন নেই।

শ্রাবণ মাস শুরু হলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে খেতে পানি নেই। এতে করে আমন চাষ নিয়ে চিন্তিত দেশের সর্ব উত্তরের জেলার প্রান্তিক কৃষকেরা। আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শ্রাবণের শেষ পর্যন্ত। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা পাচ্ছেন না কৃষক। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে খেতে সেচ দিতে কৃষকের বাড়তি খরচ হবে। আবার খেতে আগাছা, রোগ ও পোকার আক্রমণ বেড়ে যাবে। এতে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষিবিদ ও আবহাওয়াবিদেরা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২৯ জুন দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১৫৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এরপর থেকেই বৃষ্টি কমতে শুরু করে জেলাজুড়ে। ধীরে ধীরে জেলার বেশির ভাগ আবাদি জমিতে জমে থাকা পানি শুকিয়ে যায়। অনেক কৃষক চেষ্টা করলেও চারা বীজতলাতেই নষ্ট হতে বসেছে। তবে কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়তি খরচ করে শ্যালো যন্ত্রের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপণ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, এবার জেলায় ১ লাখ ১০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৭ শতাংশ আমন চারা রোপণ করতে পেরেছেন চাষিরা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যেবক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, এবার চলতি বছরের (২০২২) ১ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৮.৩ মিলিমিটার। অথচ এর আগে গত বছরের (২০২১) ১ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ৫৭৬. ৮ মিলিমিটার।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি না থাকায় বেশির ভাগ জামিই অনাবাদি হিসেবে পড়ে আছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকদের আ্যমন বীজতলাগুলো প্রখর রোদে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। এসব বীজতলার চারা রোপণ করলে পর্যাপ্ত হল না-ও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

সদর উপজেলার ডুডুমারী এলাকার কৃষক গোলাম মোরশেদ বলেন, '১৮-১৯ দিন আগে যখন জমিতে পানি ছিল, তখন মাত্র দেড় বিঘা জমিতে আমনের চারা লাগিয়েছি। এই খেতগুলোই এখন রোদে পুড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির অভাবে অন্য জমিগুলো চাষও করতে পারছেন না আর নতুন চারাও রোপণ করতে পারেননি। এদিকে বীজতলায় চারার ব্যাস বেশি হয়ে যাওয়ায় সেগুলোও এখন নষ্টের পথে। এভাবে চলতে থাকলে আমনের চারারও সংকট দেখা দেবে।'

তেঁতুলিয়া সদর উপজেলার চাষী রুস্তম আলী বলেন, এবছর ১ একর জমিতে আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করেছি। কিন্তু এখন বৃষ্টি না হওয়ায় শুকিয়ে গেছে আমনখেত। খেত বাঁচাতে সেচ দিয়ে জমিতে আমন ধান রোপন করছি।

তিনি আরও বলেন, এবার আমন ধান চাষে খরচ বেশি হচ্ছে । তবে সামনে মাসগুলোয় সার ও আমন ধানের চারার পরিচর্যারও খরচ রয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যেবক্ষণাগারের জৈষ্ঠ্য পর্যেবক্ষক (সিনিয়র অবজারভার) জীতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তেঁতুলিয়ায় সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ২০ জুলাইয়ের পর থেকে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমন চাষ কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড