• বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কোরবানির জন্য প্রস্তুত টাইগার, তুফান ও বাহাদুর

  তানভীর লিটন,কুমারখালী-খোকসা (কুষ্টিয়া)

২১ জুন ২০২২, ১৪:৫০
টাইগার- তুফান

আগামী ১০ জুলাই (২০২২) পবিত্র ইদুল আজহা বা কোরবানির ইদ অনুষ্ঠিত হবে। কোরবানির জন্য প্রস্তুত টাইগার ও তুফান। কি চমকে গেলেন? না এটি প্রকৃত অর্থে টাইগার কিংবা তুফান নয়, এটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার খামারি সাইফুল ইসলামের খামারে পালিত দুটি ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়ের নাম।

ছোট থেকেই অদম্য দুরন্ত স্বভাবের ও অধিক শক্তিশালী হওয়ায় খামারি সাইফুল ইসলাম ভালোবেসে এ নাম রাখেন। বর্তমানে তুফানের ওজন ১৮ শ কেজি আর টাইগার ১৬ শ কেজি। তাদের বয়স এখন তিন বছর। এবার কোরবানির ইদে বিক্রির জন্য তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে।

তাদের লালন পালন করা হচ্ছে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলামের খামারে। এবার কোরবানির ইদে টাইগার ও তুফানই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি সাইফুলের।

খামারি সাইফুল ইসলাম বলেন,তিন বছর আগে তার নিজ খামারেই জন্ম হয় টাইগার ও তুফানের। এরপর থেকেই তাদেরকে কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন-পালন করা হচ্ছে। ষাঁড় দুটির নাম টাইগার ও তুফান হওয়ায় অধিক আগ্রহ নিয়ে তাদের দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে ভিড় করছেন। মাঝে মধ্যে ক্রেতারাও আসছেন ষাঁড় দুটি কিনতে। সাইফুল এই ষাঁড় দুটির যৌথভাবে দাম হাঁকছেন ৩২ লাখ টাকা।

বাহরাইন প্রবাসী সাইফুল দীর্ঘ ১১ বছর প্রবাস জীবন শেষে ২০১৯ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরে এসে তার বাবার ছোট্ট খামারটি আধুনিক ডেইরী ফার্ম হিসেবে গড়ে তোলেন। খামারের নাম দেওয়া হয় দিঘী আনিচা ডেইরী ফার্ম। বর্তমানে খামারে ৬ টি ষাঁড় ও ১৮ গাভী রয়েছে। এদের মধ্যে চারটি ষাঁড় এবার কোরবানির ইদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। খামারে গরুর যত্ন নিতে সাইফুলের পাশাপাশি তার স্ত্রীও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছেন।

অন্যদিকে কোরবানিতে বিদেশি জাতের ষাঁড়ের থেকে দেশীয় জাতের ষাঁড় গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় উপজেলার আরেক খামারি স্বরন আহমেদ অনেকটা সখের বসেই বাহাদুর নামের একটি দেশীয় ষাঁড় পালন করে অনেকটা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

স্বরন আহমেদ বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শখ করে বাহাদুরকে লালন পালন করেছি। এবারের ইদে বাহাদুরকে বিক্রি করতে চাই। বিশাল দেহের বাহাদুরের ওজন প্রায় ১২ শ কেজি। স্বরনের দাবী এ বছর উপজেলার দেশি জাতের কোরবানির গরুর মধ্যে তার বাহাদুরই সেরা।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৮ শ টি খামারে প্রায় ২৬ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তন্মধ্যে উপজেলাটিতে ১৩ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে,উদ্বৃত্ত পশুগুলো চলে যাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। গরু মোটা তাজা করণে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রণোদনা দিয়ে খামারিদের সহযোগিতা করছে সরকার।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বছর কুমারখালী উপজেলায় চাহিদার থেকে দিগুণ কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, ভালো দাম পেলে এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটির উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু মোটাতাজা করণ প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান তিনি।

গো-খাদ্যের বৃদ্ধি ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এবার দাম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন খামারিরা। যদি এবার খামারিদের লোকসান হয়,তাহলে কুমারখালীর খামারিরা ষাঁড় গরু পালন থেকে সরে আসবে। তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে আরও সচেষ্ট হওয়ায় আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড