• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হালদায় ডলফিনের অপমৃত্যুতে উদ্বিগ্ন গবেষকরা, ৫ বছরে মৃত্যু ৩৬ 

  আবিদ মাহমুদ, রাউজান (চট্টগ্রাম):

১৭ জুলাই ২০২২, ২৩:১২
ডলফিন

উপমহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে গত পাঁচ বছর ধরে মরে ভেসে উঠছে গাঙ্গেয় ডলফিন। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা অতিবিপন্ন প্রজাতির মিঠাপানির গাঙ্গেয় ডলফিনগুলোর মৃত্যুতে যেন নিরব কাঁন্নায় ভেঙে পড়ছে হালদা। এ পর্যন্ত ৩৬টি গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে।

এত ডলফিনের অপমৃতুতে উদ্বিগ্ন নদী গবেষক ও ডিম সংগ্রহকারীরা। স্বাভাবিক মৃত্যু, আঘাতজনিত, চর্বি চুরির জন্য হত্যা জালে আটকসহ চার কারণে ডলফিনের মৃত্যু হয় বলে দাবি হালদা বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে সর্বশেষ রাউজান পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গহিরা এলাকার হালদাসংযুক্ত খালে মৃত ডলফিন ভেসে উঠার খবর পেয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাঙ্গেয় ডলফিনটি উদ্ধার করেনি। জানার চেষ্টা করেনি কি কারণে মরেছিল বিশাল আকৃতির মিঠাপানির এ ডলফিন। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার হালদা সংযুক্ত বুড়িসর্তা খালে মৃত ডলফিন ভেসে উঠে। স্থানীয়রা খাল পারে এনে রাখার কয়েকঘন্টা পরও সংশ্লিষ্ট কেউ সেখানে যাননি। পরে ভাটার পানিতে ভেসে চলে যায়। নদীর জীব-বৈচিত্র্য, মা মাছ তথা ডলফিন রক্ষায় কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় উদ্বিগ্ন নদী গবেষক ও ডিম সংগ্রহকারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্বের বিভিন্ন নদীতে অতিবিপন্ন প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১ হাজার ১০০টি। এর মধ্যে শুধু হালদাতেই ছিল ১৭০টি। ২০১৭ সাল থেকে গত ৫ বছরে ৩৬টি ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে চলতি বছরে মরে ভেসে উঠে ৪টি ডলফিন। সর্বশেষ রাউজান পৌর এলাকায় দেখতে পাওয়া মৃত ডলফিনটি কি কারণে মারা গেছে তা ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মৃত ডলফিনের মুখে কোরবানী পশুর বর্জ্য (গরুর নাড়ী-ভূড়ি) আটকানো ছিল। তাদের ধারণা পশুর বর্জ্য খেতে গিয়ে মুখে আটকে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে।

ডলফিনটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি, দৈর্ঘ্য ১০ ফুটের বেশি। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলফিন মারা যাওয়ার পর পাকস্থলী ফুলে গ্যাস হয়ে মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়, এটির ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। ডলফিনটির উচ্চতা প্রায় ৮.৫- ৯ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ওজন প্রায় ১২০ কেজি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিম সংগ্রহকারী বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৩৬টি ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে, আমার চোখে পড়েনি বনবিভাগের দায়িত্বশীল কেউ একটিও উদ্ধার করতে। কারণ প্রতিটি মৃত ডলফিনের পেছনে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এ খরচ বহনের ভয়ে মৃত ডলফিন উদ্ধারে তারা (বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের) এগিয়ে আসে না।’

এ প্রসঙ্গে বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রাম জেলার ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার পর খবর পেয়েছি একটি মৃত ডলফিন ভেসে উঠেছে, তখন উদ্ধার করা সম্ভব নয়। আজ (গতকাল শুক্রবার) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সন্ধান চালিয়ে উদ্ধার করতে পারিনি, ভাটায় চলে গেছে। এই বিষয়ে ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দিয়ে রাখব।

খরচের ভয়ে বনবিভাগ মৃত ডলফিন উদ্ধার করেনা ডিম সংগ্রহকারীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি গত ২ বছর আগে যোগদান করেছি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কোন ফান্ড নেই, তারপরও আমি ম্যানেজ করে ৮-৯টা মাটি চাপা দিয়েছি। গবেষণার জন্য বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে ছোট আকৃতির সদ্যমৃত ২-৩টি হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া নিয়ে গেছেন। যেহেতু উনার গবেষণার জন্য নিয়ে গেছেন, খরচ উনিই দিবে।

তিনি আরও বলেন, মৃত ডলফিন নদীতে থাকলে নদীর পরিবেশের জন্য ক্ষতি, দুর্গন্ধও ছড়ায়। সেক্ষেত্রে মাটি চাপা দেওয়াই ভালো। সেজন্য আমরা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

এই প্রসঙ্গে হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ৩৬টির মধ্যে ৩টি ছাড়া সবগুলো আমার ব্যয়ে উদ্ধার করেছি। প্রতিটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে আনা পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা খরচ, মাটি চাপা দিতে ২ হাজার টাকা।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড