• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গরম পানি ঢেলে ও মাথা ন্যাড়া করে ৬ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

  মো. আফসার খাঁন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

২৪ জুন ২০২২, ১৫:৫৭
গরম পানি ঢেলে ও মাথা ন্যাড়া করে ৬ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গোপনাঙ্গে গরম পানি ঢেলে দেওয়ায় আহত এক ছাত্র (ছবি: অধিকার)

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শাসনের নামে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর গোপনাঙ্গে গরম পানি ঢেলে ঝলসানোসহ ছয়জনকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৯৯-এ ফোনে অনুরোধ জানালেও আহতের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি মাদরাসার শিক্ষক ও পুলিশ।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাতে আহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজন ওই মাদরাসা ঘেরাও করে। এ সময় আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা তাদের ছেলেদের বাড়িতে নিতে চাইলেও মাদরাসার শিক্ষকরা বাধা দেয়। এতে আরও বেশি হতাশায় পড়েন শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা।

আহতরা হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (১৫) ও শ্রীফলতলী এলাকার মহর আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (১৪)।

বিক্ষুব্ধ জনতা, আহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার শ্রীফলতলী এলাকায় জামিয়া আরাবিয়া রহিম নেওয়াজ খাঁন মাদরাসায় গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাতে সানোয়ার ও রাকিবুলের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ তুলে তাদের মাদরাসার খাবারের কক্ষে ডেকে আনেন মাদরাসার কোষাধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত শিক্ষক মো. মিয়ার মনির হোসেন।

পরে তাদের দুনজনকে এলোপাথারি বেত্রাঘাত করতে থাকেন ওই শিক্ষক। এক পর্যায়ে তিনি খাবারের কক্ষে থাকা গরম পানি তাদের গোপনাঙ্গে ঢেলে দেয়। এতে ওই দুই ছাত্রের গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসে ঠোসা পড়ে যায়। পরে তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

এছাড়াও মাদরাসা ছাত্র সাফুয়ান, রিসান, তাহমিন, মেহেদী নামে আরও চারজনের মাথা ন্যাড়াসহ নানাভাবে নির্যাতন চালান ওই শিক্ষক। এসব বিষয় অন্য ছাত্ররা তাদের পরিবারকে জানাতে চাইলে তাদেরও গমম পানি ও বৈদ্যুতিক শর্ট দেয়াসহ নানা ধরণের হুমকি দেন ওই শিক্ষক। ঘটনাটি আড়াল করতে তারা চিকিৎসা না দিয়ে মাদরাসার ভিতরেই আটকিয়ে রাখেন অসুস্থদের।

ঘটনার তিন দিন পর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন ওই মাদরাসার সামনে অবস্থান করে। কিন্তু মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের ভিতরে ঢুকতে এবং আহতের সাথে দেখা করতে দেয়নি। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা রাত ১১টা পর্যন্ত ওই মাদরাসা ঘেরাও করে রাখলেও সংশ্লিষ্টদের টনক নড়েনি।

এ সময় আহত এক ছাত্রের অভিভাবক কৌশলে ৯৯৯-এ ফোন দিলে সেখান থেকে থানার ডিউটি অফিসারের নাম্বার দেওয়া হয়। কিন্তু থানায় ফোন দিয়ে ৯৯৯-এ ফোন ও ঘটনাটি জানালেও ডিউটি অফিসার রাহাদুজ্জামান আকন্দ গুরুত্ব না দিয়ে থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলেন। পরে ওই অভিভাবক পুনরায় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে থানার ওই কর্মকর্তার অনীহার বিষয়টি অবগত করে।

এ সময় ৯৯৯-এ কর্তৃপক্ষ ওই অভিভাবককে লাইনে রেখে ওসি অপারেশন ও ডিউটি অফিসারকে কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে মোবাইল ডিউটিতে থাকা এসআই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করলেও থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে বলে চলে যান। কিন্তু আহতদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করেনি ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা। এ সময় আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা তাদের ছেলেদের বাড়িতে নিতে চাইলেও মাদরাসার শিক্ষকরা বাধা দেয়। এতে আরো বেশি হতাশায় পড়েন শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা। ওই ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের থানায় অভিযাগ দিতেও দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মাদরাসা ছাত্র সানোয়ার হোসেনের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, আমার ভাই যদি কোনো অপরাধ করে তবে অভিভাবকদের ডেকে তা জানাতে পারতো। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার ছোট ভাইয়ের গোপনাঙ্গসহ উরুতে গরম পানি ঢেলে দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। এতে তার অনেক ঠোসা পড়েছে।

সুলতানা বেগম নামে অপর এক অভিভাবক বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে আমার ছেলে মেহেদীর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে।

জরিনা বেগম নামে আরেক অভিভাবক বলেন, খবর পেয়ে ছুটে আসলেও আহতদের দেখতেও দেয়নি। আমাদের ছেলেদের বাড়িতে নিতে চাইলেও তারা নিতে দিচ্ছেন না। তবে পুলিশের এমন ভূমিকায় পরিবারের সদস্যরা আরও হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদরাসার কোষাধ্যক্ষ মো. মিয়ার মনির হোসেন জানান, তিন মাস আগে ওই দুই ছাত্র অকাম করেছে। এ ঘটনা শুনে শাসন করার জন্য হালকা গরম পানি দিয়েছি মাত্র। তবে তাদের শরীরে সামান্য ঠোসা পড়লেও মারাত্বক কোনো কিছু হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার পুলিশ পরিদর্শন (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দূত ঘটনাস্থলে যায়। পরে মাদরাসার ভিতরে প্রবেশ করি ও পরিবেশ শান্ত করি। গুরুতর আহত ছাত্রের চিকিৎসার ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ ও পরিবার নিবে। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তরুণীকে ধর্ষণ

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খাঁন জানান, ছাত্রদের পরিবারকে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.odhi[email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড