• বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাড়ছে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

২১ জুন ২০২২, ২০:১৭
বাড়ছে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ
কুড়িগ্রামে বেশিরভাগ পরিবার বাড়ির ভিতর চৌকি উঁচু করে কষ্ট করেই সেখানে অবস্থান করছে (ছবি: অধিকার)

কুড়িগ্রামে বন্যা যত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে ততই দুর্ভোগ বাড়ছে বানভাসি মানুষের মধ্যে। বেশিরভাগ পরিবার বাড়ির ভিতর চৌকি উঁচু করে কষ্ট করেই সেখানে অবস্থান করছে। কেউ কেউ নৌকায় গবাদিপশু নিয়ে দিনরাত পার করছে, কখন পানি নেমে যাবে। এই পরিস্থিতিতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও লেট্রিন সংকটে ভুগছেন তারা। সমস্যায় পড়েছেন গবাদি পশুর খাবার নিয়ে। চারণভূমিসহ মাঠঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সদর উপজেলার চর পার্বতীপুর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, নিজেরা না হয় কোন রকমে চলবের নাগছি কিন্তু গরু-ছাগল নিয়া খুব বিপদে আছি। খড়ের গাদা পানিতে ভিজি গেইছে। এখন কি দেই আর কি খাওয়াই। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্য মতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১লাখ ৪১ হাজার ৬১২জন মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলায় ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় ৩২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হওয়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বানভাসি মানুষের কথা চিন্তা করে ৩৬১টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানা গেছে। অনেক পানিবন্দী এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউ খোঁজ নিতেও আসেনি বলে বানভাসীরা অভিযোগ তুলেছে।

সদর উপজেলার ভগবতীপুর চরের জোহরা খাতুন বলেন, চুলা জ্বালাতে পারছি না। ঘরেও সবকিছু তলিয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি।

উলিপুর উপজেলার বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে থাকায় নিজেরা তো কষ্টে আছি। এ অবস্থায় গরু ছাগলের খাবারও জোগাড় করতে পারছি না।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, আমার ইউনিয়নে ১৪শ’ পরিবার প্লাবিত হয়েছে পানিবন্দী হয়েছে আরও ৩ হাজার ৫শ’ পরিবার।

ঘোগাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নে ৭৫০টি পরিবার প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৪ হাজার পরিবার।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়েছে ৫ হাজার ৮৪১টি পরিবার। ত্রান পেয়েছে মাত্র ৭শ’ পরিবার।

পাঁছগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, আমার ইউনিয়ন পুরো প্লাবিত হয়ে পরেছে। একটি বাড়ি পাবেন না যেখানে মানুষ শান্তিতে আছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বন্যার পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার ৩টার সময় অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়ায় ২২ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: আউট সোর্সিং ওয়ার্ড মাস্টারের হামলায় আহত সাংবাদিক

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ৯ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩৩৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড