• শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জোয়ারের পানিতে ১০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

  খলিল উদ্দিন ফরিদ, (ভোলা)

২৩ জুন ২০২২, ১৩:৪৬
জোয়ারের পানিতে ১০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ
বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া গ্রাম (ছবি : অধিকার)

ভোলার বিচ্ছিন্ন মনপুরায় দুই দিনের টানা বর্ষণ ও পূর্ণীমার প্রভাবে মেঘনার পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। দিনে-রাতে দু’বেলায় জোয়ারে পানিতে বেড়ীবাঁধের বাহিরে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে ১০ গ্রামের নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত আনুমানিক ১০ হাজারের ওপর মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ীবাঁধহীন সদ্য ঘোষিত নতুন ইউনিয়ন কলাতলী ও ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরনিজাম এলাকা। শুক্রবার বিকেলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২-৩ ফুট উচ্চতায় প্লাবিত হয়েছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন কলাতলীর ইউপি সদস্য আবদুর রহমান।

এদিকে প্রবল বর্ষণ ও পূর্ণীমার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ।

শুক্রবার বিকাল ৪টায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, চরজ্ঞান ও সোনারচর গ্রামের বেড়ীবাঁধের বাহিরে নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও ১নং মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড়, কূলাগাজী তালুক, কাউয়ারটেক গ্রামের বেড়ীরবাঁধের বাহিরের অংশ প্লাবিত হয়েছে।

অপরদিকে নতুন বেড়ীবাঁধহীন কলতালী ইউনিয়নের চরকলাতলী ও চরখালেক গ্রাম জোয়ারে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাষ্টারহাটের বেড়ীবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন চরনিজামে জোয়ারে প্লাবিত হয়।

এদিকে প্লাবিত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ রান্না করতে না পারায় অভূক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার জসিম, হাবিব, মাকছুদ, কামাল, রহিমা, ঝুমুর, কুদ্দুসসহ ১নং মনপুরা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আমানত উল্লা আলমগীর। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পায়নি তারা।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলার নির্বাহী অফিসার আল নোমান মুঠোফোনে জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতে প্লাবিত এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে ভোলায় মেঘনার পানি বেড়ে বাঁধের বাইরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ঢালচর, চর পাতিলার রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ন এলাকা।

উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ এবং পূর্নিমার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরের পর থেকে মেঘনার পানি বিপৎসীসার ৩১সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ঢালচরের চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার জানান, জোয়ারে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এদিকে পানি বৃদ্ধির কারনে নদীর তীরবর্তী দ্বীপচর ও উপকূলের বাঁধের বাইরের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে এতে কোথায় কোন ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা।

ওডি/কেএইচআর

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড