• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের মানবেতর জীবন-যাপন 

  মনিরুজ্জামান, নরসিংদী:

০১ জুলাই ২০২২, ১৩:০৯
শিবপুর

নরসিংদীতে অর্থাভাবে গৃহ সংস্কার করতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক। বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

টিন দিয়ে কোন রকম একটি দোচালা দাঁড় করালেও অর্থের অভাবে বাকি কাজ না করতে পেরে বর্তমানে তিনি পার্শ্ববর্তী সুজাতপুর গ্রামের মাওলানা কবিরের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সামসুল হকের ভারতীয় তালিকা নং-৩৭৭৯, লাল মুক্তিবার্তা নং-১০৫০২০০০৫, গেজেট নং-১৮০৭।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সামসুল হকের প্রথম স্ত্রী প্রায় ২০ বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন। ১ম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ২য় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

দীর্ঘদিন শশুর বাড়িতে থাকার ফলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বোঝা ভেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য শুরু করে। তাছাড়া কোন সামাজিক অনুষ্ঠান অথবা মসজিদ মাদ্রাসায় গেলে শ্বশুর এলাকার লোকজন ঘর জামাই বলে অপবাদ দেয়। এতে করে শেষ বয়সে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাবেন এ চিন্তায় তিনি ভেঙ্গে পড়েন। অবশেষে স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে ১ বছর পূর্বে শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা নিজ গ্রামে পরিবারের সকল সদস্যদেরকে নিয়ে চলে আসেন।

পরে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পার্শবর্তী সুজাতপুর গ্রামে ৫.৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।

বর্তমানে তিনি সরকারি সম্মানী ভাতা হিসেবে যে টাকা পান তার সিংহভাগ চলে যায় ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করতে। বাকি যে পরিমাণ টাকা থাকে তা দিয়ে ঘর মেরামত তো দূরের কথা স্ত্রী,১ ছেলে,১ মেয়ে ও তার নিজের ভরণ পোষণ ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগানো দায় হয়ে পড়েছে।

তার এ দুরবস্থার কথা শুনে প্রতিবেশী সুজাতপুর গ্রামের মাওলানা আবদুল কবির তার পতিত বাড়িতে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন। বর্তমানে তিনি স্ত্রী, ১ কন্যা ও ১ ছেলে নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সামসুল হক বলেন, প্রতি মাসে সরকার আমাকে ২০ হাজার টাকা সম্মানী দেয়। এই টাকা থেকে ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করা ছাড়াও প্রতি মাসে মেয়েকে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার জন্য দুই হাজার টাকা, ছেলের লেখাপড়া করার জন্য মাসে ১হাজার টাকা, আমাদের দুজনের চিকিৎসা বাবদ ২ হাজার টাকা খরচের পর বাকি টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।

এসময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন'আমি আর কতদিন জীবিত থাকবো। আমি নরসিংদী জেলা প্রশাসক, শিবপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের নিকট বার বার আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি।' জয়নগর ইউনিয়নের ঘরের তালিকায় ১২জন মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকলেও আমার মতো গৃহহীন, অসচ্ছল, অসহায় মুক্তিযোদ্ধার নাম নাই! আমি অন্যের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পরগাছার মতো জীবনযাপন করি তবুও আমার জন্য তাদের দয়া হয় না! মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক'র স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, আমার স্বামী সোনালী ব্যাংক শিবপুর উপজেলা শাখা থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে জমি ক্রয় করেন।

ঋণ বাবদ প্রতি মাসে ৮হাজার ৮শত টাকা ব্যাংকে কেটে রেখে দেয়। ছেলে মেয়ের পড়ালেখা ও আমাদের চিকিৎসা খরচ করে বাকী ৬ হাজার টাকা দিয়ে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে পুরো মাস অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান নাদিম সরকার বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের ঘর নির্মাণের ব্যাপারে আমি উপজেলা প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি।

শিবপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও বীর নিবাসের যাচাই-বাচাই কমিটি ও ট্যাগ অফিসার শিকদার মাহমুদ হোসেন বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে এবিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আজিজুর রহমান খান বলেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সামসুল হকের পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার জন্য একটি ঘরের খুব প্রয়োজন।

শিবপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ঘরের আবেদনের বিষয়ে আমি অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন।

শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক ও শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনিয়া জিন্নাত আগামী অর্থ বছরে ঘরের বরাদ্দ আসলে তাকে ঘর দেওয়া হবে বলে জানান।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড